Wednesday, August 31, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



১০৮.
আজ কিছু অতিথি আসার কথা আছে ,
এক অর্থে পর্যটনের একটি বছর
নতুন ঘোরার আর একটি পথ চিহ্নিত করলো ।


সকলেই আসবে ,না কি কেউই আসে না বস্তুত ;
আমরা যার যার ছায়ায় খানিকটা গোল হয়ে শুয়ে নি ?


সে এলেও
সে আসে না
আসে তাঁর ছায়ারা !
আসরেও দাঁড়ায় হয়তো দু এক বার
মুখ ঘুরিয়ে ;


তাও এই নেশাগ্রস্থ
হওয়া ,
পানপাত্র পড়ে থাকে
চারদিক জুড়ে ;
পানপাত্র প্রদক্ষিণ করে যার যার আত্মায় আত্মায় ; -----


করতালির আওয়াজ আসে যেন ; উপস্থিতির ভেতর আরো এক অনুপস্থিতি ঘিরে আছে আমাদেরকে ?


কেন যে কিছুই ছুঁই না
কেন যে শান্তি স্থির চেয়ে থাকতে বলে খালি ;
নোনা জলের খাড়ি পার হয় ঠিক তখনই
    পূর্ণিমার চাঁদ..... 


অথচ সে কিছুতেই সীমানাও ডিঙাতে  পারে না  ----- 


ডাক পাঠাই যদিও জন্ম জন্ম ধরে .....;


সকলেই আসে কি একদিন, সকলেই যাওয়া আসা করে শুধুই ......


আজকের আড্ডায় 
নতুন অতিথি কেউ তো আসে নি !


গলা জড়িয়ে নেমে যাচ্ছিল তবুও কিছু নতুন সম্ভাষণ আজ ?





১০৯.
সস্তা খেলায় মজেছে যেন আসর ;

  .... বাদ দিন তো,ছাড়েন ওসব ----

 '.... লেখা বলতে ওই তো , কাঁটাতারের কান্নাই কেবল ---- বিভোর অপগণ্ডটা ....,
দুঃখ যেন ওরই শুধু দেশ হারানোর ;
দুঃখ, মুড়ি-মশলা  ? '

'বেহুদা ---
ওর কিছুই হয় না ..... '

' ওঁর হয় ? '

.....' না , ওঁরও না ....'

.....' তাঁর...?'

   ..... না , তাঁরও না ..'

    ' ...... তাঁর.....?

    '..... না না তাঁরও না । ওঁর ও না ।সকলেই একটা না এর ভেতর গুম ঘরে বন্দী ? '


' তাহলে হলো কার ?
ওই নাক মোটা , কোল কুঁজো ফোরে টার যত কান্না , দুঃখ - সুখ এই মেলার মাঠে বিকিয়ে গেল .....!

 কেউ তোমরা জানো না , জানে না , জানতে চাও ? 
না , অহোরাত্র সে যে তোমাদের ভেতরেই বাঁচে ও মরে ......;




১১০.
অনেক ব্যাস্ততা 
মানুষ গন্ধের ভেতর ;
কেন যে হুরোহুরি করি 
বুঝি না কাঁচা দিনের ,
আবেগী দিনের ঝাঁঝ- 


বড়ো নির্বোধ 
বড়োই নাদান ;
হয়তো বা শুধুই কাঁটাতারে লটকে গেছে যাবতীয় প্রেম 
               অপ্রেম ;


সে ফতোয়া তো দিল 
আজ যত সব কাটা খাসির পাঁজরা বার
       করা মুখের হাসি ;
নাকি লিভার যক্রিতে 
জড়ানো চর্বি বার করা 
পাঁচ ছ কেজির একখণ্ড দাবনা ?


লাইন ছিল বেশ খানিকটা , দোকানীকে ঘিরে লোলুপ চোখের খিল আঁটা গালে ;


আমার হয়েছে ঘোড়া- রোগ , ঘুরেফিরে 
হাত চলে যায় তার প্রফাইলেই -----
এই জন্যেই তো নারীবাদী লেখিকাদের
           ‌    চক্ষুশূল ; 
কী যে করি 
মনে হয় কত কথা 
তোমাকে জাননো হয়নি আজও
অথচ কথা তো রোজই হয় ;


শেষমেষ কথা হলো , ''তোমার কিন্তু একটু শরীর সচেতন হওয়া উচিত ভাই ----- ''





১১১.
কোথাও বেসুরে বাজছে তৃতীয়ার চাঁদ ;

সেও যে ছদ্মবেশী ও ঘাতক ,
তা কি করে বোঝে আজকের সানাই - ঘোর  ;

বড়োই রক্তলোভী 
প্রয়োজন
পশুর মতো ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটুকরো মেঘ ; কুয়াশা ঘিরে আছে কোথাও কোণায় কোণায় ।

সেও কি অসহায়ের চোখ হয় 
নাকি একটুখানি কৃপাময় ; জাত বেজাত বুঝতে তার 
       বোয়েই গেছে ---

যাইহোক
ক্ষুধার্ত সিংহ মরা মাংস ছোঁয় না ।

মানুষ শুধু মরা ও জ্যান্ত কিছুই বুঝতে চায় না ---- দুহাতে খায় , যা কিছু তার নাগালে ---- 

বড়ো বেসুরে বাজছে আজ তৃতীয়ার চাঁদে পৃথিবীর সকল আহ্লাদ  ?!


 


১১২.
শীতরাতের হিমেল হাওয়ায়
গাছের পাতারাও 
বিষাদময় গান হয় !


কেন যে আশারোগ যায় না তাও , 
বুকের ভেতর পা আছড়ায় কারো মুখটুকু আগলে ?


কেন যে দাঁড়াতে পারি না খালি গায় ,
রাতের বারান্দায় কুয়াশা মাখামাখি হতে ......;


পথের পায়ের উপর পথ উপুর হয়ে শুয়ে আছে ।
আমিও কি উপুর হয়ে কারো বুকের ভেতর কানতে চেয়েছিলাম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে?


তৃতীয়ার আকাশ জুড়ে তুমিই শুধু একা কানতে শেখ নি ----


সেই আকাশে কত দীর্ঘশ্বাস যে পাঠালাম 
তবুও রদ হলো না নক্ষত্রদের এই পেঁচা হয়ে যাওয়া -----
হৃদয়ের কুয়াশায় মাখামাখি ডানার শব্দে বারকয় মৃত্যুর ডাক শুনেও 
এই আশারোগে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকি -----





১১৩.
কোন তীর্থে 
কে খুঁজে মরছে প্রাণের আনন্দ -----

আমি তো তিমিরতীর্থপথযাত্রী ...

অনেক নালীঘাসে ভরা ছিল দুই হাত‌ ; 
গাছে গাছে 
অনেক অষ্টমঙ্গলার সুর ---- তেপান্তরের মাঠে 
কত ভিজে-সুবাস মাখলাম যে ----- সে সব জানার কথা না তোমার ---- জানে কি ওই দূর নক্ষত্রদের উজ্জ্বল আলোরা 
 নিভে যেতে যেতে....?
অনেক প্রাণঘাতী বল্লম হাতে নেমেছিল 
                  যারা 
খুঁজে নিতে অনেক বর্ষামঙ্গল ;

এসবের কিছুই জানার দরকার নেই ---- জানো না এই দুহাতে কত না ছিঁড়েছিলাম মিথ্যে সীমানার জাল ----

সে সব যদিও ছোঁবার কথা ছিল না 
ছিল না চারপাশে নির্ভেজাল জীবনের গল্প খানিক ;----
শিশুহাতে ভেঙে ছিলাম অনেক প্লাস্টিকের খেলনা 
তাঁদেরই মতো .....!

কেন যে বিঁধিয়ে নিলাম এত কাঁটাতার ....!

যাক ----- সে সব থাক 
এখন যেদিকে চলেছে রথ , তার ডাইনে ও বাঁয়ে সেসব নালীঘাসেদের চিহ্ন মাত্র নেই ;
আছে পাথর আর কাঁকড়ে ভরা খানিকটা অন্য গল্প --- 

যা তুমি শতজন্মেও পাবে না কখনো .....?!





১১৪.
চলো নেভা আঁচে
খানিকটা মাংস কষাই -----  চলো কষা মাংসের স্বাদ গন্ধ গিলতে গিলতে 
তৃষ্ণার তলদেশ ছুঁয়ে আসি । 

এমন দৃশ্যের চেয়ে মনোরম আর কিছু আছে নাকি ?
নাকি এসব নির্লজ্জের ---- ? 

যেটাই হোক ---- হোক না সুগন্ধে 
তুমি ও সে ;
সে ও তুমি এই সব কথপকথন চালাচ্ছিলে যে , সেটাই মনে এলো .... ;

তাছাড়া ভাব বিনিময়
সুফল , বিফল 
আর আছে যা কিছু নাকি ?

কাঁটা তারে কাঁটা তারে বিদ্ধ আমি , লটকে আছি একটি ফড়িংএর মতো ;
বাদুড় হয়ে দুহাতে ধরে আছি ধরফরানো জীবন খানিকটা !

যাক 
সে সব তোমাকে বলার না , তুমি মাইক্রোফোন হাতে ঘুরে ঘুরে বলো শুনি ------ মঞ্চ দাপিয়ে প্রসারিত করো এই বক্ষ  ; ----

চলো ক্লোজাপে পাঠাই তোমার ইশারা ;
চলো পেশাদার বাউলের একতারার নছল্লা ধরে দি ---- 

তুমিই বাজার আমার ;
তুমিই এখন বড়শির টোপ ;
গ্রীবায় খঞ্জনি উঁচিয়ে এসো 
আকাশ ছুঁয়ে আসি একবার অন্ততঃ






পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



৯১.
বছর সাতাশ আগের
একটি সকাল
দোয়েলের ডানায়
ভর দিয়ে দাঁড়ালো ;
ছুঁড়ে দিলো একমুঠো
‌ বকুল---
ছড়ানো ভোরের তারারা যেন ;


ঘ্রাণ নিলাম আমিও তার ?
বুক ভর্তি শ্বাস ফিরে এলো---- কতকালের পরিচিত সুবাসের
         সঙ্গে সঙ্গে.... 

তবু কত অপরিচয় যেন ; 
কত অজানায় জীবনের চলাচল বুঝি 
বাসি খোলোসের ভেতর কড়কড় করে ওঠে কত সরীসৃপ আতঙ্ক যে ,
সে যেন মুচড়ে ভাঙবে 
আবারো ছত্রিশ খানা  হাড়  ! 


না না 
এ সে অসহায়তা নয় 
সহায়হীন নির্মোহ ?


যাইহোক
এসেছিলো তো তবু  !


কোনো এক ভোরবেলার দরজা খুলে কে যেন চমকে 
              উঠেছিল
সে কি কম ?!


আজও সেই একটি দুটি দিনের ভেতর 
নিজেকে সঁপে দিই 
    অনাহুতের মত ?


শত পরিচিতের  অপরিচিয়ে ভাসাই 
    কত আকাশগঙ্গা ;
তাঁর নতুন নতুন জন্ম হয় , শত শত জন্মের 
    অভিসার শেষে 
     এমন বকুল 
      ছড়িয়েই বুঝি .....!





৯২.
মান অপমানের
প্রকৃত কোনো ভাষা হয় না 
হয় বোধ ।


নির্লিপ্ত হলাম 
অমীমাংসিত ফাঁকা পথে শিস দিতে দিতে 
         চলেছি .....
আকাশ যেখানে মাটি ছুঁয়ে নতজানু হয়ে আছে ----


কাউকে কেউ চাই না ।
নষ্ট দুচোখ চায় শুধুই  শত শত জন্মের গা- গুলোনো 
কশাইখানার দিকে ;


তারপর নদীর দীর্ঘ রেখাটিতে মিলেমিশে
 ভাটির গান হয়ে 
  যায় যেভাবে দিন ... ;


শিস দিতে দিতে 
ওই তো শেষ রাত 
        চলেছে যেদিকে ;
সেও বললো যেন ----
আমি তোমায় শত শত 
নিরাশ্রয়ের পথ দেখালাম ---- যার পর 
জলের চিহ্ন থাকে না 
        কোথাও আর।





৯৩.
একান্তে আপন ঢেউএ ভেসে বেড়াই ।
উল্টো দিকে 
তার প্রবাহের ভেতর 
  শত আলপনা আঁকে
                  সময় -----

একটারও 
পায়ের ছাপ পড়ে কি 
         কারো বুকে.... ?
খালি হয়ে যায় চাষের‌ 
                 মাঠ ----
খালি হয়ে যায় স্বপ্নেরা  


যা ছিলো 
জমির আকাঙ্ক্ষা 
উল্টো সোজা বুননে 
সেও কি কল্পিত বিস্ময়‌ আমাদের  ?


কেউ যেন কারো জলে নামেনি কখনো 
চাষ শেষ হয়ে যায়‌ 
     এমনি এমনি ... 
চাষ তো চাষের জমিই 
         চেনালো না 


একান্তে আপন দুঃখের ভেতর সকলেই হয় মাটি ।
হয় জল ? 
হয়ে যায় খানিকটা 
                   পাঁক .....
তখনও আলপনা উঠে 
আসে কোথাও নিভৃতি 
          দাওয়ায়  ;
উঠে আসে শুধুই পরষ্পরের মুহূর্ত কান্নাটুকুই -----


সত্যিই যদি তাও সত্য হতো ;
বিশুদ্ধতা প্রবাহের অন্তিম দেখাতো তাকে; 

ঘুরে দাঁড়াতো সকল জল- কথা ----





৯৪.
খুচরো পয়সার মতো এই রোদে 
আশ্বিন কুড়োতে বেরিয়েছি .....


ভাবছি , কোনদিক থেকে 
কে যেন ছুঁড়ে দিচ্ছে 
কার মাংস চোষা হাড়;
আমি কি কুকুর হয়ে 
শুঁকে বেড়াচ্ছি ?


সেও যেন নিরিখ করছে 
আছি কিনা পথের মাঝে ;


ওই তো বীজ ফাটিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছি 
দোনার গুঁড়ো র মতো ; 


ওহো , চেন না 
তাই না !
না চেনারই কথা 
সে সব কোন অচেনা গ্রাম্য নাম ধাম !
দেখো 
এই নগরের পথে পথে কেউ যেন মুঠোয় লুকিয়ে ছড়িয়ে দিল 
আমার সর্বাঙ্গ জুড়ে .... ; 

কাউকে বলিনি 
তোমার কথা 
তোমার ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট পাথেয় ;


উৎসবের দিন তো এখন ;
সচ্ছল সুখি মানুষজনদের ভিড়ে হারিয়ে যেয়েও 
পথময় একটুখানি আলোর প্রত্যাশা 
       কুড়িয়ে চলেছি ...





৯৫.
নীল আংটির ভেতর 
একটি একটি করে কমলা রঙের উজ্জ্বল তারাদের ডুবে যেতে দেখি ,
আমি তার হলুদে 
এত যে তর্জনী উঁচিয়ে
সাজিয়ে দিলাম ,
তাতে আরো কত মুক্তের ব্যবহার চেনাই বলো তো !


তারা তো বুঝলো শুধুই আগুন বিলাস ;


ও হোমাগ্নি 
তুমি তো জানো 
এই সেজে ওঠা সময়ের সকল অহম 
কিসে ছাই হয়ে যায় ---


তবুও বার বার 
মিনতি জানিয়েছি তার জন্ম-ললাট ছুঁয়ে;


চলো চলো 
সময় যে ফুরায় ,
নতুন লালিত্যে বহু ফুল করে তুলি তবু 
আঙুলে জড়াই 
একটা একটা করে খুলে দি শ্বাসের বুদবুদ 
তোমার গভীরে ;
নাও 
নাও সে অনিশ্চয়তা 
এ জন্মের বিধান ছুঁয়ে
গড়িয়ে দাও শত শত রঙের প্রস্ফুটন ;


তুমিই শেষ আঙুল 
যেখানে ফুটেছে হাজারো নীলকণ্ঠ  আজ ,


আমি কোন রঙে ছোঁয়াই ঠোঁট !





৯৬.
যাত্রা পথে অনেক স্বপ্ন থাকে ,
ফেরার পথেও 
অনেক আগুপিছু ঘুরি ;


গর্ভগৃহ খুঁজে পাই না 
আত্মীয়-অনাত্মীয়ও ;


পথের মানুষ কাছে পেতে এত যে অনিশ্চয়তায় ঝাঁপ দিই 
ভুলে যাই সময় অসময় ;


সেও কি শুধুই দেওয়া নেওয়া ?!


কার দেওয়াতে কে সমৃদ্ধ ?
রাতের আকাশের দিকে চেয়ে থাকি --- 


কুয়াশার ভেতর কে যেন হাত ছাড়িয়ে চলে 
                       যায়
যে হাতেই রাখি পূর্ণ শ্বাস ;


মুখটি ঘোরে না তো 
পথের ঘুরে দাঁড়ানোয় 
একটি কথাই বাতাসে বাজে শুনি ---- কোথাকার অথিতি আমি ......?!





৯৭.
পাতাদের উপর অনেক ঢেউ ভেঙে গড়িয়ে গড়িয়ে নামে দেখি তৃষ্ণারা .....


আমি কোন চোখে তাকে দেখতে পাই ?


বিভাজিত সে 
দুদিকেই বোইছে যখন নদী .......


প্রকৃতি যখন তার চোখের ভেতর খুলে রাখে সবটুকু নৈঃশব্দ 
সেই অবগুন্ঠনের ভাষাতেই বর্ণিত হয় যখন তার এক একটি চোখ 
আমি কার হাতে তুলে দিই সম্পূর্ণ বিশ্বাস ?


যা দিয়ে গড়ে তোলা যায় এক একটি সভ্যতার ইতিবৃত্ত -----


তাই তো তাকে দেখে মনে হলো , বলা হলো 
হয়তো অনেক না-বলা কথার পরের কথা;


আমি কি নদীকে 
তার বিভাজিকায় 
পৌঁছে দিয়ে 
নিজেই হয়ে যাবো 
এক একটি শ্রাবণ মেঘের ডাক  -----





 ৯৮.
মহানন্দা কোন দিকে 
কোথায় বোইছে দামোদর ?
তুমি কোন বাতাসে চিরে ফেলো 
ছুটতে ছুটতে কংশাবতীর  বুক !

এই নাও মুখ খোলা চিঠি ,
বলো তাকে রোদ উঠেছে ;
কোথায় তার উষ্ণ আলিঙ্গন ?


কেন যে সময় অসময় নেই আমি এসে দাঁড়াই
তার বাতাসে মুখ রেখে ; হৃৎপিণ্ডে জোয়ার ভেঙে যায় কতোই না ;


জানি কি তার সব স্বর !
সেও কি জানে 
কেন আমি এত নদী ভেঙে পাঠাই তার দুচোখের গভীরে ?


ওহে মহানন্দা 
ওহে কাশাই ,
কোন দিকে আজ তাকে আর একবার থমকে যেতে দেখেছি !





৯৯.
কিছুটা বলেছি 
কিছুটা বলিনি ,
জল থেকে উঠে
ডানা ভেঙে বসে পড়ে যেভাবে ক্লান্ত হাঁসেরা 
আমিও তেমনি সন্ধ্যার ক্লান্ত পায় 
নীরবে কথা বলেছি 
দু - এক কথা ; 


কেউ কি জানে 
শোনে ?
নাকি হাসতে হাসতে হয় খুন ,
মটকে পড়ে থাকে ঘাড় ভেঙে ;


সে সব যা হয় হোক গে কারো অন্তরে 
আমি শুধু সন্ধ্যার ক্লান্ত পায়ে নেমে যাবো এমন ভাবে যেখানে তার মনটি দেখেছি হতে শুধুই ভার , বাকি সবই প্রলাপের মতো তালি দিয়ে বেড়াক দুহাতে ;

সে সব ঢের জেনেছি একদিন ,
ভেবেছিও
তবু তার দুগালের জলরেখা ছুঁই নি ;
পড়েছে আড়ালে অনেক মঞ্জরী খসে ,পাপড়ি মেলেছে যেন বাসি ফলের মতোন কারো বা কথার ঢেউ
সে কথা হয় নি বলা বলে নি তো কেউ !


তাই তো এই হাঁস- সন্ধ্যায় তার ডানার তলায় তাকেও লুকিয়ে যেতে দেখে তাকেই পাঠাই না-বলা কথাটি বলার অভিপ্রায়ের বাকি কথাটি ....!





১০০.
তার ঘুমের ভেতরে 
কতবার 
চাঁদ তারাদের নিয়ে হুটোপাটি করলাম !


জানো অথবা জানো না ।
সে যা হোক 
একটা কিছু হলো  ;
মৃত মাছিদের ডানায় চড়ে আজ ই প্রথম ভাগাড়ে পড়লাম ?


আমিও মৃত মাছি এখন !


জানি না , তবে বড্ড লাল মেঘ দেখলাম আজ আকাশে ।
বড্ড লাল মেঘ ঝুলে আছে কার অভিশপ্ত ডানায়  !
অনেক গঙ্গাফড়িংদের  ভাঙাচোরা ডানার গোপোন চিৎকার সে সব ; 
বুঝলাম ওইখান দিয়েই যেতে হবে সকল ঘুমের অগচরে ;


যেভাবে তার ঘুমের ভেতর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ?


জানি না তো !


আড়ালে আমাদের যাত্রা পথের ঠিকানা যদি সঠিক কিছু থাকতো , তাহলে আরো ভালো হতো তার তন্দ্রায় পৌঁছতে



এমন হুমড়ি খেয়ে পড়ি 
একটুখানি লাল মেঘের নিচেয় দাঁড়াবো বলে  ?


ভিমরোতির শেষ আছে , তুমিই বলো ---






১০১.
কতকাল 
শিউলি তলায় ঘুরছি ,
কতকাল 
কদমের রেণু মাখছি গায় ,
রাধা রাধা বলে 
আমি কি গৌর গোঁসাই এর পিছু পিছু ছুটছি .......


ভুলে গেছি সংসার ধর্ম  !


ছাতিম ফুলের উগ্রতা ছুঁয়ে 
বকুল ঘ্রাণে বর্ষার মাদল শুনছি , পাহাড়ি খাদের ধারে  ?


কার উরুসন্ধি তে ডুবতে ডুবতে 
ভুলে গেলাম কোন পাঁপড়ির নির্মল সন্ধ্যা  ? 


সূর্য - স্তবে 
আগামী পৃথিবীর বিশুদ্ধতা চেয়ে ,
সেও কি তার ঘুম ভাঙা সকালের নিস্তব্ধতা ----- ?

ফুটে ওঠে নীলকণ্ঠ ফুল .... ?


ওমা ,
সে দিকেও চেয়ে দেখি সেও বলছে , ওই তো স্বর্গদ্বার ---- 


সেখানেও ভুল করলে তুমি ..... !





১০২.
কোনো দরজায় প্রহরী 
থাকবে না ,
কেউ থামাবে না 
উচ্চারণের স্বাতন্ত্রে 
          যেতে যেতে ...;


সে জন্যেই কি 
দরজা ভাঙি ?
আড়াল ভেঙে দি বাক্সের ,
বার করে আনি অন্য মুখ ?


কবিতার কাছে 
সম্পর্কের আনন্দ ছাড়া 
আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার ।


মহামানবতার ধ্যানে জ্বালিয়ে ধুনী
বসে আছেন যে 
সাধক 
আমি তাঁর সাধনসঙ্গীকে বলি ,
প্রস্ফুটিত হবার ভেতর 
ফুটিয়ে তোলো 
প্রকৃত রেণু ----


তাঁর গর্ভ থেকে 
জন্ম নিক 
এমন উচ্চারণ 
যাতে
কোথাও না থাকে 
ভেদাভেদ ;
প্রকৃত মানবের কাছে 
মানুষের যেতে......;





১০৩.
অযাচিত অপমান 
সময়ের উপেক্ষা ;
গোটাতে গোটাতে কেন্নো হয়ে মুখ গুঁজে পড়ে যাই কার কোলে তখনো ?

বহুবার সাবধান এর পরেও
আগলাতে যেয়েই
এই সরীসৃপ রূপ !

টুকরো হয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে নিতান্ত একটি অচল আধুলিতে গড়িয়ে বেড়াই 
পথের মাঝে .......;

বাতাস প্রতিবাদী হুঙ্কার ছাড়ে ।
কি আর করি 
আবারও সেই দুটি চোখের জলের সঙ্গে মিলিমিশে ছড়িয়ে পড়ি তার দুগালের উপর!


মনে হয় আকাশটাকে চৌচির করে ফাটিয়ে বলি ---- আমি কি সত্যিই পাপচোখে  তাকিয়েছিলাম 
চাঁদের কলঙ্কে ?





১০৪.
আজ কেন জানি না কান্না দিয়ে আঁকতে গেলাম তাঁর চোখ ; 
হাওয়ারা খেলা করলো । উল্টে দিলো যত জল ছিলো রঙে ভরা আকাশে ।


বড় অপেক্ষা ছিল ,
পথের স্বপ্ন - কথায় কতটুকু ছিলাম      তার অন্যমনষ্কতায় ---


রঙ তুলি ছাড়াই 
পথের কুড়োনো পাতায় 
তাই তো ফেলেছিলাম সকল চোখের জল ;
কি রঙে যে মুছে 
দিল বাতাস 
সেই মিলন দৃশ্য 


খুঁজে পেলাম না 


তাই কি নানা বাহানায় তার কন্ঠের ভেতর  প্রদক্ষিণ করলাম 
সেই শতজন্মের অপরিচয়  ?


তার চোখই কি 
তার হৃদয় ? 
এই পর্যটন সকল তীর্থক্ষেত্র ভুলিয়ে দিলো  ;


বৃন্দাবন চিনি কি ?
নাকি চিনি গোপোন সে লীলা মাধুরী 
তাই কি উন্মাদ হয়ে যায় সকল চোখের জল ...... ?





১০৫.
লুকোতে যেয়ে
নিজেই লুকিয়ে ফেলি 
নিজের সব সত্য !
সত্যরা কি এতই দূর্বল এতই ঠুনকো ?


সহজেই ভেঙে পড়ে ,
রক্তাক্ত হয় ? 

মিথ্যে হয়ে যায় 
তাঁকে নিয়ে আমার সকল কান্না ।


চারপাশে এত অনাহার 
এত বুভুক্ষুদের 
টানাটানি
এ ওর ঘাড়ে দাঁড় করায় , যা শুধুই কায়দা খানিক ।
নেই কোথাও সত্যের প্রকৃত সংলাপ ,
নেই প্রেম , নেই তিতিক্ষা ----
তবু তারাই তাকে হাটে বিকিয়ে চলে যায় ?


তাঁকে লুকোতে যেয়েই 
নিজেই লুকোই 
ব্যার্থ সময়ের হাতে ;





১০৬.
তোড়ে ভেসে যাওয়া 
বুদবুদদের আগলাতে 
নিজেও বুদবুদ
উঁকি দিয়েই ডুবে যাই।


নিচেয় কেমন ছিলাম ?
নিচেয় জীবন খুঁজতে যেয়ে এত প্লাবন ....!


সেও কি 
ভেতরেই থাকবে ,
না উঠে হরিণ দৌড় মারবে খানিক...... ?


বুঝতে পারিনা 
তবু তাঁর শরীরের গন্ধে বিভোর হই ----


অনেক দূরের 
একটি হাতের ইশারা 
 জলের উপর গড়িয়ে বেড়ায় যেন  ;


বছর পাল্টায় মধ্যরাতে ।
আড়াআড়ি উঠে দাঁড়ায় তার ছায়া ।
আমি ভিজি , নাকি 
উভয়েই ভিজতে ভিজতে নক্ষত্রদের 
ভেতরে হারিয়ে যাই ?


তুমি কি কাল রাতে 
একবারও
নতুন দিনের উপহারের কথা 
একবারও ভাবো নি !


চাঁদ ডুবে যাবার সঙ্গে সঙ্গে , সেই সব মৃদু আলোয় হয়তো ভেবেছিলে , হয়তো ভাবতে চেয়েছিলে ;
অথচ ভাবনারা নানা নিত্যপ্রয়োজনের ভিড়ে হারিয়ে গেছিল হয়তো ;


আমি তো অনেক বুদবুদের ভেতর কারো উত্থান কে দুহাতে তুলে নিতেই চেয়েছিলাম ---


গন্ধরাজ ফুলেদের হলুদ কেশরে অনেক দীর্ঘ সুবাস আজ ;





১০৭.
যেতে চাওয়া আলোর গতি 
নিষেধ না মানার পরোয়া করে তখনই
যখন
ছায়া সরে যেয়ে
ভয় পাওয়ায় পথিক কে ।


অবরুদ্ধ চারদিক ;
আরো চেপে আসে 
দশ-আঙুল প্রসারিত করে ----
গলা ছাড়িয়ে নি 
কিসের আতঙ্কে ?


বেশি দিন তো নয় 
বছর তো ফুরোলো তাও ; 
নতুন বছরের হইহুল্লার ভেতর 
উন্মুক্ত চুলের হাওয়ায় 
দাঁড়াতে চাওয়া কি 
এতটাই অন্যায় !


যদিও তখন মনে হয় 
কোথাও ছল আছে ;
সমস্ত বিশ্বাস জুড়ে 
উল্টে পড়ে আছে 
মেলার মাঠের মাটির 
             রাধা কৃষ্ণ ?


কুড়োতে কুড়োতে 
একটিই ঘোড়া ,
পক্ষীরাজ বানিয়ে নি ;


সেই যেন একমাত্র ভরসা ; 
এত করে বুঝিয়েও 
বিশ্বাসের রথ 
এতটা পথ অতিক্রম
   করতে পারলো না !
যার কাছে রাখতে চেয়েছিলাম গচ্ছিত 
আমার সকল পৌষমাস ;


ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম
রোদ্দুর উল্টিয়ে দুহাতে অনেকটা ----


কীভাবে বোঝাই 
এই শীত ফুরিয়ে এলো ..... ।





পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



৮৪.
আমার প্রত্যেকটা দিন ফুরায় প্রত্যেকটা মুহূর্তের অনিশ্চয়তায়।

এই ভাবি এমন একটা সময় এলো
পাল্টে গেল সব দুঃসহতা ---- চাঁদ উঠলো বৃষ্টির শেষে
এবার একবার ছাঁদে উঠবো , মাঠ পেরিয়ে ;

মাঠ ,
সে সব কবেকার ঝুরঝুরিয়ে ঝরে পড়া মেঘ-বৃষ্টি-জল......
আমাদের স্বপ্নের ভেতর লুকোনো লীলা ;

মানুষের গন্ধে বিভোর। নিষ্পাপ চারখানি হাতের বেষ্ঠনে একখানি বটপাকুরের ঝুরি নামানো মিলন উৎসব। কে কার তীমির হারিয়ে ঘুরিয়ে রয়েছে বাকলে সকল বলিষ্ঠ অভিব্যক্তি জানিনি তো !
শুধুই বিস্ময়ে বিভোর চেয়ে গেছি উভয়ে‌ উভয়ের চোখের মণির অন্তরীক্ষে....!

সে যাক , সে সব প্রাগৈতিহাসিক কথা । কেমন আছো বলো তো এত বৃষ্টির পর আজ ?

চেয়ে দেখেছ কি
ঘুরে উঠেছিলে কি মেঘের আকাশে, একবারও কি অন্যমনষ্ক তোমার পাপে তুমি পুড়েছিলে কি ?

যদি পুড়ে না থাকো
যদি না থেকে থাকো ভিজে , না সেঁকে থাকো বৃষ্টির পরে তোমার এত ভেজা ;

তবে শোনো , তুমি জন্মাও নি কোথাও। তোমার খোলোস পড়েছে খসে এই পৃথাবীর পরে । তুমি জন্ম যদি সত্যিই নিতে, তাহলে এত জন্মের অভিশাপ ধারণের পর , আর একটি জন্মের হাতে সুনিপুণ কৌশলে তুলে দিতে পারতে না এত মেঘেদের আকাশ
বস্তুত যে মেঘে কোথাও জন্মের কথা লেখা নেই । সৃষ্টির কথা ।

এতটা বৃষ্টির পর একবারও কি ছাঁদে দাঁড়িয়েছিলে , না মাঠের দিকে চেয়ে অন্ধকারে হারিয়েছিলে একবারও দীর্ঘশ্বাসে !



৮৫.
দূর থেকে এঁকে তুলেছি যে পথ , তার ভেতর কে যেন পেছন ফিরে চলে যাচ্ছে

হাঁটতে হাঁটতে....

আমি কি তার পিছনের সমস্ত স্তর থেকে সম্পূর্ণ একটি সুন্দরকে দেখতে চেয়েছিলাম বলেই কে যেন ডুকরে উঠলো !

জানি জানি ,
নিঃশব্দের  অসহায়তায় কম বেশি সকলেরই কথপকথন 
                   চলে ..... ;
কে আর বাইরে আছে আজ ---- 

তবু তো একবার অন্তত চেষ্টা থাকে , উচ্চারণ স্পষ্ট হয় যদি  ----- এই আলোআঁধারির পথে ;

এই কুয়াশাদের মেঘমল্লারে ডেকে বেড়াই খালি খালি !

সে কথা যেন বুঝি বলেই 
পারলে ফিরে চেও
          মেঘমল্লারে .....


 

৮৬.
হাওয়ারা লুটোপুটি খাচ্ছিল পাথরে । মঞ্চের চারপাশেও।
পলাশেরা হাওয়া বাতাসে মিশে অভিবাদন জানাচ্ছিল কাকে কাকে যে 
সেটাই ভাবছিলাম ।
পলাশেরা কি তাদের কালোর ঘোরে 
একটুখানি নতজানু ?

একটি অবিন্যস্ত সম্ভাষণ পর্বে এদিকে কেউ যেন আর একটু এগিয়ে বাড়িয়ে দিল 
গলা , বললো , ' .. এভাবে নয় , এই ভাবে .... ;

তুমি কি চমকে গেলে চিরকালের নাদান ?
নাকি মুগ্ধ হয়ে চাইলে ওহে প্রাণ , তুমি কি আজও এতটাই অপরিণত .....?

মুহূর্ত ঘুরতে না ঘুরতে কোথায় হারিয়ে গেল মুহূর্তটা .....!

আর এলো না । আসে না ।
এভাবেই কেউ কাউকে উৎসর্গ করলো গোপনে তার হারিয়ে যাওয়া ঘুম --- ?





৮৭.
টিয়াপাখির চোখের পাতায় 
প্রতিশ্রুতিরা 
ঘোরায় এমন আকাশ 

সে সব বহুকাল 
দেখে দেখে 
মুখস্থ করেছি অনেক ;

ফাঁদের দরজা আলগা 
রাখি তাই 
বসো তো বসো 
না বসো তো যাও ----

তার ওড়া ডানার
সবুজ ছুঁয়ে
দেখতে চাই না আর ;
তার চেয়ে সে যত ওড়ে 
আমি ততোই উঁচু করি 
আমার ছোঁয়া আকাশটাকে ; 

ওই তো তার ছায়া ,
ওই তার কমনীয় ডানার ঢেউ ,
ওই তো তার রোদ-ছায়ায় কিছুটা হলকা এসে উষ্ণ
করে দিলো আমার ক্ষত ?
সেই সৌন্দর্যে 
লীন হতে হতে 
কতটা ব্যর্থতা দিয়ে ফোটাই না-বলা রক্ত-জবাদের সকল  কুঁড়ি  ----?





৮৮.
এই হেমন্তের দুপুর ,সেই অঘ্রাণ ---
অনেক ভোরের ভুল-আলোর দরজা ঠেলে হুমড়ি খেয়ে পড়লো  ;

আজও তার অচেনা মুহূর্তগুলো
এলোমেলো উড়ে বেড়ায় ।

সেই নিস্তব্ধতা ছুঁয়ে
কত রাত ডিঙ্গোই ;
কত তারায় তারায় ভেসে বেড়ায় অনন্ত  অজানা কথারা যে , সেই অচেনা নিহারিকার পথে পথে ...... !

এই অঘ্রাণ মাস 
তাকে ঘিরেই বৃত্তায়িত ; আমিও তাঁর ভেতর ঘুরতে ঘুরতে অনেক পাকা ধানের গন্ধে 
বয়েস বাড়িয়ে চলেছি যেন .....

আরো কতকাল 
তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে
সেই কিশোর থাকবো
        বলো তো  ?

হেমন্তকাল এলে 
আরো অনেক অঘ্রাণের দুপুর রাত্রি 
সেই ভোরের কুয়াশায় মিশে যেতে থাকে .....

এসব সে যদি জানতো , হয়তো বা নিয়র হয়ে ঝরে পড়তো 
ওই অবহেলিত ঘাসেরা যেখানে ছুঁয়ে আছে শুকনো মাটির বুকখানি .....?




 
৮৯.
আমি তো মনে করি না !
সে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিনে কাজে ।
ঘুরপাক খায় আনমনে। তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় এই আসা ......

সিগারেট চলাচল শেষ হলে , মাথা থেকে সরে যায় তার ছায়া ----আলগা একটা অবয়ব জুড়ে বিপরীত এই আলো ------  ;

সেই ঢেউএর ভেতরে তাকে 
আমি দিগন্ত পার করে দিই ----- 

জন্মজন্মান্তরের  আসা যাওয়া, এই মান অভিমান ঘিরে , সে আমার দ্বিতীয় সত্তা 
   প্রসব করাতে চায় ?





৯০.
মাঝখানে অবিনাশী ছোঁ-----

দুপাশে তরঙ্গ ..... ;

এই না দেখে 
কী হাসিই না হাসলো 
উপুড় হওয়া জল ;

ওদিকে আর এক রহস্যময় রোদেদের উঁকিঝুঁকি ;

ওহে আকাশ 
তুমি কি আমার সব চিঠি গোপন বাক্সে ফেলে পালিয়ে যাও ?

তা যাও,
কিন্তু একবার অন্তত বলো তাঁকে
সে কেন খোলে না বুকের বোতাম 
এত ঘামে ;
জলে ভাসতে ভাসতে 
          চলে যায় 
    দুপাশের তরঙ্গরা ...
         
দু'প্রান্ত চিরে যে পাখি 
   ডেকে উঠলো আজ 
তাকে কি সত্যিই সে চেনে নি !
করোটির ডমুরু বাজলো মহাকালের হাতে।

উৎসর্গে সে কথা জানিয়ে দিল কে আজ ?

যে গ্রন্থে নাম লেখা হলো উভয়ের !








Wednesday, August 10, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




৭৭.
ঘুরতে ঘুরতে
এতটাই ঘুরে গেছে 
          ছায়া-সমৃদ্ধ ----
কোন দিক থেকে আবৃত হই ?

ভাবতে ভাবতেই পাঠালাম অনেক পরাজিত আঁকিবুঁকি
হাত উল্টে 
হাত নয় 
হাতের ছায়ায় মেলে ধরলো অনেকখানি মুহূর্তের কুয়াশা ----

কত খাজুরাহো 
কত পোড়া মাটির স্থাপত্য সে সব !

বুঝি অথবা বুঝি না ---
পাথর খোদাই হয় থরে থরে । খোদাই হয় কত মৈথুন রূপ !
যদিও দেখি না 
কিম্বা দেখি 
অন্তরে উল্লাস নেই তো তাও কোথাও ;

জীবন পূর্ণতায় হামাগুড়ি টানে তবু ?

পায় কি !

পথে পথে ঢেউ গুনি । বেঁকতে বেঁকতে পথ উল্টাই এত ,
এসবের কিছুই জানো না তো !
জানতে জানতেই জীবন প্যাঁচার‌ চোখের নিরিখে হারিয়ে যায় --
হারিয়ে যায় অন্ধকার রাতের তারায় তারায় 
আমাদের কত সমৃদ্ধ অসমৃদ্ধ ঘুম চোখ যেন ......

ফুরায় 
সকলই ফুরায় 
কুয়াশা ভরা মুখে ----

যেতে যেতে যেমনটা দেখে কেউ ,

সকলেই না ----





৭৮.
থরে থরে সাজিয়ে তুলি অনেক না বলা 
অনেক উৎসর্গ -----
ভুল সম্ভাষণে সারা জীবন সাজায় যা মনোসংযোগ ?

তাতেই  সকলে ডুবি।ডোবাই অনেক হিম কুয়াশায় সমস্ত রাত্তির। 

তারপর সে কোন দিকে যায় ?
তাহারাই বা কোথায় যেতে যেতে ঘুরেছিলো  পিছনে একবার ! 

দড়মায় বুনে উঠলো যে সব সম্মোহন ;
বাঁশের মাচায় শেষ হলো যে জীবনের ঘুম-চোখ , তারপরেও কি বাকি ছিলো কিছু অলিখিত  সংলাপ ?

তুমিই জানো 
ওহে অভিমানী প্রস্থান 
তুমিই জানো ভালো 
সেই জলে ভেসে
              যেতে যেতে 
 শেষ সেই অস্থির কথপকথন ----





৭৯.
চঞ্চলতা উধাও হয়েছে আজ । ঘুরে গেছে একে একে নক্ষত্রেরা ছিল যেখানে যত । সকলেই ঢেকেছে মুখ মুখের আড়ালে ওই ।
তার দীপাবলীর আলোক সম্ভারে , কত নতুন মুখের আয়োজন আজ ; সেজে উঠেছে আগের ছায়াশরীরীরা একে একে এসে যেন --- সে সবের পেছনে আরো কত পুরাতনের সারি যে ছিল ,
চিরপুরাতনের পায়ে পায়ে গড়িয়ে চলেছে শত শত যুগ ধরে 
যে সকল অভিসার ---- চলে গেছে কত মমৃয়মান আলোকরাশি ----- 
কোই কোথাও কোনো দুঃখ তো নেই ! 
সকলই গতানুগতিক প্রস্থান .......
তবে তুমি কী দিয়ে আঁকতে চাইছো তাকে ? 

ছায়ার ভেতর ছায়া এসে গুমড়ে উঠছে আনমনে । 
কে সে ?
কে গো !
কে তাকে নিয়ে ঝরে পড়লো ওই দূরে 
শিশিরের পায়ে পায়ে .....?

এই তো কিছুদিন আগেও আলপনায় আলপনায় সমস্ত সাজিয়ে তুলেছিল সেই তো , লেখা ছিলো আনমনে তার-ই চোখের পলক সে সব !





৮০.
প্রতিদিনের উৎকন্ঠায়
সে ছিলো 
হারিয়ে যাওয়া দূরের প্রতিধ্বনি ।
অনেক অপেক্ষা জুড়ে 
ভাসিয়ে রাখা 
তার একটুকরো আকাশের কোণায় একটি তারা ----

হাঁটতে হাঁটতে পেছন ফিরে দেখা 
যে সব পেছনের ঢেউ
তারা যে এতটাই ঘায়েল-সৌন্দর্য ,
সে কথা এতকাল তো জানতে পারিনি !
সে যে কখন মা ও মেয়ে , মেয়ে ও প্রিয় 
এত উলঙ্গ-উচ্চতায় ঘুরিয়ে ঢাকছে ওই আঁচলখানি !

তাহলে এ পর্বেও 
ছলনায় ঢেকে ফেললো সে তাঁর
পেছন থেকে দেখা সকল সুন্দর !

আর একটু বিশ্বাস দাও আমায় , ওহে প্রবঞ্চক 
সময়ের নতুন ঘোরলাগা সেই ক্ষেতের কুয়াশায় সরে যায় কে যে ওই দূরে ..

তাঁর কোনো অভিনিবেশ
খুঁজে না পেলেও 
মানতে পারছি না সেই পিছন ফিরানো রূপে এতটাই ছিল ছলনা --!

দম নিতে দেখি 
আমি তো আমার নিজস্ব শ্বাসে 
ছিলাম না এতদিন ....!





৮১.
পেয়ারা পাতার উজ্জ্বলতা 
ঠোঁটের স্পর্শ চাইছিল?
ওপাশে করবীর ডালে
কার যেন দুটি হাত ;

কী মনোরম ভাষায় অনুবাদ করছিল কি যে অচেনা অজানা কথামালা !
আমি কি ভুলতে চাইছিলাম এমন কিছু যে সব তারাদের মুখের উপর ভেসে উঠছে এমন সজল চাহুনি 
যেন বুকের কাপড় ঠিক করে নিলো আনপড় কিশোরী !
চাহুনি তে লেখা হয় যে কথা তার 
হাত খানি জুড়ে কেবলই লজ্জা যেন গাঁথা;
এসব সব যেন অনন্ত অভ্যাসে গাঁথা ফুলমালা খানি  ----?

যদিও যে সুবাস অন্তরালে ঘোরে তখন 
সে কথার সবটা কি বুঝি !
তার ভেতরেও এমনই এক মধ্যবিত্ত চাতুরী  অসুখ‌ প্রবেশ করিয়ে সামনে দাঁড়ায় এসে ;

সকলেরই সমাবর্তনে আজ সে কয়েকবার এমন সান্ধভাষায় ডেকে উঠলো ---- 

বলে কি এত অভিমান বলো তো !
দেখো আমি তো জ্বলজ্বল করে উঠেই তোমাকে চাইছি ----

তবু তুমি এত আঁতকে উঠছো কেন !

এই তো কদিন আগেই কত অত্যন্ত আপন স্পন্দন শোনাতে তাকে ;
কেউ যেন হাজার নক্ষত্রমালায় ঘুরে 
টেনে ধরেছিল দুহাতে আর একটি নিঃসীম অন্ধকারের 
প্রস্তর-মুখি গাল ?






৮২.
নিজেকে নিজের থেকে 
আলাদা করে অহেতুক কে করি টুকরো ।

প্রলাপে হাসি ।
সংলাপে হই খন্ড খন্ড।
তুমি সেই টুকরো নিয়েই পোড়াও ।পোড়াও স্বপ্নদের খানিকটা আপন আহ্লাদে ।
তবু আমি জানি , বিশুদ্ধতাই জানে প্রকৃত সকল আরম্ভের অর্থ ও অনর্থ ।
বাকি টা তো টগবগে‌ মাংসের সুবাসে ঘোরা মুখ ;

তাও তো অস্বীকার করি নি !
শিস দিতে দিতে‌ ভেসে গেছি বহুদূর ------ মুঠোর প্রলাপ  ছিঁড়েছি আপনার ঘোরে কেবলই একাকী !

তোমার সকল ক্লান্তির ওপারে 
এই বেঁচে থাকার পথ চলা একাকীর গান নিয়েই ফির তুমি ;

আমি তো হাঁটি
আমার ঘোরে ;
অসুখ যে হাঁটে কার পায় ,.......!






৮৩.
একটু একটু করে 
ইচ্ছেদের মারি।
ফিরে যাই তবুও সেইখানে , যেখানে স্বপ্নরা পা ছড়িয়ে বসেছিল খানিকটা সময় !

বসেছিল 
অথবা বসেনি 
কেউ তাদের মিথ্যে কুয়াশায় ভরা বারান্দার স্থিরচিত্র এঁকে দেখিয়েছিল কল্পনায় ?

সে যাই হোক 
যেভাবেই হোক হেঁটেছিলাম
গেয়েছিলাম দুহাত ধরে যেন ;
তারপর একে একে‌ পাহাড় জঙ্গল ভেঙে নেমে এলো হড়কা বান ....

সব মুহূর্ত ই হারালো 

বাতাসে সিদ্ধ মাংসের ঘ্রাণ ।

সে যে কোন দিকে যায় ?






ছবি : কল্পোত্তম


পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




৭০.
সব উল্টে যায় ----
যেভাবে হোঁচট খেয়ে
পড়ি পথের দিকে চেয়ে ;
কত আকাশের মাঝে গড়িয়ে গড়িয়ে ভাসে দেখি আমার কঙ্কাল ....;

অফলাইনে এভাবেই সকল প্রফাইল বিবর্ণ আজ---

পাল্টাতে পারি না ।
পাল্টে পাল্টে যেভাবে মোহনীয় হও , 
তার উল্টো পথে নিজেকে করি আরো বিবর্ণ ।

পথ , পথের দিকে চাইতে চাইতে কুকুরকুন্ডলী শোয় ;
আমি কী নিয়ে ফিরি ,কী নিয়ে করি 
তাঁর ঘরের খোঁজ...?

তার অবহেলাই 
তাঁর খোঁজে
এমন ঠিকানাবিহীন করলো আজ !





৭১.
আমার অসহায়তা কি খুব বড় ?

তার থেকেও এই যে মুখথুবড়ে পড়া মেঘরোদে ছুটছে যে সব দিকবেদিক শূন্যতারা ----
তার থেকেও আরো যেন কত অসহায়তার 
অন্তরীক্ষে  এলোমেলো সেই  হাওয়াদের পথ .....

তাই তো জানি 
এসবের ভেতর কত তুচ্ছ এই যে আমার 
                  সকল না পারা ,
          না পাওয়া জীবনের 
কয়েকটুকরো মান-অপমানে নীল 
হওয়া মুখটি ----;

দুপুর রোদে দু'পা প্রশস্ত করে , জিভ বার করে , যিনি শরীরে মাখছেন দোমাটি , তাঁর শম্ভুনিশম্ভু সংসার কথা ভাবতে ভাবতে যে পথ পেরোচ্ছিলাম একাকী ......
কে যেন পেছন থেকে ডেকে উঠলো বাবার গলায় ; না কি মায়ের কথা মনে পড়লো আজ একবার 
             এই আসন্ন অমাবস্যার ঘোরে ...!

কানতে পারলাম‌ না ।
সেও যেন মা হয়ে মুহূর্তে হাত রাখলো 
              ‌মাথায়---- ?
মনে পড়লো , এই তো 
যে মুখটি আস্তে আস্তে 
             মিলিয়ে যাচ্ছে ..... 

নেহাতই চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলাতে , সেও কি আমিই ছিলাম ?
ছিল কি আমার ম্লান মুখ কিছুটা তার 
          কোলের ভেতর 
                    মুখথুবড়ে পড়ে ?

দুটাকার ফড়ে উঠলো হেঁকে , একশো টাকার বেহিসাবে  ?

আমি তো শূন্য , দিল খানিকটা গুটখা ঢেলে ----- বললো , ধার মেটেনি ---- এই ধার মিটিয়ে তবেই পরের 
                  হিসেব ;

মনে পড়ছিল শ্মশান ঘাটের পাশে ডোমকন্যার জলজ্যান্ত হাসির কথা 
                খানিকটা ---- 
মনে পড়ছিল শিশুকন্যাটিকে কাঁধে করে যে পিতা মুখে আগুন দিল তার.....দিল নিথর দেহটি প্রবেশ করানোর আগে ; তার 
           এই হাহাকারের কথা 
                     কে আর ঠিকঠাক বোঝে , তুমিই বলো না ?

পথ ভাঙছি , এই তো দুপুরের পথ একাকী 
             ‌ছুটতে ছুটতে 
কেউ কি তাড়া করলো 
              আজ আমায় ?

কে সে , আমার পেছনে পেছনে চলেছে ......?






৭২.
কত ভাবে 
কত গোপনীয় অন্তরাল ভেঙে 
সে যে নদী হয়ে যায় 
           কেন ......?

হতবাক হয়ে যাই ----

তুমি তো মাথা চুল্কিয়েই মরলে কেবল ;
তাই না দেখে 
 ব্রহ্মান্ডের সকল নকশারা উঠলো হেঁসে ---- বললো , খুঁজে পেলে না তো ?
খুঁজে পেলে না তো ,ওই বদ্ধ পাগলই 
পায় আমায় খুঁজে ----কারণ , বস্তুর বাইরে যে যে রহস্যে তাঁর শরীরে আমার অন্তরাল ঢেউ খেলে ... তাকে দেখতে হলে তো ওই পাগলের কাঁধে চড়ে 
         এই বৈতরণী
                    পার হতে হবে ---

জানি , তা তুমি পারবে না বলেই 
খুঁজে পাবে না সেই 
           অলৌকিকতা ---- ;

এই সব 
হাবিজাবি চিবোতে চিবোতে যখন পথ 
            ভাঙছিলাম
মনে পড়লো ,ও হো ----- আজ তো পাওনা দেনার খাতা থেকে 
মৃত মায়ের নামটা 
       খারিজ না করলেই 
                 নয় ....।

দম বন্ধ করে 
দম ছাড়তে ছাড়তে 
তাঁর মুখটি দেখবো বলে আকাশের দিকে চাইলাম কয়েকবার ---- ওমা ! সমস্তটা  জুড়ে তাঁর মুখটি দেখি লাল মেঘের ভেতর --- উঁকি দিয়েই যেন ডুবে গেল নিমেষে...






৭৩.
সকল মুখ আনন্দদের পেয়ে নদী হয়ে ঝিরঝিরে হাওয়ায় মেশে যখন , সেই বাতাস কথাদের দিকে চেয়ে একবার অন্তত 
          নতজানু হই ---- ভেতরের সকল মোহর গড়িয়ে দি সেই নর্তকীর পায় ----?

সেও যদি না নেয়  ঘোর প্রলাপ , আপন প্রবাহের মজা খালে উজার করি সেই অর্ঘ ----- তাঁর দিকেই সকল যাত্রা পথ ----- তাতেই অলিখিত প্রলাপ আঁকি পুনরায় ; না না মন্ত্র নয় , নয় বিলাপ ---- তবু সেই ঘুরে ওঠাতেই ধরে রাখি সকল জলকল্লোল .....! 

চেও না তির্যক আর , রক্তের অকথিত সম্মোহনে 
           ফিরে দেখো 
ওই তো বারান্দা পেরিয়ে চলে গেল রাতের সকল কুয়াশারা একলা পায়ে ......

সে তার নদীকে 
দুই পার ভেঙে  পারলো না তবুও ছুঁতে
              এই জন্মে যেন....;

বিশুদ্ধতার সকল , কোন কোনের আসন খোঁজে যে ,
বুঝতে পারি না কিছুতেই যেন ---;





৭৪.
এই মুগ্ধতা কি সত্যিই
            পাওনার ?

কতকালের উচ্ছাসে মোড়া সে রক্তস্নান !

যে মুখটি রাতের বিছানায় পাঁচ আঙুল 
কপালে রেখে আড়মোড় ভেঙেছিল ,
সেও সামনে এসে সব ধারণা পাল্টে দেয় ;

এমনই হয় বেলা পড়ে এলে 
বারান্দায় সব বিকেল হামলে পড়ে ।
তখন ছায়াদের ঘিরে পাখিদের ডানায় ফেরার সকল ক্লান্তি 
           মেখে নেওয়া .... !

তার ভেতরেও
কত মুখ চাওয়াচায়ি 
ঘিরে ধরে যে দুই হাঁটু জুড়ে ;
তাতেও অনেক নখের বিস্তার , অনেক 

বড়ো হাসি নেই কোথাও
চেয়ে চেয়ে দেখা আছে ক্লান্তিহীন ---- 
সব যেন শীতের সন্ধ্যাবেলার মনখারাপ ;

ওহে বিরহ , তুমি বিরহীর না ?

ঘুরে শোও রক্তের ভেতর । স্নায়ুর !
আমি খুব ভালো করে 
পরিতৃপ্ত ঘুমের পর 
আর একবার ভালো করে কুলকুচি করে ফেলে দি আমার ঘুমের ভেতরে যত সব ভুল স্বপ্নের লালা- বিষ ছিলো ;-----

ওমা ,
সে যে কত দূর থেকে দিনের প্রথম আলোয় মুখ তুলে চায় ----

বিশুদ্ধতার সকল কোন কোনের আসন খোঁজে যে ,
বুঝতে পারি না কিছুতেই ----;





৭৫.
তাকে ভাবা মানে 
রসায়নে মিশতে মিশতে ডুবতে থাকা ;
খানিকটা বাকলে মুখ ঢেকে ধ্যানস্থ হওয়ার 
মতোন ।

যদিও ইদানিং
লন্ঠন ঝুলিয়ে সে আদল বদল করতে চাইছে যে তা বোঝা যায় ।

সে ভালো 
ভালোই হলো 
রাতের ঘোড়ারা বহুকাল সহিসবিহীন 
               ছোটেনি....;
রক্তের দুরন্ত গতিতে গেঁজলা ভেঙে ছোটে যেভাবে অনাদি কালের চোখেরা ....
মধ্যপথে যেতে যেতে যেভাবে দিকশূন্য হয় !

এসব সব অবচেতনে ভাঙতে ভাঙতে 
যেখানে এসে আজ কিছুটা প্রশান্তিতে তুলেছিল মুখ স্নায়ুর গভীর , একে অন্যের ভেতর হাঁটু ভেঙে বসতে চেয়েছিল 
          যেভাবে একদিন ;

এর বেশি কিছু কি জীবনও চেয়েছিল ?
না , চাওয়ার অধিকার জানাতে উঁকি দিয়েছিল তাঁহার সত্যে ?

ওই তো 
কত প্রশান্তির হাওয়ায় গড়িয়ে গড়িয়ে 
ওই ফসলের ক্ষেতে অবুঝ ফড়িংটার কী হাল  !

কই , কেউ  এই সব পোকামাকড়ের জীবনের কোনো হিসাব রাখেনি তো !

নাকি কেউ কারো অপ্রয়োজনে মাখামাখি পড়ে থাকা 
শীতের নিয়রে
সেই সব ক্ষেতের দিকে 
কখনো পেছন ফিরে 
 একবারও কি চায় ?!





৭৬.
ঘুরতে ঘুরতে এতটাই ঘুরে গেছে ছায়া সমৃদ্ধ; 
কোন দিক থেকে তাতে আবৃত হবো ?

ভাবতে ভাবতে আজ তাকে পাঠালাম আমার অনেক পরাজিত হাতের আঁকিবুঁকি । সেও হাত উল্টে হাত নয় 
হাতের ছায়ায় মেলে ধরলো মুহূর্তের অনেক কুয়াশা মোড়া খাজুরাহো ;

আমি কি পোড়া মাটির ভাষ্কর্য বুঝি !
না বুঝি পাথর খোদাই মৈথুন রূপ !

কিছুই দেখিনি তো !
দেখেছি জীবন সমৃদ্ধ সমর্পণে যে জীবন পূর্ণতা পায় ;

পথে পথে ঢেউ গুনি ।
বেঁকতে বেঁকতে পথ উল্টাই শরীরে ।
তুমি এসবের কিছুই বুঝবে না তো !
জানতে জানতেই  জীবন একটি প্যাঁচার চোখের নিরিখে হারায়--- হারিয়ে যায় অন্ধকার রাতের তারায় কত সমৃদ্ধ অসমৃদ্ধ ঘুম চোখ যে!

হায়, ফুরায়
সকলই ফুরায় 

একটি কুয়াশা ভরা মুখে !

যেতে যেতে যেমনটা দেখে কেউ কেউ 

সকলেই না ।





ছবি : কল্পোত্তম 


Tuesday, August 9, 2022

বাংলাদেশে লেখা কবিতাগুচ্ছ

বাংলাদেশে লেখা কবিতাগুচ্ছ

দীপংকর রায়



১.
তার কোনো নাম হয় না , একটাই পরিচয় , পথ ভিজিয়ে ঝরে পড়ে অগনিত
ধারায় আত্মহননের শেষ চিহ্নের স্বরূপ যে মত ; ---- ওই ধিক্কার ওঠে সভ্যতার অবিশ্বাস যেদিকে পরিচয় গোপন করে হাতের মুঠোয় ;

এই খুনিকে না চিনে চেন তার পরম্পরার চিবুক যদি , দেখবে শুধুই সিঁড়ি ভেঙে পড়ে আছে উপরের যাত্রী শূন্য খাঁচায় হাওয়া লেগে দুলে উঠছে কতকগুলি হীনমন্য করতালি যেন ; পাখি তো দূর আকাশে কদর্য বাঁকানো ঘাড়ের সন্তরণ ছাড়া আর তো কিছু না !

কাকে করেছিলে চুম্বন !
কাকে করেছিলে লালন বুকের সমস্তটা রক্ত চুঁইয়ে দিয়ে আঙুলের বিস্তারে !

জানো না । জানে না অনেক বোকাদের স্বভাব ভিমড়ি ; জানে সেই ---- যে ছদ্মবেশ টেনে খুলতে গিয়েই দেখলো কতকালের মল মূত্রের ভেতর মুখলুকিয়ে ছিলো প্রকৃত খুনি !






২.
নখের ডগায় ছটফট করছিলো কতগুলি ভুল সাঁতারুদের ঢেউ কাটা ডানার বিস্তার.... ;

নিচেয় উপরে সকল দিকেই ক্ষুধার্ত জলচরপ্রাণীদের বাস।

কোথায় যাবে সে !
অসহায় দুহাত পাততে যেয়েই দেখলো , খিদে আর খিদে ...! কোথাও চেনা -শুনো জানা -শুনো এমন কেউ নেই, কিছুই নেই ,
কাকে রেখে কোন দিকে সেই নখের বিস্তার এড়াবে সে ?

ছটফট করতে করতে
একবার নখ থেকে মুখে , মুখ থেকে নখে উল্টেপাল্টে , একটি রেখার ভেতর নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখা গেল শুধু তাকেই ----

যার হত্যা-লিপি লিখে চলেছে পথের ওই উন্মাদ পরিব্রাজক ......





৩.
যে হাত কোনোদিনও
বার করলে না শরীর থেকে । সেই হাতে এত কদর্যতা লাগালে কীভাবে !

মনে পড়ছিলো অন্নদা পালের সঙ্গে রাত জেগে কোন ছেলেবেলায় যেন দেখেছিলাম খড়-বিচালির ভেতর থেকে বার করে আনা মহিষাসুরের রক্তমাখা শরীরটা কিভাবে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল সে !

সেই বিস্ময়ের বয়স বাড়লো না কোনোদিনও ; অথচ কখন কীভাবে যে শরীরের ভেতর থেকে আরো দুটি হাত অসহায় হতে হতে এত দৈন্য মেখে নিলো
নিরাশ্রয় হয়ে বুঝতেই পারলাম না যেন ;

তবুও এই বের হওয়া হাতের দিকে আজ সারাদিন চেয়ে রইলাম

অপলক --- কী যে অসহায় লাগতে লাগলো , বারবার মনে হলো এই হাতে কখন জড়িয়ে গেল এত কাদা পাক গু মুত বলতে পারো হে আমার সকল বিশ্বাসী
বন্ধুগন , বলতে পারো

লুকোনো এই হাত দুটিতে কখন আমি খুনি হয়ে গেলাম .....?





৪.
হে পরম পিতামহ
আমি সব আপনার হাতে তুলে দেবো বলেই কথা দিয়েছিলাম , প্রথম কেঁদেছিলাম যখন
ফেলে আসার মোহে....

সে সব আপনার জানা নেই তা তো নয়

আমার বিপর্যয়ের কারণ একটাই : আপনি সব দেখেও
জেনেও না জানার ভান করে আমার কাছ থেকে সবটুকু নিঃশেষ করে নিতে নিতেও অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন এক একটা ঝড়ের রাতে ....;

মজা আমি টের পাই না তা ভাববেন না 
সব টের পাই যে তাও আপনারই দান যে, তাও তো অস্বীকার করিনি কখনো !

তাও আপনি আমার বংশ পরিচয়ের কথা স্মরণ করিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত.....;

বুঝি , বুঝি বলেই আমিও আপনার মজায় নামগোত্রহীন পথের রাতের ট্রেনে উঠে পরি নির্দিধায় এই ভেবেই ---- নিশ্চয়ই আশ্রয়হীন হতে হবে না কোথাও 

সে যাক, এইবারের নেওয়া আপনার কেমন লাগলো সেটা বলেন ?

আমার তো মনে হয় ভালোই ; 
আমারও বেশ ভালো লেগেছে ---- এই যে একটু একটু করে আমি আমার পুরোনো ঠিকানার কথা স্মরণ করতে করতে 
একটার পর একটা পথ পাল্টে বাড়ি পাল্টে মুখের সারি পাল্টে আপনার অন্ধকারে আলো খুঁজতে খুঁজতে আরো দূর আলোঅন্ধকারে আপনাকে ডাকছি ---- এ... সে... গে.... ছি..... আ.... প.....  নি ...... কো .... থা.....য়.......





৫.
প্রতিদিন 
একটা করে কাঁটা খুলি 
আর একটা করে গলায় বেঁধাই ।

 এই মাছ লেজ নাড়াতে নাড়াতে সচ্ছ জলের ভেতর 
পাঁক তুলে গোত্তা মেরে আমাকে আদিগন্ত ঘোরালেও স্বভাবে পরিবর্তন
নেই । বরঞ্চ মাছগন্ধে আঁশটে আকাশ খোঁজেই মসগুল আমি ---- বৃষ্টিরাত জানে শুধু এই বিভোর মুগ্ধতার অপর দিকে কিসের খোঁজ থাকে;

একবারও কি জানার চেষ্টা করেছি ,
কেন এত কাঁটা বিঁধিয়ে এমন সুখ  উপলব্ধি করতে যাই ! 

অষুধ আছে । নিইও গোপনে । 
আবার বেঁধে।দেখতে পাই , কী অসাধারণ প্রশান্তিতে চেয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে আমার মুখটি জড়িয়ে এত মৃত মাছেরা ....!

ঝড়ের রাতে আবারও মাছ ধরতে বেরোই 
সেই কবেকার ফেলে আসা পল্লীর পথে- ঘাটে- মাঠে--- বিলেন জলে রাবানী-ঘুনি হাতে একা একা ......

কে যেন আকাশ বাতাস ফাটিয়ে তুম্বশরীর বাঁকিয়ে
বিদ্যুৎ চিৎকারে জানান দেয় , কাঁটা আছে , মাছ আছে , সুস্বাদু ঠাট্টা তামাশায় ভরা সারসের গলা ----






৬.
আমাকে এমন নিভৃতি দেও
যখন এমন শ্রাবণ অন্ধকারে 
তাঁর ফুটে ওঠার ভেতর নিস্পাপ টগরফুলের সকল ঊজ্জল্য অনুভব করতে পারি ;

চোখের ভেতরে ছিলো কাঁকর বিছানো পথ ...
বাইরে ছিলো নগরের অনেক ধুলো ..... 
আর এদের মাঝে আরো ডুবে আছে যারা সব মজা খালবিলে ডোবা-পুকুরের জল 
কিম্বা পাট পচা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে ম ম করা কত সব অলস মুহূর্ত , তারা যে কত দূরের পদ্মা-মেঘনা-আড়িয়াল খাঁ , তাদের সব চাঁদ ভাঙা দেদোল আকাশের কথা কী আর বলবো বলো ,
সেসব যেমন আছে তেমনই থাক ,
চলো , এখন যেদিকের বিস্ময় ভরা চোখে এমন রাতের টগরহাসিটি হৃদয়ে ছুঁড়ে দিল কত না ঠাট্টার হাসি ; 
আহা , সে তোমায় কিভাবে বোঝাই তার উপস্থিতির ভেতর হাজারো সম্ভাবনার মৃত মুখ ,জীবিত !
না কি সে শুধু ফুল হয়ে পথে পথে ,পথের ধারে এই যে এত অবহেলিত- শ্রাবণ চোখের ঢেউ হয়ে গেল  অজানা অচেনা নদী পেয়ে একাকী , তাকে আমি কোন গানে গেঁথে তুলি বল না আজ আর একবার; আমি তো তারই  কাঁকর পথের ধুলোয় চলেছি হাওয়ায় হাওয়া মেখে এই যে নির্জন , বিষণ্ণ, গুরুত্বহীন ;

সত্যিই কি চোখের বাইরে এবং ভেতরের এই পার্থক্য আমি কাউকেই বোঝাতে পেরেছি ?!

শ্রাবনরাতের এমন বৃষ্টিসুখে কতকাল পরে আবার নির্ভার হলাম যেন , অন্ধকারের এই টগরফুলের গাছটার মতো আর কারো এমন শান্তি নেই যেন;






৭.
আমার গল্পে এমন কোনো চমক নেই 
কিম্বা কামড়ে ধরা 
ঠোঁটের বিষরোমন্থন
যাতে শিহরণে শিহরণে সে একটি ফুলেফলে গাছ হয়ে ঝড়ের রাতের উন্মাদ চিৎকার হয়ে যেতে পারে .......

এই সুখ ও শান্তি কোনোটাই নেই ---- তবু রয়েছে এমন কিছু 
          আকাশ খানিক  
    একপোচ বিকেলের
      ঘষা মেঘের ঠাট্টা ; 
যাতে সহজেই যে কেউ এক্কাদোক্কা চি কিত্ কিত্ দৌড় দৌড়তেই পারে - ই নিঃসন্দেহে ;  

তরোয়াল বন্দুক রাইফেল ভেঙে যেতেই পারে , নিদেনপক্ষে এক একটা স্বাধীনতা যুদ্ধের দিন যেন .....
          অন্তরীক্ষে....!






৮.
একজনের নিজস্বতায় নেই কোনো সন্ততি 
নেই প্রিয় অপ্রিয় 
আত্মীয় অনাত্মীয় ।
কেউ নেই ।
এতটাই স্বাধীন তাঁর চলাচল 
এতটাই একার সে ধন 
যাকে আড়ালে রেখেই সে বাঁচে ,
বাঁচায় অন্যকেও এইটুকুর দানে প্রতিদানে , সেখানে সময় সময়ের হাহাকার শোনে শুধু নিজের মতো ; 
কারো জননে-যোনিতে লিঙ্গের উত্থান পতনে---- কিম্বা শ্রেণী বিভাজন 
কোনোটাতেই সে দেয়না বাঁধা ওইটুকু শান্তি ;

তুমি কী ভাবো কুয়োর ব্যাঙ 
কী জ্ঞানে কী বিভাজনে কী অস্ত্রে যাকেই কাটো ,যাকেই খন্ডিত করে তুলে দেও কাঠগড়ায় ; এই মূঢ়তা , বোধের জলাঞ্জলী, যে প্রতিহিংসায় ছোঁয়ালে হাজারো অগ্যতার বিষনখ কোনো এক বটবৃক্ষের মূলে , দেখেছ কি তাঁর রক্তঝড়া অসহায়তা কখনো ?!

দেখোনি । দেখার সেই চোখ অন্ধ আজ ---- মাদারী র দলে তুমিও      জামা পড়া বানরবানরীর খেলাতে 
        লাফ কাটো ;

দূর থেকে দেখি শুধু 
দূর থেকে কাছে আসে সেই মানুষি কখনো কখনো, যার হাতে সময়ের হিসাব নেই ---

চাঁদ কি তখন ঢলে যেয়েও আটকে গেছিল পশ্চিমের দেবদারু জঙ্গলে...... ?!





ছবি : কল্পোত্তম



পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস


৬২.
ছায়া সমৃদ্ধ স্বভাবে 
ঘুরতে ঘুরতে এতটাই 
ঘুরে গেছে 
কোন দিক থেকে তাতে আবৃত হই ?


আজ তাকে পাঠালাম 
আমার পরাজিত হাতের আঁকিবুঁকি ;

সেও হাত উল্টে 
হাতের ছায়ায় মেলে ধরলো মুহূর্তের কুয়াশায় মোড়া অনেকটাই খাজুরাহো 

আমি কি ভাষ্কর্য বুঝি 
না বুঝি পাথর খোদাই 
কিছুই দেখিনি মৈথুন ঢেউ
অন্তরের সমর্পণে 
যে জীবন পূর্ণতা চায় 

সেই ঢেউ গুনি কেবল 
বেঁকতে বেঁকতে 
শরীরেই যেন সকল পথ উল্টাই ;

এসবের কিছুই জানো না হয়তো ,
জানতে জানতেই একটি জীবন পেঁচার চোখের নিরিখে হারিয়ে যায় ---
হারায় একটি রাতের তারায় তারায় আমাদের কত সব সমৃদ্ধ অসমৃদ্ধ ঘুম চোখে যে ফুরায় দিনগুলি

হায় 
সকলই ফুরায় 
একটি কুয়াশা ভরা মুখে !

যেতে যেতে যেমনটা
দেখে কেউ কেউ 

সকলেই না -----





৬৩.
বিন্দু বিন্দু ঘাম রক্তে
গড়াতে গড়াতে
যে ধারা-বর্ষায় প্রাণের প্রবাহ উঠেছিল গড়ে
তার বিপরিতে
আকাশ যে অন্য রঙ মাখে
এ বার্তাও এসেছিল কানে ,
তবু মেঘমল্লারে  
দুই হাঁটু করেছিলাম ভাঁজ 
নিয়েছিলাম তুলে শেষ ঝঙ্কার ,
জানি সে বর্ষার বিদ্যুৎও সেই ;

ভেসে যাবে একদিন সেও সেই ভুলের সন্মোহেই 
পারবে না রাখতে ধরে 
যে গভীরে যায় সেই নির্মোহ !

তার যে হয়নি 
হয়নি দেখা ,
মহাসংগীতের মিলন মুর্ছনায় ভাসা ----

তাও তাকেই চাইছ কেন বাঁধতে ?

কেন তা তো জানি না !
জেনেছে কি সে ?
জেনেছে কি 
কেন তার চোখে বসাতে চেয়েছিলাম অধরার স্বপ্ন-কাজল!





৬৪.
জাটিঙ্গায় শুনেছিলাম ইচ্ছা-মৃত্যুর গল্প 
কোনো একদিন ।
আগুন সম্মোহনে 
কেন যে যায় তারা ...!

যদিও সে আগুন তো আমরাও চিনি যেন ;

তবুও যাই 

তাকে আবৃত করে 
এই যে ঘুরি ,
সেও তো খানিকটা তাই ; 

ব্যবধান এটুকুই 
তাতে দৃশ্যত আগুন নেই 
আছে জলের নিরন্তর বয়ে যাওয়া .....
তাতে বেজে চলে সুবর্ণরেখার পায়ে চলা পথের ধ্বনি ; 

সে মিলনস্বপ্ন ভেঙে 
তুমি কি আবারো যাবে লিখিত কোনো সম্মোহনে !

সে যেন লিখিত নয় 
অলিখিত প্রলাপ আকাঙ্ক্ষা অনিশ্চিত 
                      ঘুম !

তবে যাও

এই তো কদিন আগেই দাঁড়িয়েছিলে 
হাতে নিয়ে বারান্দার প্রদীপ ;
কে যেন বলেছিলো ঘুরতে ঘুরতে, পারবে তো , পারবে তো ....?

যদিও সে সব কারো জন্যেই নয় 
জন্মের অসহায়তা থেকে মুক্তির খোঁজ ?

আছি , ছিলামও ;
বারবার আসি এই পৃথিবীর পথে ডাক দিয়ে যাই ---- 
যদি কেউ শোনে , কেউ শোনে তাঁর আপন সংলাপ ; এই অজানা অচেনা পথিকের সুরে , 
ভ্রান্ত সে কথপকথন ?






৬৫.
দিগন্তের ওপারে নক্ষত্রপথ ধরে ধরে চলছিল যেন কুনোব্যাঙটি ---- মাঠ শস্যক্ষেত কথা বলছিল যেন তার পায়ে পায়ে .....
কত জীবনের কথা সে সব ; তার দুপায়ের ফাঁকে জমে যাচ্ছিল রক্ত ক্লেদ, মৃত ও জীবিত ডাস ঝিঁঝিঁদের অকথিত সংলাপ কত যে ;

চাঁদেদের অট্টহাসিও কিছু ; ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই তার ।বহুকাল পরে কথা পেয়েছিল সে !
কেউ বলেছিল যেন , চলো চলো , ওই তো ওইখানে তিনি জন্ম নিচ্ছেন --- তোমাকে বরন করে ফিরে আসতে যেটুকু সময় ;

একটি প্যাঁচা লক্ষ্য করছিল সে সব । তার ছিল রাতের আহারের খোঁজ ----

ওহে অনাহারী --- অপেক্ষায় থাকো , আমি এক মহামানবের জন্ম প্রদক্ষিণ করেই ফিরবো --- তার পর সব শুনবো তোমার কথা যা আছে ।

একটি নক্ষত্রের দিকে চেয়ে চেয়ে এই যে উৎসাহী পথ , একে কে আর মনে রাখে বলো ; আকাশের ওপারে আকাশ জুড়ে আজ কারো ডাক চলেছে ছুটে ....;

সে শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখে আর মাঠ ভাঙে একা একা .....

সে কার গলায় পড়াবে মালা 
সেই মহেন্দ্রক্ষণ যায় যে চলে ......






৬৬.
ধুলায় বালিতে 
ছায়ায় 
দেনা আর 
      পাওনায় 
বিরহ তোমায় 
   ফেরায় মুখ ;
মানুষ ভুলেছে মানুষের ধ্যান 
মানুষের পাশে 
    বসেছে মানুষ তবু 
          আহারে 
         অনাহারে 
কাহারে তুমি কাহার করেছ ,
ওহে বিরহী 
আমি তো চিনেছি 
              অন্য সুখ ;

বুকে আমার তুলেছে ধুন 
গাইছে গুনগুন
    বলছে কেবলই
        তুমি দেখেছ কি 
বলেছ তারে,জীবন প্রবাহ জুড়ে এমনই সে 
 এমনই তাঁর রূপ!

চাইলে কি চিনতে 
নাকি , ভাসলে কেবলই
    সেই মরা গাঙে....





৬৭.
শত সংকটে থাকলেও 
অভিমান তো 
     তার থেকেও 
          বড় , না ?

আত্ম - মন্থনে যাই
নিঃশেষ করি
          ঘুরে ঘুরে 
       সব দুধ ----
যা কিছু নিয়েই আসো না কেন , যা কিছুতেই 
                হও ;
অভাগার না থাকলেও
      নতুন আলো 
প্রদীপের ছায়াতেই 
 ‌ পড়ি 
       সকল মনুষত্ব ;

ঢেউএ ঢেউএ-ই ক্ষইয়ে ফেলি , যে জলে উজলে দিয়েছিলাম তোমায় লেখা চিঠি ----

ভাসতে ভাসতে ডুবি
দেখি , তাঁর শেষ অস্থি ---- 

একই মাটি পায় ....

যে মাটিতে জন্মেছিল অবহেলিত একটি চারাগাছ ?





৬৮.
সব উল্টে যায়।

যেভাবে হোঁচট খেয়ে পড়ি পথের দিকে চেয়ে।
আকাশের মাঝেও উল্টে ভাসে দেখি আমার কঙ্কাল....।

অফলাইনে 
এভাবেই প্রফাইল বিবর্ণ হয় আজ --- 

পাল্টাতে পারি না । পাল্টে পাল্টে যেভাবে সে মহনীয় হয় । আমি তারই উল্টো পথে নিজেকে করি বিবর্ণ।

পথ পথের দিকে চাইতে চাইতে কুকুর-কুন্ডলী শোয়।

কী নিয়ে ফিরি ,কী নিয়ে ঘরের করি খোঁজ.....?
তার অবহেলাই 
তাঁর খোঁজে ঠিকানাবিহীন করলো !





৬৯.
বেলাশেষের বেলা 

কোথাও একদিন ছিলো যেন রোজের কথা কওয়াকয়ি ;

কোনো একদিন 
শুনেছিলাম 
ইচ্ছা-মৃত্যুর গল্প :
আগুন-সম্মোহনে 
কেন যে যায় তারা ...!

যদিও সে সব সম্মোহন আমরাও চিনি যেন ;

তবু যাই....।

তাকে আবৃত করে 
এই যে ঘুরি ,
সেও তো তাই ;

ব্যবধান এটুকুই
দৃশ্যত আগুন নেই ,
আছে যেন জলের নিরন্তর বয়ে যাওয়া...
তাতে বেজে চলে কত সুবর্ণরেখার পায়ে চলা পথের ধ্বনি ;

সেই মিলনস্বপ্ন ভেঙে 
সে কি আবারও যাবে লিখিত সম্মোহনে ?

সেও যেন লিখিত নয় 
অলিখিত প্রলাপ আকাঙ্ক্ষা ;
নিশ্চিত ঘুমের !

তবে যাক ....

এই তো কদিন আগেই দাঁড়িয়েছিলো 
হাতে নিয়ে বারান্দার প্রদীপ ;
কে যেন বলেছিলো ঘুরতে ঘুরতে ,
পারবে তো , পারবে তো ....?

যদিও সেসব কারো জন্যেই নয় ,
জন্মের অসহায়তা 
থেকে মুক্তির খোঁজ !

আছি ,
ছিলামও ;
বারবার আসি এই পৃথিবীর পথে 
ডাক দিয়ে যাই 
যদি কেউ শোনে ,কেউ শোনে তাঁর আলাপ ;
এই অজানা অচেনা পথিকের সুর ----

ভ্রান্ত সে কথপোকথন?
জাটিঙ্গায় ইচ্ছা মৃত্যু লেখা যেন।



ছবি : কল্পোত্তম 

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...