দীপংকর রায়
উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস
৪৪.
এ বাসর তো ছায়াপথে প্রাণের প্রলাপ গাইছে,
কোটি কোটি তারায় .... কতকাল ধরে যে, সে কথা ভাবলে, কত স্রোতধারায় ভাসি....!
সে সব যদি ভাবি একবারও , তবে ফিরে যাই অনেক জন্মের শুভ শুচনার মহেন্দ্রক্ষণটির কাছে যেন বারবার ;
তখন কোথাও কোনও
ভাষা নেই
আছে রাশিরাশি বোজা চোখের একটিই মুখ যেন সে ;
যা এই নিঃশব্দের রাত লক্ষকোটি বছর একান্তে অনুবাদ করে চলেছে যেন কানে কানে .......!
৪৫.
সেদিন অন্ধকারে যে ফুলটি দেখেছিলাম
ফাগুন-পলাশ নামে ;
তার চোখের তারায় তারায় জ্বলে উঠেছিল যে সব জীবনকথা ----
তা যেন জানে আরো একা একার কেউ ;
তা যেন জানে সেই শুধুই !
যে আছে ওই উঁচু পাহাড়ের মাথায় মুখটি গুঁজে;
আরো ঘুমে গেছিল যে সে , নাম না জানা পথিক এক , তাকে কেউ কি চেনে আদেও !
বছর যায় , মাস
তারই শ্বাসের শ্বাসাঘাতে আজও সেই রাতটি পায় না তাঁকে তেমনটি করে আর ----
জীবন যেন এমনই ;
ওহে ফাগুন- আগুন
পোড়াও যে কাকে তুমি কোন আলোয় ;
জ্বালাও তোমার সেই না পাওয়া বেদনসুরে আরো এই বুকখানি ;
যে অনন্তরাগে পায় সে আপন আপন সুরের কথাটি ----
যে কথায় ঘুমে গেছে কার যেন বিষণ্ণ মুখখানি , চিরকাল ..!
৪৬.
তার লাল-কালো-হলুদে
সকল কালো
ধুয়ে নিই ----
ধুয়ে নিই তার মুখের আলোয়
এমন সকাল , যখন সে খুঁজে বেড়ায়
চোখে চোখে
এমনই একটি দিন
যার ওপারে
কার দেখা !
দেখার কোন সে ভুল
ফোঁটায় ফুল ;
হলুদ লাল আর কালোয় থাকে
কোন সে রঙের গভীর ঘুম ?
ও পলাশ
কোন সে রঙে
তাঁর রঙিন হওয়া বলো , সেটাই ভাবি ;----
৪৭.
ফুরায় দিন
ফুরায়
সন্ধ্যা ডাকে,
এমন দিনেও তুমিই
জাগাও
যেদিন যায়
শুধুই মেঘের
ফাঁকে !
শাঁখে শাঁখে
ওই তো দূরের গাঁ...
রাঙামাটির ধুলায়
ওড়ে
ওড়ে তার পায়ের ভার
বুকটি করে খাঁ খাঁ ;
জানি কি তার
সকল রঙ
পড়ে কেন ঢলে ?
যেও না
যেও না ফেলে
আগলে রেখো
এমন খেলায়
যে হেলায়
এমন বেলা পেলেই
দিনটি করি শুরু
শেষের সে দিনটি
ভুলে ...!
৪৮.
আজ মনে হলো
তার কাছে যাই ---
তুলে ধরি চিবুকটি ,
অথচ শরীরটাই ;
মন কই মনোরমা !
ঘরের ভেতরে আকাশ হাউমাউ করে উঠলো চাঁদ -তারাদের নিয়ে ।
ওখানে কে দাঁড়ানো !
আমি কাকে ছুঁই!
কার বুকের ভেতর এই নিঃসঙ্গ মুখটি ডুবিয়ে কে চিৎকার করে উঠলো !
দেখি রক্তের তরঙ্গে সাঁতার কাটছে ----- আগুন-পলাশের ঢেউএ ঢেউএ......;
তবে কি বসন্ত এলো
ওহে তোমার প্রদীপে !
এই রাত
আরো কতো সহস্র বছর ওই অন্ধকারের তরঙ্গে তরঙ্গে
ভাসতে ভাসতে চলে যায় যে
সেই মহামিলনের অপেক্ষায়
সেটাই ভাবছি -----
৪৯.
ছোটো তো ছোটো নয়
বড়ো কে নেয় খেয়ে ;
তাকে আগলাতে যেয়েই
সে হয় দিকশূন্য ---
আর
এই সত্য বুঝতে পারি না বলেই
কত জন্ম জন্ম নয়
মিথ্যের কোলাহলে
প্রজন্মের পর প্রজন্ম
যায় হারিয়ে ----
আমরা দোষ দিই
সময়কে
দোষারোপ করি
সমাজকে
চলে যাই শ্রেণীসংগ্রামে
বুঝি না
কেন যে আগলে ছিলাম -----
ছোটোর গর্ভেই ছিল
বড়োর মৃত্যু কাহিনী লেখা .......
( ছবি : কল্পোত্তম )

No comments:
Post a Comment