পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে
দীপংকর রায়
উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস
১০৮.
আজ কিছু অতিথি আসার কথা আছে ,
এক অর্থে পর্যটনের একটি বছর
নতুন ঘোরার আর একটি পথ চিহ্নিত করলো ।
সকলেই আসবে ,না কি কেউই আসে না বস্তুত ;
আমরা যার যার ছায়ায় খানিকটা গোল হয়ে শুয়ে নি ?
সে এলেও
সে আসে না
আসে তাঁর ছায়ারা !
আসরেও দাঁড়ায় হয়তো দু এক বার
মুখ ঘুরিয়ে ;
তাও এই নেশাগ্রস্থ
হওয়া ,
পানপাত্র পড়ে থাকে
চারদিক জুড়ে ;
পানপাত্র প্রদক্ষিণ করে যার যার আত্মায় আত্মায় ; -----
করতালির আওয়াজ আসে যেন ; উপস্থিতির ভেতর আরো এক অনুপস্থিতি ঘিরে আছে আমাদেরকে ?
কেন যে কিছুই ছুঁই না
কেন যে শান্তি স্থির চেয়ে থাকতে বলে খালি ;
নোনা জলের খাড়ি পার হয় ঠিক তখনই
পূর্ণিমার চাঁদ.....
অথচ সে কিছুতেই সীমানাও ডিঙাতে পারে না -----
ডাক পাঠাই যদিও জন্ম জন্ম ধরে .....;
সকলেই আসে কি একদিন, সকলেই যাওয়া আসা করে শুধুই ......
আজকের আড্ডায়
নতুন অতিথি কেউ তো আসে নি !
গলা জড়িয়ে নেমে যাচ্ছিল তবুও কিছু নতুন সম্ভাষণ আজ ?
১০৯.
সস্তা খেলায় মজেছে যেন আসর ;
.... বাদ দিন তো,ছাড়েন ওসব ----
'.... লেখা বলতে ওই তো , কাঁটাতারের কান্নাই কেবল ---- বিভোর অপগণ্ডটা ....,
দুঃখ যেন ওরই শুধু দেশ হারানোর ;
দুঃখ, মুড়ি-মশলা ? '
'বেহুদা ---
ওর কিছুই হয় না ..... '
' ওঁর হয় ? '
.....' না , ওঁরও না ....'
.....' তাঁর...?'
..... না , তাঁরও না ..'
' ...... তাঁর.....?
'..... না না তাঁরও না । ওঁর ও না ।সকলেই একটা না এর ভেতর গুম ঘরে বন্দী ? '
' তাহলে হলো কার ?
ওই নাক মোটা , কোল কুঁজো ফোরে টার যত কান্না , দুঃখ - সুখ এই মেলার মাঠে বিকিয়ে গেল .....!
কেউ তোমরা জানো না , জানে না , জানতে চাও ?
না , অহোরাত্র সে যে তোমাদের ভেতরেই বাঁচে ও মরে ......;
১১০.
অনেক ব্যাস্ততা
মানুষ গন্ধের ভেতর ;
কেন যে হুরোহুরি করি
বুঝি না কাঁচা দিনের ,
আবেগী দিনের ঝাঁঝ-
বড়ো নির্বোধ
বড়োই নাদান ;
হয়তো বা শুধুই কাঁটাতারে লটকে গেছে যাবতীয় প্রেম
অপ্রেম ;
সে ফতোয়া তো দিল
আজ যত সব কাটা খাসির পাঁজরা বার
করা মুখের হাসি ;
নাকি লিভার যক্রিতে
জড়ানো চর্বি বার করা
পাঁচ ছ কেজির একখণ্ড দাবনা ?
লাইন ছিল বেশ খানিকটা , দোকানীকে ঘিরে লোলুপ চোখের খিল আঁটা গালে ;
আমার হয়েছে ঘোড়া- রোগ , ঘুরেফিরে
হাত চলে যায় তার প্রফাইলেই -----
এই জন্যেই তো নারীবাদী লেখিকাদের
চক্ষুশূল ;
কী যে করি
মনে হয় কত কথা
তোমাকে জাননো হয়নি আজও
অথচ কথা তো রোজই হয় ;
শেষমেষ কথা হলো , ''তোমার কিন্তু একটু শরীর সচেতন হওয়া উচিত ভাই ----- ''
১১১.
কোথাও বেসুরে বাজছে তৃতীয়ার চাঁদ ;
সেও যে ছদ্মবেশী ও ঘাতক ,
তা কি করে বোঝে আজকের সানাই - ঘোর ;
বড়োই রক্তলোভী
প্রয়োজন
পশুর মতো ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটুকরো মেঘ ; কুয়াশা ঘিরে আছে কোথাও কোণায় কোণায় ।
সেও কি অসহায়ের চোখ হয়
নাকি একটুখানি কৃপাময় ; জাত বেজাত বুঝতে তার
বোয়েই গেছে ---
যাইহোক
ক্ষুধার্ত সিংহ মরা মাংস ছোঁয় না ।
মানুষ শুধু মরা ও জ্যান্ত কিছুই বুঝতে চায় না ---- দুহাতে খায় , যা কিছু তার নাগালে ----
বড়ো বেসুরে বাজছে আজ তৃতীয়ার চাঁদে পৃথিবীর সকল আহ্লাদ ?!
১১২.
শীতরাতের হিমেল হাওয়ায়
গাছের পাতারাও
বিষাদময় গান হয় !
কেন যে আশারোগ যায় না তাও ,
বুকের ভেতর পা আছড়ায় কারো মুখটুকু আগলে ?
কেন যে দাঁড়াতে পারি না খালি গায় ,
রাতের বারান্দায় কুয়াশা মাখামাখি হতে ......;
পথের পায়ের উপর পথ উপুর হয়ে শুয়ে আছে ।
আমিও কি উপুর হয়ে কারো বুকের ভেতর কানতে চেয়েছিলাম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে?
তৃতীয়ার আকাশ জুড়ে তুমিই শুধু একা কানতে শেখ নি ----
সেই আকাশে কত দীর্ঘশ্বাস যে পাঠালাম
তবুও রদ হলো না নক্ষত্রদের এই পেঁচা হয়ে যাওয়া -----
হৃদয়ের কুয়াশায় মাখামাখি ডানার শব্দে বারকয় মৃত্যুর ডাক শুনেও
এই আশারোগে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকি -----
১১৩.
কোন তীর্থে
কে খুঁজে মরছে প্রাণের আনন্দ -----
আমি তো তিমিরতীর্থপথযাত্রী ...
অনেক নালীঘাসে ভরা ছিল দুই হাত ;
গাছে গাছে
অনেক অষ্টমঙ্গলার সুর ---- তেপান্তরের মাঠে
কত ভিজে-সুবাস মাখলাম যে ----- সে সব জানার কথা না তোমার ---- জানে কি ওই দূর নক্ষত্রদের উজ্জ্বল আলোরা
নিভে যেতে যেতে....?
অনেক প্রাণঘাতী বল্লম হাতে নেমেছিল
যারা
খুঁজে নিতে অনেক বর্ষামঙ্গল ;
এসবের কিছুই জানার দরকার নেই ---- জানো না এই দুহাতে কত না ছিঁড়েছিলাম মিথ্যে সীমানার জাল ----
সে সব যদিও ছোঁবার কথা ছিল না
ছিল না চারপাশে নির্ভেজাল জীবনের গল্প খানিক ;----
শিশুহাতে ভেঙে ছিলাম অনেক প্লাস্টিকের খেলনা
তাঁদেরই মতো .....!
কেন যে বিঁধিয়ে নিলাম এত কাঁটাতার ....!
যাক ----- সে সব থাক
এখন যেদিকে চলেছে রথ , তার ডাইনে ও বাঁয়ে সেসব নালীঘাসেদের চিহ্ন মাত্র নেই ;
আছে পাথর আর কাঁকড়ে ভরা খানিকটা অন্য গল্প ---
যা তুমি শতজন্মেও পাবে না কখনো .....?!
১১৪.
চলো নেভা আঁচে
খানিকটা মাংস কষাই ----- চলো কষা মাংসের স্বাদ গন্ধ গিলতে গিলতে
তৃষ্ণার তলদেশ ছুঁয়ে আসি ।
এমন দৃশ্যের চেয়ে মনোরম আর কিছু আছে নাকি ?
নাকি এসব নির্লজ্জের ---- ?
যেটাই হোক ---- হোক না সুগন্ধে
তুমি ও সে ;
সে ও তুমি এই সব কথপকথন চালাচ্ছিলে যে , সেটাই মনে এলো .... ;
তাছাড়া ভাব বিনিময়
সুফল , বিফল
আর আছে যা কিছু নাকি ?
কাঁটা তারে কাঁটা তারে বিদ্ধ আমি , লটকে আছি একটি ফড়িংএর মতো ;
বাদুড় হয়ে দুহাতে ধরে আছি ধরফরানো জীবন খানিকটা !
যাক
সে সব তোমাকে বলার না , তুমি মাইক্রোফোন হাতে ঘুরে ঘুরে বলো শুনি ------ মঞ্চ দাপিয়ে প্রসারিত করো এই বক্ষ ; ----
চলো ক্লোজাপে পাঠাই তোমার ইশারা ;
চলো পেশাদার বাউলের একতারার নছল্লা ধরে দি ----
তুমিই বাজার আমার ;
তুমিই এখন বড়শির টোপ ;
গ্রীবায় খঞ্জনি উঁচিয়ে এসো
আকাশ ছুঁয়ে আসি একবার অন্ততঃ






