পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে
দীপংকর রায়
উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস
১৬৩.
একটিকেই চিনি, দুদিকে
প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার...
নৈঃশব্দ সেই ঘুটঘুটে পথে ;
ভেঙে চলে যাই পরবর্তী আর একটির
শেষে...
কে যে কার !
কে যে কোন দিক থেকে শুধুই তাকে সঙ্গে নিয়ে আসে নি , এনেছে তার পর্যাপ্ত রহস্যে মোড়া এমন এক একটি তরঙ্গ ঢেউ...
বাঁকে বাঁকে এমন এক একটি নদীর
পথ চলা...
আহা
সে কি তার চোখের নৌকোয় সাঁতার শেখাতেই এত চৈতন্য দিলো,
দিলো মুগ্ধ হবার অভিনিবেশ ?
মেরু পথ বেয়ে
আড়মোড় ভাঙবে বলেই
শরীরে ধরেছে এত সরীসৃপ আতঙ্ক ?
একটিকেই চিনি ;
হয়তো চিনি
হয়তো চিনিনি আজও ;
না চিনতে চিনতেই
কুয়াশায় সরু হয়ে
স্পষ্ট হয় কারো চোখের নদী-----
নাকি সে শুধুই দীর্ঘ এক সুর...
যদি ঠিকঠাক স্নানে নামতে পারতাম ,
সেই সকালে একবার অন্ততঃ !
১৬৪.
দাহর আগুনে লুকোচুরি করি।
ফুটে ওঠে ফুলেদের কথপকথন ;
শেকড়ের হাহাকার উঠে আসে তবুও মাটির উপরে,
হাতে তুলে ধরি কত না অবক্ত অভিব্যক্তি !
মুখের ছায়াতে ভেঙে চলে জলেদের কথামালা...
ওহে নিরুত্তর
তবুও তুমিই আমার পাথরপ্রতিমা ;
বুকের ভেতর উপুড় হয়ে আছো নিরাশক্তির ঘুমে !
আমি গাছেদের কাছে আর কেন
কান পাততে যাবো বলো ?
সকল ফুলেই নতুন সুবাস আজও,
পাতারা বাজাতে থাকলো
তাই না শুনে
অনেক হাওয়ার খঞ্জনি।
সেই মূর্তিও তুলে দি তোমার মুখে-----
ধুলোর মতো উড়ে চলে যেখানে রোদেদের হলকারা...
১৬৫.
সারাদিন পথ খোঁজে অবসরেরা...
অবসরেরা গালের হাত উঠিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই ,
বন্ধ দরজা উল্টে যায়।
বুকের ভেতর পৌঁছে যায়
দীর্ঘ শূন্যতা-----
ভেতরের কোনো কথা
কোনো দিক থেকেই ফিরে আসেনি।
কীভাবে ভাবি সে ছিলো
অথবা নেই কোথাও------
কাজেরা আমার কাছেই ঘর পাইনি ;
না , আমিই পাইনি কাজের কাছে ?
অনেক ভিড়ে হারিয়ে গেছে কত অকাজ-----
তাদের কোলাজ ভেঙে পড়ে আছে
ওইখানে ?
ওইখানে কত মৃত ও অ-মৃত নক্ষত্রদের ভিড় !
অহেতুক কর্ম-ব্যাস্ততার কত পথ চলা গল্প :
আমি কি সেইসব দড়দালানের সখী-সঙ্গ
কোনোকালে গল্পের ছলে
কানে কানে পৌঁছে দিতে
তাদের অধিক ঘুমের ঘোরে
অনেক অনিশ্চয়তায় হয়ে গেছি
কালপুরুষের অট্টহাসি ------?
১৬৬.
পাক খাওয়া
অপাওয়া গুলি
শ্মশান-শূন্যতায় কুঁকড়ে গেলে
জীবন-মৃত্যুঘোর হৃদয়কে গামছা নিঙড়ায় ;
সে দৃশ্যচিত্র অনুভবে ফেলে
বিন্দুমাত্র দেখে ফ্যালো যদি
জীবন্ত কোনো ডাক------
স্থির জানি
সে কথা হাজার কথার মাঝে
ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে অনেক আগামীর
অনিশ্চয়তা------
অদৃশ্য সে পথের কান্না গান সব কিছু !
জানি জানি ,
তাও তোমার দৃঢ়তা কোনো ; ত্যাগ .....
যাইহোক সে ,
তুমিই করেছো
পার চৈতন্যের অনেক
অন্ধ-পথ ----
সেও অনেক কঠিন সত্য ;
যা অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার -----
যে পথে
হাতে নিয়ে দীর্ঘ ছড়
চলেছি টেনে
বাতাসের বুকে ...
নদী যেন সকল পথেই ভাসায়
উভয়ের ক্লান্তির
দু'চোখ তবুও...
১৬৭.
পুঁথি-ঝড় থেকে শব্দ তো পেলে
পেলে বিলাপও ;
তবুও অস্বীকার করো সকল সত্য------
ঘুরিয়ে
যতোই ঘোরাও নাক ,
মুড়িয়ে দেখাও নির্বোধ
এসব কোনো ঘটনার
হাততালিতেই
জেনো না
পরিত্রাণ লেখা আছে
এখন যে গালে পড়েছে টোল-----
এখন যে গালের গলাগলি ছোঁয়া
আগুনে উঠছে ভাপ------
হায় , তাই একদিন
ভেসে যাবে দু-কূল...
দুকূল ভেঙে তুবড়ে যাবে
দুমড়ে যাবে নিটোল
বক্ষস্রোতে যে সব সাঁতারুরা এসেছিলো
উজানে .....
সে সব সবই হারাবে ,
হারাবে
পুরোনো পুঁথি ঝড়ে একদিন সব...
সেদিন
আবার তুমি নয়
তোমার ছায়ারা জন্ম নেবে
এই পৃথিবীর ভ্রান্ত দিকে দিকে
কোনো...
১৬৮.
স্নায়ুর ভেতরে পাক খেয়ে ঘুরে শোবো যে
তারও উপায় কোই ?
পড়শি আঁকশি বাঁধিয়ে বিঁধিয়ে দেয় বর্শা
যৌথ বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাবো যে
তারও উপায় কোই ?
জুতো হাতে তাই কুঁজো হই ,
গুড়ি মারি ,
উল্টে ঢাকি নিজেই নিজের মুখ ;
লজ্জা হয়
গ্লানি ,
ভেবে মরি সারাদিন যাকে
সে কি একান্ত প্রশান্তি আমার ?
নাকি দূরে আছো বলেই
এত টান কাছের?
তুমিই গোপন আনন্দ খানিক ,
একা একা খেলার আহ্লাদ ?
যদি তাই হয়
তাহলে এমন কেন হয়, যেদিকেই পরিবর্তীত করি
যেখানেই স্বজন খুঁজি,
ঘুরে আসে হাজার বর্শা বল্লমের তীক্ষ্ণ ধার -----
চলে যায় শিরদাঁড়া ফুঁড়ে কথার ত্রিশুল যতো ------
আমাকে পরিত্রাণ
বলো ,
ফেরাও আমার ঘুম
তোমার তন্দ্রা ছুঁয়ে ---- ;
ঘোরাও বাঁশি
ফেরাও ঢেউ
জল হয়ে বয়ে যাও স্নায়ুতে
আয়ুতে বায়ুতে
ও আমার ভুলের সাগর
পূর্ণ হও তুমি ;
স্নানের প্রকৃত অবগাহন চেনাও।
১৬৯.
একদিন একটি দেশের প্রকৃতি তার সঙ্গে মিশিয়ে
পাতা ঝরার শব্দ পৌঁছে দিত যে গাছগুলি --------
কী আনন্দেই না আঁতকে উঠতো
সেই সব বিস্ময় বিহ্বলতা ---- গোটা একটি আকাশ কেড়ে নিতো মুঠোর ভেতর থেকে ------
কোথাও কোনো মেঘের চিহ্ন পর্যন্ত না রেখে
ঝকঝকে আকাশ থাকতো তার মুখমন্ডল জুড়ে ;
কুয়াশা না সরলেও
এমন অপেক্ষা আগলে বসে থাকতো শীতের ভোর গুলি-----
খুঁজে বেড়াতো কাকে যে !
তার জন্যেই সব কিছু মানবিক ;
সব চিহ্ন হারিয়ে আবার অমানবিক হতেও কুন্ঠিত নয় যেন ;
সেই মহামানবিকতা ছুঁতে
কবে যে সে এতটাই হয়ে উঠলো
কবে যে সে সব বুঝবার জন্যে
সেই শক্তিতে পৌঁছে
মহাশক্তি রূপ ধারণ করলো;
আমিও কি সত্যি সত্যি মানুষ হয়ে উঠলাম জন্মের সব হিসাব খুইয়ে ?
ছুঁয়ে ফেললো তাকেই যে আমার ভেতর
দ্বি-সত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ;
তার প্রকৃত স্বরূপ প্রদর্শিত হলো তখনই ?
যার জন্যে কোথাও কোনও বিরহ বিচ্ছেদ থাকলো না একটুও
সে একটি খন্ড দেশ জুড়ে
আর একটি পৃথিবী কীভাবে যে
কাছে এনে দিলো মুঠো খুলে,
যেন মুঠোর ভেতর সম্পূর্ণ হলো সেই কথা
যে কথা কাউকে চিৎকার করে বলবার মতোন না ।
ভালোবেসে সে
এত সব সীমানা ভেঙে
এত দেশ গাঁ
একাকার করেই
আমার সঙ্গে পথে পথে ঘুরলো সারাজীবন ?
সে কি সত্যি সত্যি
তাকে
ঘরবন্দী করতে চাইলে
কোনোদিনও
এই ভাবে কাছে কাছে পেতো ?
১৭০.
জল-জঙ্গলের কাছে গেলে বাদাবন ডাকে
নিচু হয়ে উঁকি দিয়ে ,
মনে হয় ওই বুঝি
আমার গাঁয়ের গাছগাছালি ঘেরা গলি পথ
ডাকছে আমায়
এখানেও ঘর ছিলো, হারিয়ে ফেলা ঘর ?!
জনমানবের দেখা নেই তো !
বাঘ হরিণের দেখাদেখি চলে শুনি ,
কুমির বুনো শুকরের টানাটানি, আকাশ জল কোলাকুলি করে ঝরজলমেঘে ------
ঢেউ জাগে মানবের হৃদয়ে
মানসীর সুর পেলে
কোনো এক পূর্ণিমায় কখনও কখনও.....?
সেই সুরের পথ চেয়ে
গোটা এক একটি জীবন
প্রতিক্ষায় ঘুরতে আসে বুঝি এইখানে রাত জেগে কখনোও কখনোও ?
আমি কি সেই হৃদয়ের খোঁজে
হন্যে হয়ে ঘুরি দিগন্তের পথে পথে ?
কেউ সারা না দিলেও
বাদাবন হোগলা গরান এর সারীরা নোনাজল ছুঁয়ে
ইশারায় জানায় আমাকেই, কেন এই সব
নির্জনতা ভাঙতে আসো তুমি ?
আমাদের ভেতর কত কোলাহল তার খোঁজ কিছু রাখো কি ?
ওই দ্যাখো হর্ণবিল ডাকতে ডাকতে চলে গেল জঙ্গল থেকে ওই জঙ্গলের ওপার -----
সে কোন দেশে তার চলার পথ নির্ধারণ করলো
সে কথা তো জানা গ্যালো না !
ওই দিকে নদী ঘুরে গেছে মানুষের অন্য দেশে...
পাখিদের নদী আকাশ মাটিতে কোনো দেশের নাম লেখা নেই ।
১৭১.
হ্যাঁ ........ আঘাত থেকেই সে মুখ ফেরে
আঘাত থেকেই গড়ি অবয়ব ......
তোমার আঘাত তোমার নয় ?
তাহলে আনন্দেই লেখো বুঝি, গড়ো, কীসের কথা দিয়ে মাঠের চিৎকার ?
ফসলের হাহাকার শুধু কি ফসলের ?
নাকি একবিন্দুও ফসল নেই ? আছে তবে কোন হাওয়ায় গড়া চাষ, জীবনের দাবদাহ ?
অনাহারে, কর্মহীন মানুষের যত কথা
এযাবত বুনলে আঙুলে, সে কি তোমার আনন্দের ?
দুঃখ দিয়েই গড়ি তার সঙ্গে যাবৎকালের বিচ্ছেদ-কথা।
তারাও নিচু হয়ে হেঁটে আসে
আমার রক্তের স্রোতে...
সে তরঙ্গে কত চাষ-কথা থাকে যে ,
তার একটিরও
প্রবাহ কলকায় তুমি ডুবতে পারো নি বলেই
তোমার মনে হয়
সবই শোকগাঁথা ;
বিরহের কত মুখ,
যে করেছে জীবন সেই জানে! জানে না সে , যে কখনোও বাসেনি ভালো ,
তার ভাবনায় কোথাও মূর্তি নেই ।
বিসর্জনও দেখেনি সে । দেবী ভেসে গেছেন অনেক দূরে নির্জনে...।
১৭২.
কোনো বিজ্ঞাপন দেবার নেই।
তাও বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ধরা দিই।
বন্ধুত্ব চেয়ে এইমুহুর্তে তেত্রিশজন
হাত বাড়িয়ে আছেন ---
সারাদিন বিজ্ঞাপন পড়বো?
চেয়ে বসে থাকবো বন্ধু ?
জানি না ফেরাতে বোধ, ধরা দিই অন্য কিছুর মোহে ?
না বন্ধু, আর তুমি বাড়িয়ে ধরো না তোমাদের রকমারী ;
বাজার চিনিনি। বাজারে না যেয়েও দিন যায় না ।
ও মাসি , আজ কলমি শাক আনো নি ?
ভুঁই-কলমির ফুল দেখেছো কি তুমি , বা জলকলমির ডগায় কেউটের বাস ?
এক আঁটি নিম পাতা দেও , কাঁচা হলুদ কিছুটা ,
সামনে বসন্ত এলো যে!
১৭৩.
মা, তোমার কোনো পরিচয় দিতে পারিনি আজও ----
মাতৃ -বিয়োগ কে যোগফলের অঙ্কে ফেলে পরাজিত আমি ,
সে তো কত কিছুতেই
একটি সরলরেখা আজও ;
আজও পরিচয়হীন
অস্বীকৃত
দেশহীন, ভূমিহীন
উদ্বাস্তু তোমার সন্তান।
কোনো গল্প নেই ।
কোনো স্মরণ সভা নেই ----- নেই তোমার জন্য কোথাও কোনও লজ্জা ---- অথচ শুধুমাত্র তোমার জন্যেই ছুটে যাই
যত মা ফিরে চলেছে অদৃশ্যে ----
যত মাকে নিয়ে ঘিরে চলেছে স্মৃতির সরণী ......
মাগো, তুমি তো পরিচয়হীন সন্তানের মা ,
একটি ছোট্ট স্বরচ্ছেদেই তোমার মুখখানি আমার হৃদয়েই শুধু -----
মাগো তোমাকে খুঁজে পেতেই
আজও গেছিলাম এক মাতৃহারা সন্তানের দ্বারে,
কপর্দকহীন
সামান্য একগাছি মালায়
তোমাকেই বরণ করবো বলে ছুটে গেছিলাম
মাগো, কোথাও তোমাকে পেলাম না।
পেলাম সেই মাকে,
যাকে দেখবার কোনো পরিচয়
আজও অর্জন করতে পারি নি ।
১৭৪.
দৃষ্টান্ত এঁকে চলেছ তুমি যে,
সেকি জানি না মনে করেছো ?
তোমার প্রত্যেকটা নৈকট্য
প্রত্যেকটা সহানুভূতি
পরিমাপের দরজা ডিঙিয়ে
আমাকে কতটা বিস্ময়
জাগিয়ে তুলেছে যে....
তা যখন ভাবি
একদিকে মনে হয়
সত্যিই কি তোমাকে চিনি ?
না, চেনার যে সব দৃষ্টান্ত
এতকাল ভেবেছিলাম
তার ভেতর না চেনার অচেনা হয়েই থেকে গেছো তুমি ।
আমার স্বীকৃতি অস্বীকৃতি
কোনোটাতেই আজ আমি আর
তোমাকে কেন কাউকেই মনে রাখি না।
যেদিন মনে রেখে তোমাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরেও
কোনো পরিচয় খুঁজে পাইনি
সত্যিই কি আমার কোনো আত্মীয় পরিজন আছে কোথাও ?
একা আমিই কি আত্মীয়হীন
নাকি সকলেই সকলের কাছে দুহাত পেতে বসে আছি ?
এই শূণ্য হাতে আর কত অপরিচয় তুলে নেবো বলো ?
ভালোই হলো
এই বসন্তের আমি আর কেউ না যেমন,
তেমন তুমিও...
১৭৫.
আজ তুমি আমায় ধমকে চমকে চালাকি ভেলকিতে জ্বালালে ঠিকই
অসহায় রাত্রি দিলে ঘরে ফেরার ,
পথের কুকুর দিলে দু'চারটি ,
স্ত্রী-সন্তানের চোখেমুখে অনিশ্চিত অস্থিরতাও দিলে ;
তা দেও ,
তবুও আমি এই পথ-চাওয়া আনন্দ থেকে প্রিয় মানুষের জন্যে
অপেক্ষা করবোই -----
তুমি যতোই ঘোরাও তবুও
আমার উঠোনের মাঝে সাদা হয়ে নুয়ে থাকে যে করবীর ডাল , তার সবটুকু উজ্জ্বলতা খুঁটে তোমাকে বরণ করবো বলে সারাদিন অপেক্ষায় থাকলাম।
তুমি ভাবলে ,
না বুঝি পেতেছিলাম শূণ্য দুহাত তোমার দিকেই বুঝি ;
না না , সে ভালোই জানি
এই হাত ভরাবার ক্ষমতা তোমার নেই।
নেই মানে, যে নিজেই শূণ্যে বাড়িয়ে আছে সে কাকে দেবে তার পূর্ণতা ?
১৭৬.
কবিতায় তোমাকে লিখতে চাই না।
কবিতা আমাকে দিয়ে লেখায়
তার বিষাদ।
লেখায় তোমার মনুষত্ব হারানোর গল্প।
ফিসফিসিয়ে ওঠায় ,
তোমার রাক্ষসী মুখের বিবর্তন চেনায় ।
কবিতা আমাকে দিয়ে যা খুশি করে উন্মাদ নাচায় ,
তোমার চিৎপাত হয়ে থাকা শরীরটাকে ঘিরে যত উন্মাদ নাচি, কবিতা হাসে, কবিতা নগ্ন করে কাঁদায় তাকেই ,
যে ফেরে কুৎসিত রাত্রি কাবার করে
তার আত্মায় একদিন ;
কবিতা তারপরও
আমাকে জাগায় ,
তোমাকেও?
হয়তো এই জন্যেই, তোমার পথের চির অপেক্ষা যায়নি আজও
তাই, আমি কবিতায় তোমাকে লিখে চলি যে
এই জীবন-প্রলাপ .....
তুমি ভাবো কি আজও আমি কবিতা লিখি না , লিখি তোমাকেই, তুমির আড়ালে যেভাবে বর্ণহীন ছেনাল হয়ে যাও তুমি,
প্রতিদিন একটু একটু করে...
কবিতা লিখি না
লিখি , তোমার অমানুষিক প্রলাপ শুধুই কবিতার গোপনে।
১৭৭.
এবারের বসন্তে পলাশ গাঁথবে একা তুমি,
এবার ফাল্গুনে আমাকে পাবে না কোথাও
তাতে কি নীরবে বাজবে
সব সুরগুলি.....?
উন্মাদ হবে সেই মেয়েটিও তার তালে ;
উত্তাল হবে সকল রংগুলি এদিক ওদিক ; আমি থমকে দাঁড়াবো না বলে কি, সেও চাইবে না কোনো দিকে আর ?
তার বিস্ফারিত চাহুনি সদাচঞ্চল হবেই জানি
আলোর সম্মোহনে ;
এই চির সত্য কে আর না জানে ,
কোথাও আমার অপেক্ষারা
বাজাবে না এমন সুর
যাতে তার তাল কেটে যাবে !
বসন্ত আসে এমনই কত থাকা না থাকাকে ঘিরে ,
তাই বলে কি ফুটবে না আবার কোথাও পলাশ ?
