Tuesday, June 28, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



৪৪.
এ বাসর তো ছায়াপথে প্রাণের প্রলাপ গাইছে,
কোটি কোটি তারায় .... কতকাল ধরে যে, সে কথা ভাবলে, কত স্রোতধারায় ভাসি....!
সে সব যদি ভাবি একবারও , তবে ফিরে যাই অনেক জন্মের শুভ শুচনার মহেন্দ্রক্ষণটির কাছে যেন বারবার ;


তখন কোথাও কোনও
ভাষা নেই 
আছে রাশিরাশি বোজা চোখের একটিই মুখ যেন সে ;


যা এই নিঃশব্দের রাত লক্ষকোটি বছর একান্তে অনুবাদ করে চলেছে যেন কানে কানে .......!





৪৫.
সেদিন অন্ধকারে যে ফুলটি দেখেছিলাম 
ফাগুন-পলাশ নামে ;
তার চোখের তারায় তারায় জ্বলে উঠেছিল যে সব জীবনকথা ----


তা যেন জানে আরো একা একার কেউ ;
তা যেন জানে সেই শুধুই !
যে আছে ওই উঁচু পাহাড়ের মাথায়‌ মুখটি গুঁজে;



আরো ঘুমে গেছিল যে সে , নাম না জানা  পথিক এক , তাকে কেউ কি চেনে আদেও ! 


বছর যায় , মাস  
তারই শ্বাসের শ্বাসাঘাতে আজও সেই রাতটি পায় না তাঁকে তেমনটি করে আর ----

জীবন যেন এমনই ;
ওহে ফাগুন- আগুন 
পোড়াও যে কাকে তুমি কোন আলোয় ;


জ্বালাও তোমার সেই না পাওয়া বেদনসুরে আরো এই বুকখানি ;
যে অনন্তরাগে পায় সে আপন আপন সুরের কথাটি ----


যে কথায় ঘুমে গেছে কার যেন বিষণ্ণ মুখখানি , চিরকাল ..!





৪৬.
তার লাল-কালো-হলুদে 
সকল কালো 
ধুয়ে নিই ----


ধুয়ে নিই তার মুখের আলোয়‌ 
এমন সকাল , যখন সে খুঁজে বেড়ায় 
চোখে চোখে 
এমনই একটি দিন 
যার ওপারে 
কার দেখা !


দেখার কোন সে ভুল 
ফোঁটায় ফুল ;
হলুদ লাল আর কালোয় থাকে 
কোন সে রঙের গভীর ঘুম ?


ও পলাশ 
কোন সে রঙে  
তাঁর রঙিন হওয়া বলো , সেটাই ভাবি ;----





৪৭.
ফুরায় দিন 
         ‌ ফুরায় 
সন্ধ্যা ডাকে,
এমন দিনেও তুমিই
              ‌জাগাও 
 যেদিন যায়
       শুধুই মেঘের 
 ‌                   ফাঁকে !

শাঁখে শাঁখে 
   ওই তো দূরের গাঁ...
রাঙামাটির ধুলায় 
ওড়ে 
ওড়ে তার পায়ের ভার 
বুকটি করে খাঁ খাঁ ;


জানি কি তার 
          সকল রঙ 
পড়ে কেন ঢলে ?


যেও না 
যেও না ফেলে 
আগলে রেখো 
           এমন খেলায় 
যে হেলায় 
এমন বেলা পেলেই 
দিনটি করি শুরু 
শেষের সে দিনটি 
                    ভুলে ...!






৪৮.

আজ মনে হলো 
তার কাছে যাই ---


তুলে ধরি চিবুকটি ,
অথচ শরীরটাই ;
মন কই মনোরমা !
ঘরের ভেতরে আকাশ হাউমাউ করে উঠলো চাঁদ -তারাদের নিয়ে ।


ওখানে কে দাঁড়ানো !


আমি কাকে ছুঁই!
কার বুকের ভেতর এই নিঃসঙ্গ মুখটি ডুবিয়ে কে চিৎকার করে উঠলো !


দেখি রক্তের তরঙ্গে সাঁতার কাটছে ----- আগুন-পলাশের ঢেউএ ঢেউএ......;


তবে কি বসন্ত এলো 
ওহে তোমার প্রদীপে !


এই রাত 
আরো কতো সহস্র বছর ওই অন্ধকারের তরঙ্গে‌  তরঙ্গে
ভাসতে ভাসতে চলে যায় যে
সেই মহামিলনের অপেক্ষায়
সেটাই ভাবছি -----







৪৯.
ছোটো তো ছোটো নয় 
বড়ো কে নেয় খেয়ে ;


তাকে আগলাতে যেয়েই
সে হয় দিকশূন্য --- 
আর 
এই সত্য বুঝতে পারি না বলেই 
কত জন্ম জন্ম নয় 
মিথ্যের কোলাহলে 
প্রজন্মের পর প্রজন্ম
যায় হারিয়ে ----


আমরা দোষ দিই 
সময়কে 
দোষারোপ করি 
সমাজকে 
চলে যাই শ্রেণীসংগ্রামে 
বুঝি না 
কেন যে আগলে ছিলাম -----


ছোটোর গর্ভেই ছিল 
বড়োর মৃত্যু কাহিনী লেখা .......




( ছবি : কল্পোত্তম )









No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...