Thursday, March 9, 2023

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস






১৬৩.
একটিকেই চিনি, দুদিকে
প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার...


নৈঃশব্দ সেই ঘুটঘুটে পথে ;
ভেঙে চলে যাই পরবর্তী আর একটির
             শেষে...


কে যে কার !
কে যে কোন দিক থেকে শুধুই তাকে সঙ্গে নিয়ে আসে নি , এনেছে তার পর্যাপ্ত রহস্যে মোড়া এমন এক একটি তরঙ্গ ঢেউ...


বাঁকে বাঁকে এমন এক একটি নদীর 
        পথ চলা...


আহা
সে কি তার চোখের নৌকোয় সাঁতার শেখাতেই এত চৈতন্য দিলো,
দিলো মুগ্ধ হবার‌ অভিনিবেশ ?


মেরু পথ বেয়ে
আড়মোড় ভাঙবে বলেই 
শরীরে ধরেছে এত সরীসৃপ আতঙ্ক ?


একটিকেই চিনি ;
হয়তো চিনি
হয়তো চিনিনি আজও ; 
না চিনতে চিনতেই 
কুয়াশায় সরু হয়ে 
স্পষ্ট হয় কারো চোখের নদী-----


নাকি সে শুধুই দীর্ঘ এক সুর...


যদি ঠিকঠাক স্নানে নামতে পারতাম ,
সেই সকালে একবার অন্ততঃ  !





১৬৪.
দাহর আগুনে লুকোচুরি করি।


ফুটে ওঠে ফুলেদের কথপকথন ;
শেকড়ের হাহাকার উঠে আসে তবুও মাটির উপরে,
হাতে তুলে ধরি কত না অবক্ত অভিব্যক্তি !


মুখের ছায়াতে ভেঙে চলে জলেদের কথামালা...


ওহে নিরুত্তর
তবুও তুমিই আমার পাথরপ্রতিমা ;
বুকের ভেতর উপুড় হয়ে আছো নিরাশক্তির ঘুমে !


আমি গাছেদের কাছে আর কেন 
কান পাততে যাবো বলো ?

সকল ফুলেই নতুন সুবাস আজও,


পাতারা বাজাতে থাকলো 
তাই না শুনে 
অনেক হাওয়ার খঞ্জনি।


সেই মূর্তিও তুলে দি তোমার মুখে-----


ধুলোর মতো উড়ে চলে যেখানে রোদেদের হলকারা...






১৬৫.
সারাদিন পথ খোঁজে অবসরেরা...


অবসরেরা গালের হাত উঠিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই ,
বন্ধ দরজা উল্টে যায়। 
বুকের ভেতর পৌঁছে যায় 
               দীর্ঘ শূন্যতা-----


ভেতরের কোনো কথা  
কোনো দিক থেকেই ফিরে আসেনি।
কীভাবে ভাবি সে ছিলো 
             অথবা নেই কোথাও------


কাজেরা আমার কাছেই ঘর পাইনি ;
না , আমিই পাইনি কাজের কাছে ?


অনেক ভিড়ে হারিয়ে গেছে কত অকাজ----- 
তাদের কোলাজ ভেঙে পড়ে আছে
         ওইখানে ?
ওইখানে কত মৃত ও অ-মৃত নক্ষত্রদের ভিড় !
অহেতুক কর্ম-ব্যাস্ততার কত পথ চলা গল্প :
আমি কি সেইসব দড়দালানের সখী-সঙ্গ
কোনোকালে গল্পের ছলে 
কানে কানে পৌঁছে দিতে 
তাদের অধিক ঘুমের ঘোরে
অনেক অনিশ্চয়তায় হয়ে গেছি 
কালপুরুষের অট্টহাসি ------?






১৬৬.
পাক খাওয়া 
অপাওয়া গুলি 
শ্মশান-শূন্যতায় কুঁকড়ে গেলে 
জীবন-মৃত্যুঘোর হৃদয়কে গামছা নিঙড়ায় ;
সে দৃশ্যচিত্র অনুভবে ফেলে 
বিন্দুমাত্র দেখে ফ্যালো যদি 
জীবন্ত কোনো ডাক------


স্থির জানি 
সে কথা হাজার কথার মাঝে 
ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে অনেক আগামীর
            অনিশ্চয়তা------        
অদৃশ্য সে পথের কান্না গান সব কিছু !


জানি জানি ,
তাও তোমার দৃঢ়তা কোনো ; ত্যাগ .....


যাইহোক সে ,
তুমিই করেছো
পার চৈতন্যের অনেক 
            অন্ধ-পথ ----
সেও অনেক কঠিন সত্য ;
যা অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার ----- 


যে পথে 
হাতে নিয়ে দীর্ঘ ছড়
   চলেছি টেনে 
       বাতাসের বুকে ...
নদী যেন সকল পথেই ভাসায়              
   উভয়ের ক্লান্তির 
         দু'চোখ তবুও...






১৬৭.
পুঁথি-ঝড় থেকে শব্দ তো পেলে 
পেলে বিলাপও ;
তবুও অস্বীকার করো সকল সত্য------


ঘুরিয়ে 
যতোই ঘোরাও নাক ,
মুড়িয়ে দেখাও নির্বোধ
এসব কোনো ঘটনার 
হাততালিতেই 
জেনো না  
পরিত্রাণ লেখা আছে


এখন যে গালে পড়েছে টোল-----
এখন যে গালের গলাগলি ছোঁয়া 
আগুনে উঠছে ভাপ------


হায় ,  তাই একদিন 
  ভেসে যাবে দু-কূল...
দুকূল ভেঙে তুবড়ে যাবে 
দুমড়ে যাবে নিটোল 
বক্ষস্রোতে যে সব সাঁতারুরা এসেছিলো 
         উজানে .....
সে সব সবই হারাবে ,
হারাবে  
পুরোনো পুঁথি ঝড়ে একদিন সব...


সেদিন 
আবার তুমি নয় 
তোমার ছায়ারা জন্ম নেবে 
     এই পৃথিবীর ভ্রান্ত দিকে দিকে 
               কোনো...





১৬৮.
স্নায়ুর ভেতরে পাক খেয়ে ঘুরে শোবো যে 
তারও উপায় কোই ?


পড়শি আঁকশি বাঁধিয়ে বিঁধিয়ে দেয় বর্শা
যৌথ বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাবো যে
তারও উপায় কোই ?
জুতো হাতে তাই কুঁজো হই ,
গুড়ি মারি ,
উল্টে ঢাকি নিজেই নিজের মুখ ; 


লজ্জা হয় 
গ্লানি ,
ভেবে মরি সারাদিন যাকে
সে কি একান্ত প্রশান্তি আমার ?
নাকি দূরে আছো বলেই 
            এত টান কাছের?
     


তুমিই গোপন আনন্দ খানিক ,
একা একা খেলার আহ্লাদ ?


যদি তাই হয় 
তাহলে এমন কেন হয়, যেদিকেই পরিবর্তীত করি 
যেখানেই স্বজন খুঁজি,
ঘুরে আসে হাজার বর্শা বল্লমের তীক্ষ্ণ ধার ----- 
চলে যায় শিরদাঁড়া ফুঁড়ে কথার ত্রিশুল যতো ------ 


আমাকে পরিত্রাণ
         বলো ,
ফেরাও আমার ঘুম 
   তোমার তন্দ্রা ছুঁয়ে ---- ;


ঘোরাও বাঁশি
ফেরাও ঢেউ
জল হয়ে বয়ে যাও স্নায়ুতে 
আয়ুতে বায়ুতে 
ও আমার ভুলের সাগর
পূর্ণ হও তুমি ;
স্নানের প্রকৃত অবগাহন চেনাও।





১৬৯.
একদিন একটি দেশের প্রকৃতি তার সঙ্গে মিশিয়ে 
পাতা ঝরার শব্দ পৌঁছে দিত যে গাছগুলি --------
কী আনন্দেই না আঁতকে উঠতো
সেই সব বিস্ময় বিহ্বলতা ---- গোটা একটি আকাশ কেড়ে নিতো মুঠোর ভেতর থেকে ------
কোথাও কোনো মেঘের চিহ্ন পর্যন্ত না রেখে  
ঝকঝকে আকাশ থাকতো তার মুখমন্ডল জুড়ে ; 
কুয়াশা না সরলেও
এমন অপেক্ষা আগলে বসে থাকতো শীতের ভোর গুলি-----
খুঁজে বেড়াতো কাকে যে !
তার জন্যেই সব কিছু মানবিক ;
সব চিহ্ন হারিয়ে আবার অমানবিক হতেও কুন্ঠিত নয় যেন ; 
সেই মহামানবিকতা ছুঁতে
কবে যে সে এতটাই হয়ে উঠলো
কবে যে সে সব বুঝবার জন্যে 
সেই শক্তিতে পৌঁছে 
মহাশক্তি রূপ ধারণ করলো;
আমিও কি সত্যি সত্যি মানুষ হয়ে উঠলাম জন্মের সব হিসাব খুইয়ে ?


ছুঁয়ে ফেললো তাকেই যে আমার ভেতর
দ্বি-সত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ;
তার প্রকৃত স্বরূপ প্রদর্শিত হলো তখনই ? 


যার জন্যে কোথাও কোনও বিরহ বিচ্ছেদ থাকলো না একটুও


সে একটি খন্ড দেশ জুড়ে 
আর একটি পৃথিবী কীভাবে যে 
কাছে এনে দিলো মুঠো খুলে, 
যেন মুঠোর ভেতর সম্পূর্ণ হলো সেই কথা 
যে কথা কাউকে চিৎকার করে বলবার মতোন না ।


ভালোবেসে সে 
এত সব সীমানা ভেঙে 
এত দেশ গাঁ
একাকার করেই 
আমার সঙ্গে পথে পথে ঘুরলো সারাজীবন ?


সে কি সত্যি সত্যি
তাকে 
ঘরবন্দী করতে চাইলে 
                      কোনোদিনও
এই ভাবে কাছে কাছে পেতো ?





১৭০.
জল-জঙ্গলের কাছে গেলে বাদাবন ডাকে
নিচু হয়ে উঁকি দিয়ে ,
মনে হয় ওই বুঝি 
আমার গাঁয়ের গাছগাছালি ঘেরা গলি পথ     
                    ডাকছে আমায় 
এখানেও ঘর ছিলো, হারিয়ে ফেলা ঘর ?! 


জনমানবের দেখা নেই তো !
বাঘ হরিণের দেখাদেখি চলে শুনি ,
কুমির বুনো শুকরের টানাটানি, আকাশ জল কোলাকুলি করে ঝরজলমেঘে ------
ঢেউ জাগে মানবের হৃদয়ে 
                       মানসীর সুর  পেলে 
কোনো এক পূর্ণিমায় কখনও কখনও.....?
সেই সুরের পথ চেয়ে 
গোটা এক একটি জীবন 
প্রতিক্ষায় ঘুরতে আসে বুঝি এইখানে রাত জেগে কখনোও কখনোও ?
আমি কি সেই  হৃদয়ের খোঁজে 
হন্যে হয়ে ঘুরি দিগন্তের পথে পথে ? 


কেউ সারা না দিলেও 
বাদাবন হোগলা গরান এর সারীরা নোনাজল ছুঁয়ে  
ইশারায় জানায় আমাকেই, কেন এই সব 
নির্জনতা ভাঙতে আসো তুমি ?


আমাদের ভেতর কত কোলাহল তার খোঁজ কিছু রাখো কি ? 


ওই দ্যাখো হর্ণবিল ডাকতে ডাকতে চলে গেল জঙ্গল থেকে ওই জঙ্গলের ওপার -----

সে কোন দেশে তার চলার পথ নির্ধারণ করলো 
সে কথা তো জানা গ্যালো না !


ওই দিকে নদী ঘুরে গেছে মানুষের অন্য দেশে...

পাখিদের নদী আকাশ মাটিতে কোনো দেশের নাম লেখা নেই ।





১৭১.
হ্যাঁ ........ আঘাত থেকেই সে মুখ ফেরে 


আঘাত থেকেই গড়ি অবয়ব ......


তোমার আঘাত তোমার নয় ?
তাহলে আনন্দেই লেখো বুঝি, গড়ো, কীসের কথা দিয়ে মাঠের চিৎকার ? 
ফসলের হাহাকার শুধু কি ফসলের ?
নাকি একবিন্দুও ফসল নেই ? আছে তবে কোন হাওয়ায় গড়া চাষ, জীবনের দাবদাহ ?
অনাহারে, কর্মহীন মানুষের যত কথা 
এযাবত বুনলে আঙুলে, সে কি তোমার আনন্দের ?

দুঃখ দিয়েই গড়ি তার সঙ্গে যাবৎকালের বিচ্ছেদ-কথা।

তারাও নিচু হয়ে হেঁটে আসে 
আমার রক্তের স্রোতে...


সে তরঙ্গে কত চাষ-কথা থাকে যে ,
তার একটিরও 
প্রবাহ কলকায় তুমি ডুবতে পারো নি বলেই 
তোমার মনে হয় 
সবই শোকগাঁথা ;


বিরহের কত মুখ,
যে করেছে জীবন সেই জানে! জানে না সে , যে কখনোও বাসেনি ভালো ,
তার ভাবনায় কোথাও মূর্তি নেই । 


বিসর্জনও দেখেনি সে । দেবী ভেসে গেছেন অনেক দূরে নির্জনে...।





১৭২.
কোনো বিজ্ঞাপন দেবার নেই। 
তাও বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ধরা দিই।
বন্ধুত্ব চেয়ে এইমুহুর্তে তেত্রিশজন 
হাত বাড়িয়ে আছেন ---
সারাদিন বিজ্ঞাপন পড়বো? 
চেয়ে বসে থাকবো বন্ধু ?

জানি না ফেরাতে বোধ, ধরা দিই অন্য কিছুর মোহে ?


না বন্ধু, আর তুমি বাড়িয়ে ধরো না তোমাদের রকমারী ;


বাজার চিনিনি। বাজারে না যেয়েও দিন যায় না ।


ও মাসি , আজ কলমি শাক আনো নি ?
ভুঁই-কলমির ফুল দেখেছো কি তুমি , বা জলকলমির ডগায় কেউটের বাস ?


এক আঁটি নিম পাতা দেও , কাঁচা হলুদ কিছুটা ,
সামনে বসন্ত এলো যে!





১৭৩.
মা, তোমার কোনো পরিচয় দিতে পারিনি আজও ----
মাতৃ -বিয়োগ কে যোগফলের অঙ্কে ফেলে পরাজিত আমি , 
সে তো কত কিছুতেই 
একটি সরলরেখা আজও ;
আজও পরিচয়হীন
অস্বীকৃত 
দেশহীন, ভূমিহীন 
উদ্বাস্তু তোমার সন্তান।


কোনো গল্প নেই ।
কোনো স্মরণ সভা নেই ----- নেই তোমার জন্য কোথাও কোনও লজ্জা ---- অথচ শুধুমাত্র তোমার জন্যেই ছুটে যাই 
যত মা ফিরে চলেছে অদৃশ্যে ---- 
যত মাকে নিয়ে ঘিরে চলেছে স্মৃতির সরণী ......


মাগো, তুমি তো পরিচয়হীন সন্তানের মা ,
একটি ছোট্ট স্বরচ্ছেদেই তোমার মুখখানি আমার হৃদয়েই শুধু -----


মাগো তোমাকে খুঁজে পেতেই 
আজও গেছিলাম এক মাতৃহারা সন্তানের দ্বারে,
                কপর্দকহীন 
সামান্য একগাছি মালায় 
তোমাকেই বরণ করবো বলে ছুটে গেছিলাম


মাগো, কোথাও তোমাকে পেলাম না।
পেলাম সেই মাকে,
যাকে দেখবার কোনো পরিচয় 
আজও অর্জন করতে পারি নি ।





১৭৪.
দৃষ্টান্ত এঁকে চলেছ তুমি যে,
সেকি জানি না মনে করেছো ?
তোমার প্রত্যেকটা নৈকট্য
প্রত্যেকটা সহানুভূতি
পরিমাপের দরজা ডিঙিয়ে 
আমাকে কতটা বিস্ময় 
জাগিয়ে তুলেছে যে....
তা যখন ভাবি 
একদিকে মনে হয় 
সত্যিই কি তোমাকে চিনি ?


না, চেনার যে সব দৃষ্টান্ত 
এতকাল ভেবেছিলাম 
তার ভেতর না চেনার অচেনা হয়েই থেকে গেছো তুমি ।


আমার স্বীকৃতি অস্বীকৃতি 
কোনোটাতেই আজ আমি আর 
তোমাকে কেন কাউকেই মনে রাখি না। 
যেদিন মনে রেখে তোমাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরেও 
কোনো পরিচয় খুঁজে পাইনি 
সত্যিই কি আমার কোনো আত্মীয় পরিজন আছে কোথাও ?


একা আমিই কি আত্মীয়হীন 
নাকি সকলেই সকলের কাছে দুহাত পেতে বসে আছি ?
এই শূণ্য হাতে আর কত অপরিচয় তুলে নেবো বলো ?


ভালোই হলো 
এই বসন্তের আমি আর কেউ না যেমন,
তেমন তুমিও...





১৭৫.
আজ তুমি আমায় ধমকে চমকে চালাকি ভেলকিতে জ্বালালে ঠিকই
অসহায় রাত্রি দিলে ঘরে ফেরার ,
পথের কুকুর দিলে দু'চারটি ,
স্ত্রী-সন্তানের চোখেমুখে অনিশ্চিত অস্থিরতাও দিলে ;
তা দেও ,
তবুও আমি এই পথ-চাওয়া আনন্দ থেকে প্রিয় মানুষের জন্যে 
অপেক্ষা করবোই -----


তুমি যতোই ঘোরাও তবুও 
আমার উঠোনের মাঝে সাদা হয়ে নুয়ে থাকে যে করবীর ডাল , তার সবটুকু উজ্জ্বলতা  খুঁটে তোমাকে বরণ করবো বলে সারাদিন অপেক্ষায় থাকলাম। 


তুমি ভাবলে ,
না বুঝি পেতেছিলাম শূণ্য দুহাত তোমার দিকেই বুঝি ;


না না , সে ভালোই জানি 
এই হাত ভরাবার ক্ষমতা তোমার নেই। 


নেই মানে, যে নিজেই শূণ্যে বাড়িয়ে আছে সে কাকে দেবে তার পূর্ণতা ?





১৭৬.
কবিতায় তোমাকে লিখতে চাই না।
কবিতা আমাকে দিয়ে লেখায় 
তার বিষাদ।
লেখায় তোমার মনুষত্ব হারানোর গল্প।
ফিসফিসিয়ে ওঠায় ,
তোমার রাক্ষসী মুখের বিবর্তন চেনায় ।
কবিতা আমাকে দিয়ে যা খুশি করে উন্মাদ  নাচায় ,
তোমার চিৎপাত হয়ে থাকা শরীরটাকে ঘিরে যত উন্মাদ নাচি, কবিতা হাসে, কবিতা নগ্ন করে কাঁদায় তাকেই ,
যে ফেরে কুৎসিত রাত্রি কাবার করে 
তার আত্মায় একদিন ; 
কবিতা তারপরও
আমাকে জাগায় ,
তোমাকেও?
হয়তো এই জন্যেই, তোমার পথের চির অপেক্ষা যায়নি আজও
তাই, আমি কবিতায় তোমাকে লিখে চলি যে
এই জীবন-প্রলাপ .....


তুমি ভাবো কি আজও আমি কবিতা লিখি না , লিখি  তোমাকেই, তুমির আড়ালে যেভাবে বর্ণহীন ছেনাল হয়ে যাও তুমি,  
প্রতিদিন একটু একটু করে...


কবিতা লিখি না 
লিখি , তোমার অমানুষিক প্রলাপ শুধুই কবিতার গোপনে।





১৭৭.
এবারের বসন্তে পলাশ গাঁথবে একা তুমি, 
এবার ফাল্গুনে আমাকে পাবে না কোথাও
তাতে কি নীরবে বাজবে 
                  সব সুরগুলি.....?


উন্মাদ হবে সেই মেয়েটিও তার তালে ;
উত্তাল হবে সকল রংগুলি এদিক ওদিক ; আমি থমকে দাঁড়াবো না বলে কি, সেও চাইবে না কোনো দিকে আর ? 

তার বিস্ফারিত চাহুনি সদাচঞ্চল হবেই জানি 
             আলোর সম্মোহনে ;


এই চির সত্য কে আর না জানে ,
কোথাও আমার অপেক্ষারা 
বাজাবে না এমন সুর 
যাতে তার তাল কেটে যাবে !

বসন্ত আসে এমনই কত থাকা না থাকাকে ঘিরে ,
তাই বলে কি ফুটবে না আবার কোথাও পলাশ ?







Thursday, January 26, 2023

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস






১৫২.
মিছিলে হাঁটতে দেখনি বলে 
—-- মুষ্টিবদ্ধ চিৎকার শোনেনি 
কেউ ।
দেখেনি পেছনে  
ভিড়ের ভেতর কেউ একজন
ছিলো —--- হুমড়ি খেয়ে 
পড়েছিলো অপরিচিত ফুটপাত জুড়ে 
রক্তাক্ত গোঙানির শব্দ ; ‌        দলছুট বেওয়ারিশ লাশ হয়ে ।
চেননি তার ভাষা । বোঝোনি কোনো ইঙ্গিত। 
সে যে কতদিন ধরে 
অবহেলিত নিস্পেশিত ছায়ায় ছায়া গিলে চলেছে ,
সে কথা জানার ও বোঝার আগেই 
তির্জক কিছু ছাইএ লুটিয়ে মুড়িয়ে  যে মোড়ক খুলেছো 
তার রসনা এমনই , জানতে দেয়নি , কৃশ শরীরের উজ্জল্য কোন দিকে মৃয়মান সূর্যাস্তের মিহি আলোয় আলো হতে হতে সান্ধ্য কিত্তনের সোরগোলে মিশে গেলো ….?

মঞ্চজুড়ে  মিশে গেলো যখন আস্তিক নাস্তিক - বৌধিক - কপট —--
মিশে গেল ক্ষমতা ও অক্ষমতাদের  লাম্পট্য ঢাকা দেওয়া মুখের সারিরা — আর কিছু চেনার নেই । জানার নেই । শব্দে শব্দে জুড়ে, যত দূর চোখ যায় 
হাসির রোল ওঠে ; ঠগ ও ঠগিদের ঠনঠনানো  চিৎকার শুধু ?

ওহে বোকা হাঁদা , নিতান্ত কায়দাটুকু চেন , তা না হলে এত পেছন থেকে তোমাকে দেখবো কেমন করে ?

অপরাজেও এই সব হীতকারীদের দলে অপাংক্তেয় থেকে গেলে যে ;

এখনও সময় আছে 
মিছিলে নাম লেখাও ,  সদস্য পদ চাই তো ! তাই না হলে 
কী করে বলি , তুমি ছিলে, তুমিও ছিলে তো —-- !

                 





১৫৩.
 —- সেই তো  জলের দিকে গেছিলে বলেই , এতো জন্ম আমাদের ধংসের দিকে মুখ করে দিলো ;
—-সেই বলে একথাও বলছি না ,
তুমি পা ভিজিয়ে দাঁড়াবে না জলে ,
অবশ্যই দাঁড়াও ,
সঙ্গে নিয়ে যাও অনেক আগুন —--
যা থামলেই অনর্থের ভাষা , সকল উদ্ভাসিতের প্রকৃত চিনবে ?
চিনবে সেই পরমার্থ ,
যা তাঁর তুষার এ ঢেকে গেছে !
যার ক্ষয় তুমি মিথ্যায় থরে থরে সাজিয়ে রেখে যাও 
বলেই , আমাদের সকল ধংস প্রকৃতোয় অনুবাদ হয় না ।  দুর্বোধ্যতায় ঢেকে যায় অনেক কুয়াশার মুখ ;
সকাল কে সকালের মতো চিনি না 
দুপুর কে ;
সন্ধ্যা আসে ঘুম চোখ খুলে 
রাত্রির নীবিড় নেমে যায় সমুদ্রের মতো …….

যাও, যাও আরো জলের কাছে 
দাঁড়াও ভাগ করে সকল পরিভাষার মুখ , একটুও বিচলন নেই ,
বরঞ্চ , তোমাকেই অনুবাদ করতে করতেই , জীবন ফুরায় যতো …

তোমার ঢেউ চিনে ওঠাতে একটুও বিভ্রান্ত নই ,
যেন বুঝি ; তাতে অনেক দুর্বোদ্ধতা ছিলো বলেই, তুমি এত রোমাঞ্চের অধিকারী ……?!







১৫৪.
উৎসব , উল্লাস , হুল্লোড় থেকে
বহু দূরে আগলেছি 
সমর্পণের সকল ভনিতা ; 
শুধু কি তাঁরই দায়বদ্ধ লালনপালনে ?

স্বাদ জাগে তাও।
জিভ কে বশে আনা
বড়োই দূর সাধনার ফল ; 
উচ্চারণ মুখস্থ করি ,
শুনি তার ও তাঁর চিৎকার দিকে দিকে 
যেই ,
সেই দ্বিতীয় র দরজা খুলে ছুঁড়ে দিই
সকল অঞ্জলি -----

না না বল্লম নয় 
নয় বাইরের যুদ্ধ 
এখন প্রয়োজন আত্মশুদ্ধির । প্রয়োজন বড় নির্জন একটি দিগন্ত নোয়ানো প্রান্তর শুধুই;
আর একে অন্যের মুখোমুখি চোখে চোখ কিছুক্ষণ !

চলো , চলো যাই চলে
রাতের ট্রেনে
হু হু হাওয়া যেদিকে চলেছে ভেসে 
সেই দিকে , যেখানে একটি ঝোঁপের মুখে , সকল নির্জনতা ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছেন 
তিনি একটুখানি
আলো হয়ে
সেই জঙ্গলের গলিপথে ......;

অপেক্ষা করো ।
দেখা পাবে তুমিও
তাঁর 
যাকে খুঁজে চলেছো 
মেলার মাঠে , এতো সংএর ভিড়ে  !






১৫৫.
সকলের দেওয়া আড়াল 
গ্রহণ করি আমি ।আমার
ছায়াকেও ঢাকি  
তোমাদের লম্বা শরীরের আড়ালে ;
কোমরের গুপ্তিরও  ধার চিনি , চিনি বলেই বুকের ভেতরের এইটুকু শ্বাসকে আটকে রেখেছি ,
যাতে অন্তত বাঁচার দমটুকু পাওয়া যায় ,
যে ছায়ার আড়ালে লুকোতে চাই না কেন সকল উঁচু শাখাতেই গাছ নেই 
শুধুই গাছের আকৃতি , শুধুই নকল শরীরের উপর নকল মুখ বসানো । তুমি আমাকে কোথাও বাঁচতে লুকোতে দেবে না যে সে কথাও
জানি । 

এই জানা ও চেনার মাঝেই আমার রক্তাক্ত দিনাবসান হয় -----







১৫৬.
অনেক উচ্ছাসের আড়ালে তাকিয়ে চমকে উঠি না 
ভাবি , উপহাসের ইঙ্গিতগুলির বর্ণ কেমন হলে তোমাকে আলাদা করা যায় ,
বটবৃক্ষের নিচে দিয়ে হাঁটতে হয় আমাকেও ,
আমাকেও চিনতে হয় 
বট-পাকুড়এর ব্যবধান । চিনতে হয় কোন কোন ঋতুতে 
শান্তিনগরের পথে পথে সেই যে ছাতিম ফুলের উগ্র ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে ;
উৎসব দিকে দিকে মুখ উঁচিয়ে মিচকি হাসে , 
তাই বলে কি এই পথে হাঁটতে বারণ করছো তুমিও ?

মন কেমন করলেও সত্য তো সত্যই  ;
মন কেমন করলেও দেবীর দশ হাতের আশায় বুক বাঁধতে ই হয় ----- 

নিয়তি যদি ধরেই নাও আমার ব্যার্থ উৎসর্গ কে , ধরেই নিও 
সঙ্গে সঙ্গে একথাও ধরো 
মহাপ্রস্থানে চলেছি যখন তখন অনিবার্য তো আছেই !

যুদ্ধক্ষেত্র জুড়ে এত পরাজয় ছিলো বলেই 
বিশ্বরূপের মহীমা এতো  !






১৫৭.
সংশয় জাগছে কেন এত ,
সন্দেহ ই বা কীসের ?

এই তো মাতৃগর্ভ থেকে পথে নেমছো 
এর ভেতরেই 
এত গুলি দিনের উৎকন্ঠায় 
প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিলে ?

সেও যদি দরদী 
জিজ্ঞাসায় বিগলিত হতো তোমাদের উৎকন্ঠা;
প্রশ্ন তো অনুসন্ধিৎসু চোখের ;
প্রশ্ন তো উৎকন্ঠার ;
প্রশ্ন আর জিজ্ঞাসা চিহ্নের আকৃতি জুড়ে বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়েছেন যিনি , তিনি তো গ্রাম্য পরসি যেন ; চোখের চশমা ঝাপসা 
তবুও সত্যটা জানতে এসেছেন ,
কী মজা তার !

প্রত্যক্ষদর্শী তুমি তো ?
বলোই না কেন ,
কী এত মজুত ভাণ্ডার আছে তার 
না হলে কী করে পারেন এভাবে জীবনকে বিলাতে 
          পথে পথে.....!

বড় হও , আর একটু নুব্জ হোক ছায়া 
জানতে পাবে 
কিছু কিছু জীবন এমনই থাকে ;

মাপা যায় না আপাত কাপড়ের ফিতেয় 
সেই জলের গভীরতা কতটা হলে 
তুমি অন্তত নিশ্চিন্ত হতে পারো !







১৫৮.
খোয়ারে ফসল খাওয়া পশুদের পুরে দেওয়া ছিলো গ্রাম্য রীতি । 
ওমা ! একী ! এও যে দেখছি শুয়োরের খোয়ার দিকে দিকে 
পারলেই তুলে এনে 
ছেড়ে দেওয়া হয় ।

তুমিও যাবে নাকি ?
ওই তো খোয়ারে একটা আন্দলোন দানা বাঁধছে শুনছি ;
তাতে কে নেই 
সাদা কালো হলুদ নীল সব রঙের সমাহার একটি খাঁচার ভেতর জটলায় মত্ত ;
তুমি ও ঢুকতে পারো 
যেতে পারো তুমিও 
কী সব আলোচনা 
পারলে রাজা উজির নাজির বধ শেষে 
যার যার হিসেবের খাতায় দাগ দেওয়া আপন নামের বানানটি-ই ভুলে যাওয়া -----







১৫৯.
তুমি যে এসেছিলে অবহেলায় 
এ কথা ভুলে গেছো ।

ভুলের উল্টো দিকে 
দাঁড়িয়ে আছে
সেই সে এক চাওয়া ;

যে চাওয়ায় হাত নেই 
অথচ 
অনেক হাতের হিজিবিজি রেখাদের নদী 
দেখেছ কি চেয়ে ?
ভালো করে 
দেখার কথাটি যদি ভাবতে 
তাহলে এতটা দারিদ্র্য
ধরা পড়ত না 

ধরা কি তুমি দিতে চাইতেও পারো 
না ধরা পড়ার কৌশল আয়ত্ত করেছ বলেই 
বোকার দলে 
আমার নামটিও লেখাতে চাও 

ভুল এখানেই ।
কারণ হারাতে হারাতে জেনেছি 
হারানোর মহিমা কতটা সুন্দর হতে পারে কারো কারো একলার পথে ;

এই সুন্দরের স্বরূপ 
জানতে হলে 
সকল ভোরের আলোয় দাঁড়াও একবার 
দেখবে তিনি প্রকাশিত হচ্ছেন কীভাবে 
তার পর এই জন্মপাপের আর কোনো অস্তিত্বই নেই ।

তুমি ফুল হয়ে গেছো ।
তুমি শূন্যতার সকল স্বরূপ জেনে 
সঠিক কবিতায় 
এই জন্মের সব জঞ্জাল সরিয়ে 
শুধুই ঢেউ হয়ে গেছো 
ঢেউ......







১৬০.
তোমাদের স্বীকৃতির দুয়ারে জোড় হাতে দাঁড়াই নি কোনো কালে । তাই বলে কি আমার বলাকে 
বাকরুদ্ধ করে দেবে ?
এই কৌশল , বন্ধুত্বের ছলনায় 
এমনই একটি ফাঁদ রচনায় 
মেতেছো ?

তাও 
পেতে দেবো বড় আসন ।
মায়ের সূচি-শিল্পের নিদর্শণ বোঝাতে ;
বোঝো আর না বোঝো , বিগলিত নাই হতে পারে 
হৃদয় তোমাদের ;
কটুক্তির বর্ষা ঝরাতেই পারো ফিরতি 
মজলিস জুড়ে ;
তবু আমার আভিজাত্য বোঝাতে 
নিরেট মাথার ভেতর পুরে দেবই ----

না , আমি কারো স্বীকৃতির অপেক্ষায়
এই উন্মাদনায় 
সর্বস্ব খোয়াতে পথে পথে নিঃসঙ্গতার গান গাই নি  ।

আমি আসি 
একাকীই চিরকাল ...






১৬১.
আমার মুখের দিকে কত সত্য যে চেয়ে আছে  !
তাদের সকলকে চিনিনি হয়তো 
তবু তারাই জাগায় 
তারাই ঘুমের ভেতর কথা বলে ....
আমিও তাদের হাত ধরে কত সব দেশে ঘোরাঘুরি করি !
তারা একটা একটা করে সম্পর্ক ভাঙে একটা একটা করে গড়ে তোলে ;
কত সব হামাগুড়ি ,কত সব দিক পরিবর্তন চলে ;
জামায় কাপড়ে ফুলে ও ফলে আমায় সম্পূর্ণ করে কোথায় মেলায় যে , 
এত খুঁজে খুঁজে ও তাকে ধরতে পারি না 
শুধুই ছুটি .......

যে সব ঘোরের ভেতর এই সব 
ওঠা নামা চলছিলো 
তাদের একটারও
মুখ মনে রাখতে পারি না । 

বসে থাকি । স্থির চেয়ে থাকি দেয়ালের দিকে , মেঝেয় ,
বিছানার চারদিকে ঘুরে ঘুরে 
একসময় বলি , জীবন কি এমনই 
একটি রাতের বিছানায় এলো আর গেলোই শুধু ....?

আজ কোথাকার অতিথি আমির 
জীবন্ত একটি চরিত্রের মানুষ জন্ম ফুরোলো। 
একাত্তরের সেই বীর স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষোক চিরনিদ্রায় চলে গেল ......

সব স্বপ্নের ভেতর !

জীবন ও স্বপ্নের ই একটি পর্বান্তর শুধু ----






১৬২.
যেটুকু সময় নিজের সঙ্গে থাকি 
সেইটুকু ই জীবন 
বাকিটা মানিয়ে চলা 

এই কিছুক্ষণ আগেই মানাতে যেয়ে 
বেমানান হয়ে পেছন ফিরলাম ।
চাওয়া পাওয়া নিয়ে মানানো তো নেই ,
ছিলো কিছু স্মৃতির দায় , 
যে কারণেই
গলাগলি ঘোরা .....;

সেকি ! 
সেখানেও দেখি উল্টো ছায়াবাজি ,  তা ধিন না ..... তা ধিন না.... তা ধিন , তা ধিন .... 

চরকিবাজি ঘুরতে ঘুরতে ঘরে ফেরা ----

কবিতার গুষ্টির পিণ্ডি চটকে গেলো , ভদ্রতার মুখোশ খুলতে না পেরে 
এক লাথিতে সকল সম্পর্কের ছায়া উল্টে দিলাম কষে এক লাথিতে ;

তবুও কালি মুছলো না নিজের গালের ?







পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




১৩১.
এই অহেতুক চলাচল
প্রশ্ন জাগায় যে
সেকথা জেনেই
সেই সব প্রশ্নবোধক চিহ্নে 
একবার হলেও 
জিলকে উঠেছিলাম !

দুহাত পেতে দিয়েছিলাম ঝিলের কিনারে ,
ভাবছিলাম কখন সে পানকৌড়ির গলায় ডাক দেবে যেন ----

তাইতো রাতের সকল উৎসর্গ , একবার বারবার 
জলের তলদেশ ছেড়ে উঠে এলো !

আমিও সেই রাতের দীর্ঘ লয়ের ভেতর অনেক মৃদু ঢেউ হয়ে 
            যেতে যেতে....
দুই পা ডুবিয়ে কত কথায় ঢেউ হয়ে চলে যাচ্ছি যে 
সে সব কেউ কি জানলো আদেও ?

তার পাতাল বাসেও এই ডাক পৌঁছল না !

সে সব আদেও
কিছুই না ,
এই মুগ্ধতা শত শত জীবনের বিরহ সন্তাপ; একা একার খজ্ঞনী ---- 
এইসব জানতে জানতে কত নীরব জন্মান্তর এলো আর 
                  গেল 
তার একটারও প্রকৃত অন্ধকারের ঘোরে 
আলো হাতে যদি এই দুহাত পেতে থাকি 
            প্রকৃত 
তাহলেও জেনে নিতে পারি কে সে 
কেই বা আমি !

কতবার এসেছি যে 
কতবার ?
কতবার ঝিঁঝিঁদের ডানায় ,
হয়তো জোনাকির ঘোরে কেঁদেছিও ;
একবার 
হাজার বার 
ঘুরে ঘুরে ওই পানকৌড়ির দলে মিশে গেছি সেই সব নক্ষত্রদের রাতে 
শত উল্লাসে বার বার জ্বলেছি, নিভেছি 
সেই দুজনার ঘুম ছিঁড়ে চিৎকার ও করেছি অনেক ;
তবুও পুনরায় তাকেই খুঁজেছি এই জলে ?






১৩২.
তার কথা বলার বৃত্তে 
ভেঙে যায় যেন হাজার হাজার জন্মের রক্ত-কনিকারা -----

বোধের তীব্রতা জেগে থেকে দেখেছে একা একা সে সব অনেক ---- 
তাই তো উৎসর্গের মুদ্রায় নটরাজ হই ;
পাহারের কাঠিন্য ভাঙি পায়ে পায়ে !

কাঁকরে , পাথরে জমাট মাটির ভুল প্রতিমা দেখি সাজছে 
 ‌        কেমন একাকী ;

জাগিয়ে তোলো ওহে জাগিয়ে তোলো যত ওঙ্কার আছে কূলকুণ্ডলিনী জুড়ে ;

জল হও ,
জলের মতোন ঘুরে ঘুরে কথা বলো 
সব তৃষিত তন্দ্রা ছিঁড়ে; 

হাসবো না 
বলো হাসাবো‌ না 
তার অপূর্ণ নদীর 
  শত চঞ্চলতা ঘিরে !





 
১৩৩.
তার কোনো ছবি নেই যা আছে তা ছবি নয় তা শুধুই চোখের ভেতরে চোখ বোজা কয়েকটি ঝিকিমিকি অন্ধকার ,
সেইটুকু ধরে ধরেই পার করে দিলাম আস্ত একটি সমুদ্রের তোড়ের ভেতরে ভাসতে ভাসতে মিলিয়ে যাওয়া......

তাও কি তুমি বলবে আমি তোমাকে ছুঁয়েছি ! আমি তোমাদের গালের স্পর্শ নিয়ে সন্তান-স্ত্রী-পরিজনের টানাটানির স্বপ্নের ভেতরে তোমাকে ছুঁয়েছি একবিন্দু ও ?

জানি না 
জানি শুধুই তার ঝিলকে বেড়ানো আমার দুচোখ বোজা মুখের আদল,
আর এই ঘুমে চলে 
       যাওয়া রাত্রি .....







১৩৪.
আমার যে চোখের আলোয় তার চারাগাছ দুলে উঠেছিল হাওয়ায় হাওয়ায় ---- 
দুধমানকচু গাছের সতেজতা মিচকি হেসেছিল , কচি কলাপাতাদের ও সে কি হলুদ সবুজ হয়ে ডেকে ওঠা যেন ; 
বিনুনির ঘামে ঘামে কত গান শোনা কান 
দেখেছিল বুঝি বাবুই পাখির সৃজন ;
এসব  কিছুই না জেনে না শুনে সে 
সমুদ্রের নীলে নীলে হেঁটে গেল বহু দূর অবধি ......
তারপর ছাইয়ে ছাইয়ে মুছে নিল আরো খানিকটা যত ছিল পেন্সিল হাতে তার ;
জানি , সেও তার না , সময়ের তোড় খানিক;
তারপর লঘু ছায়ায় ছায়ায় হঠাৎ বসন্তের ডাক ! 
হয়তো হবে , তবুও আমি আজ মনে মনে বার কয়েক ডাক শুনেছি তাদের ই 
যারা তাকে সবুজ হলুদে গড়ে পাঠিয়েছিল দুধমানকচু কলা পাতার রোদে রোদে ....

সে সব কথা কী আর বলবো তোমায় ;
ট্রেন ছেড়ে যাবে 

সেই তো শেষ কথা বলা মানুষের মুখে ...?






 
১৩৫.
আমার দুটি দেশ আছে । তার একটি দেশের বাইরে আর একটি দেশের ভেতরে বিদেশ ।
দেশের বাইরের দেশটির দূরত্ব দেড়শো কিলো।
দেশের ভেতরের দেশটি তিনশো কিলোমিটার ---- 
একটিতে যেতে  সীমান্ত প্রহরীর কড়া চাহুনি , আর একটি তে পৌঁছোতে একটি রাতের পথ হলেও 
দিনের আরাম নেই 
নেই কোথাও কোনো পরমাত্মীয় ---- তবু যাই , পথে পথে ঘুরি , খুঁজি , কী সেই খোঁজা জানি না তো ! তবু যাই , ধুলো উড়িয়ে ,পাথর মাড়িয়ে 
অহল্লারা আড়মোড় ভাঙে পায়ের নিচেয় ;
আমি কি রামচন্দ্র হবো ?
গান শুনি , ছৌ নাচি ঘাড় ঝাঁকিয়ে হাত ঘুরিয়ে তবু আমি কেউ না ।কেউ না , যেদিকে কেউ হয়তো রাতের ছাদে পাক খায় , আকাশের ইশারায় একা একা ?

আমার কোথাও কোনো ঘর নেই । দেশ নেই । অথচ দেশের আকাঙ্ক্ষা থেকে 
এক একটা দিকে ছুটে যাই এক এক ঋতুতে .....

সকলেই পাশপোর্ট খোঁজে ---- 

দুহাত তুলে দাঁড়াতেই হয় , গোপোনে লুকিয়ে রেখেছি কিনা ধারালো কিছু !

আমার কোথাও বস্তুত কোনোই দেশ নেই ।

কোথাকার অতিথি আমি ?







১৩৬.
বাক্যের ঘোর কাটতে না কাটতে 
আমি তাকে প্রিয় ফুলদানি নকল প্রজাপতি উপচানো অরণ্য পর্যাপ্ত পাখিদের আকাশ ভেঙে ডাকতেই থাকি 
সে আর সারা দেয় না 
সে আর পেছন ফেরে না 
কারণ এই যে এত কিছু দিয়ে তাকে গড়েছিলাম একদিন বুকের দোয়াত ছাপিয়ে কলমের ডগায় ,  তাতে তো তাকে  বাক্যের ঈশ্বরী করে ছেড়ে ছিলাম বলেই , সে আর ফেরেনি !

এই ফুলদানি, কলম ,  অরণ্য , এই মাঠের আকাশ , সব তাকে দিয়েই বলেছিলাম 
আরও যা কিছু আছে সব দিয়েই তুমি হয়ে আছো আমার চোখ ,
চোখের ঢেউএর ওপারের সাগর ,
তাও তো ফেরেনি জন্মজন্মান্তরের এই বিরহ না ফেরারই গান, সুর ও সাধনার বস্তু হয়ে গেছে বলেই 
তার মূল্যবান রূপবিগ্রহে এত উদযাপন ?

ভীষণ ভালো লাগলো নদীকেও দেখলে শব্দের খাঁজে খাঁজে বয়ে যেতে 
সমুদ্রকেও  .....?

আমি একটুও বিচ্যুত হইনি 
একটুও নিরুতসাহিত
বরঞ্চ 
ডাকতে শিখলাম আরও
অন্যরকম ভাষায় 

যেভাবে দেখতে ও দেখাতে চাইনি বলেই 
তুমি দেখনি চারদিকে এত হাহাকার ছড়িয়ে ছিল কীভাবে 

যে আঘাতের চিহ্ন ধরা দিল বলেই ,

সেই কলঙ্কিত রূপ আদিগন্ত জোড়া গান শোনালো আজ ,

তুমি মহিত হলে এতো !








১৩৭.
রোদ ছিল কি 
বাতাসে বাতাসে কেবলই বার্তা এলো পথের কথা 
ওগো পথের কথা ঘোরাও ,
ওই দিকে জল ফালা করছে আদিবাসী ছায়াযুক্ত একটি বেলা  ;
আমরা এই দিকে ,
ছবির মহড়ায় ঘুরছে কার যেন আঙুলের উপর অনেকটা বিষাদ ; 
সকলের গলায় সুর থাকে না 
তাই বলে ওই ঘুঘু দুটি একে অপরকে মাঠের কোনে ডাকবে না 
আপন কথার সুরে 
তাই কি হয় ?

পথ বলছিল 
সব কথাই কথার কথা ; এই নিয়ে তুমি কেন আর একবার চাইবে না 
যেদিকে ঘুরতে ঘুরতে পথ আপ্যায়নে অস্থির করে তুলছে 
বলছে , একটা অন্তত খবর দিয়ে তো আসতে হয় , আমারও তো কিছু করনীয় থাকে , তোমার জন্যে !

চলো , ওই দিকে তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আসি , শেষ বেলার জলে স্নানরত পানকৌড়ির ডুব আমাদের সকল কথা বলা ?!







১৩৮.
মিথ্যা চারদিকে ঘুরতে থাকলে
সেই ঘূর্ণির ভেতর থেকেই  
চক্রবুহ ছাড়িয়ে নিতে 
শেখা ,
সময়ের দিকে চেয়ে নয় 
সময়কে আঙুল ছাড়িয়ে 
অদৃশ্য সত্যের ধ্যানে চলমান থাকা 
সেও যেন তখনি 
কথা বলে 
যখন তুমি খোলস ছাড়াতে 
শিখে নিয়েছ উত্তাপ থেকে 
একাকী
তারই দেওয়া নির্জনে ----

যা কেউ না জানলেও 
বাতাসের সকল ঢেউ কখনোই অস্বীকার করে না ।

অর্থাৎ মায়াহীন অনিবার্য আয়ত্ত করেছ বলেই 
তুমি অপরাজেও অভিমন্যু ----






১৩৯.
কেন এত বিষাদ জেগে থাকে ?
চারদিকে চেয়ে দেখ ,
ওই তো তোমার সঙ্গে সঙ্গেই চলেছে 
যা কিছু একদিন চলতে চলতে দেখতে চেয়েছিলে ,
ওই দিকে তারই মতো সেই তো দৌড়ে গেল --

তাও কি সে নয় ?
ওই তো টিলা পাহাড়টি কতকাল কত রোদ আলো মেখে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে 
কত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই মায়া মেখে ;
কত সন্তান পিতা হলো, কত পিতা প্রপিতামহ হলো , কত ক্লান্তি ধুয়েমুছে চলে গেল কত প্রাণ 
প্রেম এলো 
প্রেম চলেও গেল 
কত জীবন নতুন পুরোনো হলো ,
তবুও তুমি এলে তুমিই গেলে যেন এমনই
কতবার 
তবুও একই জিজ্ঞাসা
শেষ হলো না কখনো 
চলতেই থাকলো 
চলতেই থাকলো 
জীবন শেখালো কি 
না আজই তুমি শিখলে , এখানে কেউ ছিলো না তো 
কেউ ডাকেও নি 
তবু তুমি এসেছিলে 
দাঁড়িয়েছিলে 
ভেবেছিলে 
হারিয়েছিলে কি কিছু ? নিয়েও যেতে পারো নি 
তবুও অদৃশ্য দুটি হাতের স্পর্শ পেতেই 
যেন কতকাল 
কত জন্ম তুমি আসো আর যাও ----








১৪০.
অনেক কথার পরে স্তব্ধতাই চেয়ে থাকে মুখ জুড়ে ---- টিলা পাহাড় টিও গুনছিল রোজ কারা আসে কারা চলে যায় সাইকেল চালিয়ে কিশোর কিশোরীদের পায়ে পায়ে ......

আমি কি একবার শুনবো ওহে বাড়ি ফেরার ক্লান্তি নিয়ে আজ তোমরা কী কী মুখস্ত করে বলে এলে , আমাকে বলবে কি একবার ?

আমি পথ হারাই নি ,
চেয়ে আছি তোমাদের অনেক স্বপ্ন দেখা জীবনের দিকে ......

বলো বলো , আমি শুনতে চাই 
বেলা ফুরিয়ে এল আমার , ওদিকে আবার যেতে হবে 
কথা নিয়ে চেয়ে আছে কত অপরিচয় আমার জন্যে যে , ওসব বোঝার জানার সময়ের কাছে এখনি কোনো জিজ্ঞাসা রেখ না যেন , 
সান বাঁধানো পথিক নিবাস জানে না 
কোথাও যাবার নেই 
ছিলোও না 
তবুও চলে গেছিলাম 

কেউ একা হতে পারে না যেন , সকলের ই দোসর থাকে ওই অজানা পথের উপর অদ্ভূৎ ছায়া জড়িয়ে ----- 

যে ছায়ার কত অপরিচয় 
সমস্ত জীবন দিয়েও যে পথের কোনো কথাই জানা হয়ে ওঠেনা ঠিকঠাক ।







১৪১.
দেখতে দেখতে কতটা অনিবার্য 
গিলে খাবে এ কথাই আজকাল 
এই অঘ্রাণ এলেই 
মনে হয় ।
বহুকাল আগে 
তাকে মনে করতাম 
নলখাগড়ার বনে ।
বহুকাল সে সব সেরে 
ফিরে এসেছি 
একথালা গোবিন্দভোগ চালের 
গন্ধে , কয়েকটি দুব্বা ফুলে  ;
যেসব আঙুল সে সব  মনে রাখতো ,
যেসব দিনে এইসব বিশেষতঃ উলুধ্বনি শাঁখে প্রদীপে ঘিরে ধরে জানান দিতো 
এই এতবছর ;
তারা আর কোথাও নেই 
আছে শুধুই বয়স ,
ছোটো হতে হতে দিন দিন আমি এতটাই 
বড় হয়ে গেলাম ,
আজ আর নলখাগড়ার বনে কোথাও 
যাবার নেই আমার ।

নৌকাগুলো বহু দূর থেকে 
জল সাঁতরে ছুটে আসে তবু আজও ----

আমি কত অনিবার্য জুড়ে এঁকে তুলি 
সেই সব মুখমন্ডলের ভেতর কত উৎসবের মুখ ----- 


জিভ জানতে চাইলেও‌ উত্তর পাই না 
প্রকৃত উল্লাসের স্বাদ আর কোথাও
আছে কি নেই -----


চারদিকে এত হাতে তালির শব্দ শুনি 
তবু আমার কোনো উৎসব নেই । উদযাপন ও ছিলো না।
ছিলো যারা আঙুল জড়িয়ে
তাঁরাও বহু দূরে চলে গেছে আজ ......

অনিবার্য এমনই ?

তবু নৌকো চলে 
চোখের আলোয় ডিকবাজি খেতে খেতে ...... কে আজ পাঠাবে সেই বার্তা
সেই অনিবার্য ভুলে !

তারই অপেক্ষা যায় না 
সময় ফুরায় দেখি ,







১৪২.
অঘ্রাণ ফিরে যাওয়ার

অঘ্রাণ ঘুরে এসে বিদাই জানাবার দু' একদিন আগে আগেই 
আতঙ্ক ঘিরে ধরে ।
রোদের দিকে চাই ।সন্ধ্যার আগে আগে যেভাবে প্রদীপে তেল ঢালে গৃহিণী হাতের ব্যাস্ততা 
আমিও সেভাবেই তটস্থ হয়ে পড়ি ,
শুভেচ্ছা বার্তা আসে জনে জনে ----
আজ আর তেমন কেউ নেই 
যে দিনের আলোয় 
প্রদীপ জ্বেলে অপেক্ষায় থাকবে 
আমার কর্মব্যাস্ত দিনের দিকে 
তবুও কেউ কেউ থাকে , কেউ কেউ 
যারা আজও আমাকে ঘিরে সংসার সাজিয়েছিল হয়তো ;
আপনজন কত জন আছে ?
আপন আপন পথে 
প্রদক্ষিণ রত ?
সত্যিই কি আমরা কেউ কারো আপন হতে হতে সকল সংক্রান্তি গুনি একবারও ?


অঘ্রাণের এই সংক্রান্তির দিনটি আমার চারপাশ জুড়ে নৌকোবাজ ছোটায় আজও , আমিও তার মাস্তুলের ডগায় বিদ্ধ হই এমন সব বিগত দিনের কথা ভেবে ভেবে ,
যার পর আর কি মনে থাকে ইতুর গান 
আর কি মনে থাকে কে কে অপেক্ষা রত ছিলো , কে কে পাঠিয়েছে আমার এই বিদ্ধ বেঁচে থাকায় 
মঙ্গলবার্তা দুই এক পঙতি ?!







১৪৩.
নিজস্ব নির্জনতা ধারণ করতে পারার থেকে বড় ধ্যান 
আর কিছুতেই নেই ।
যদি তার অভিমুখ
বিদ্ধ করে অহম কে ।
যদি নস্যাত করে অসহিষ্ণু মনের আত্ম-ধংস কে ।তবে তার থেকে বড় সহিষ্ণুতা 
আর কিসে অর্জন করা সম্ভব ?


তাই ফিরেছে যখন বহতা স্রোত আপন কেন্দ্রে 
ফিরেছে যখন চাঁদ টলতে টলতে নেশা ভেঙে 
শেষ রাতের স্রোতে 
ওহে 
কে কোথায় আছো উলু দেও 
কাঁসর ঘন্টায় আরতি সাজাও 
দেবী এসেছেন 
দেবী দাঁড়িয়েছেন 
নিজের লজ্জা ভেঙে আপন জিভে ,
কোথাও অবশ্যই আছেন তার মহাকাল 

জোতির্ময় আলোকে তাই তো লিখি আজ 
আঁধার আলোকলতা 
আঁধার আলোকলতা !


 




১৪৪.
শরীর বস্তুটি জানান দিচ্ছে হয়তো ;
সারাদিন বিছানায় ।
কাতরাতে কাতরাতে ভাবছি , এই তো গতপরশু অমল চলে গেল ।
অমল , বিশেষ উল্লেখযোগ্য স্মরণীয় কেউ নয় --- অমল‌ শুধু ছেলেবেলা ।
অমল , কখনোও কখনোও বেশ মানবিক । অমল কখনোও কখনোও এতটাই অন্যায় সমর্থক , তবু অমল আমার কাছে একমাঠ গোল্লাছুট ।অমল দাড়িয়াবান্ধা।অমল হা ডু ডু , অমল কাঁচের গুলি চেলে দিত 
আলাদা এক ঢঙে.....


এইসব নানা কারণে অমলের অকালে চলে যাওয়া ,  মনে করালো অনেক টা সংসারের বাইরের যাত্রাপালা ।


অমল চলে গেল বলেই আমরা তাঁকে মহান করে দিলাম 
জাগতিক যুদ্ধক্ষেত্রের থেকে অন্যায় সমর্থণকারী বলে 
সে কথা না । অমল কে মনে রাখলাম 
গোল্লাছুটের মাঠে ।
অমলকে মনে রাখলাম দাড়িয়াবান্ধা হা ডু ডু 
কাঁচের গুলির ভেতর নানা রঙের ফুলের পাঁপড়ি রঙের ভেতর ।

অমল এখানেই 
সকল চলে যাওয়া কে জয় করে 
হাসতে হাসতে মাঠ ভেঙে শুধু চলে গেল 
খানিকটা দূরে .....







১৪৫.
অদৃশ্য কখনোও সামনে আসছে 
দৃশ্যত কিছুই না দেখা গেলেও চোখ পাল্টাতে যেয়েই ভেবাচেকা! সে কি !...ওখানেও ছদ্ম সৌজন্যের এত ঝাঁপি ! 
একটুখানি ফাঁক হতেই বাতাস কোপানোর শব্দ ! একটুখানি সহমর্মিতার দিকে হাত এগোলেই , কি গভীর ভদ্রমহদয়ের হাতজোড় সৌজন্য! মনে হয় যেন এই বুঝি ঝুঁকে গেছে সমস্তটা শরীর তার ব্রীজের থেকে ; 
তাই কী আর করা !
পথ পাল্টাই 
দেখি , আজ কী কী অভিঘাতে শতছিন্ন পড়ে আছে সকল সম্বিত ?
উত্তরের ঘরে অনেক নৈঃশব্দ! নাগরিক ,নাগরিক কেলোয় ধরেছে সকল পথের মোড় ; 
তাতে কি , তুমি হাঁদা রাম হয়ে লেজ নাড়ো যেখানে যতটুকু ঘাড় কেলিয়েছ ;
বেফাঁস হলো !
নেটিজেনদের কুরুচি !
তুমি তো আর ফেসবুকে চিৎ হয়ে শোও নি যে বলাৎকারের ভয় !
গাড়লের কিম্ভূতকিমাকার ফর্দাফাই করোও নি যে ক্যালানোর ভয় ;

বাঁচা মরার কথা ছাড়ো , ওসব কারো বাপের সম্পত্তি নয় 
যে গলায় বকলেশ পড়িয়ে যখনি মনে করবে তখনি তোমাকে হিড় হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে যাবে .....;

চলো , চলো দেখি তোমার সার্টের কোণা , টেরিকাটা পোজগুলো আজকাল কতটা কেতাদুরস্ত হয়ে ঢাকতে পেরেছে বিগত পাপ যতো ;

তাই তো যেই না ঢোক গিলে বলতে গেছো ,
অন্য কারোও কথা 
অমনি সোহাগের ঠোঁট উল্টে কামড়ে দিলো ;
দশহাতের তীব্র নখে আঁচড়ে খেমচে রক্তাক্ত ; 
কী , হলো তো , ভালোমানুষের উপাধিতে কফ থুতুর বৃষ্টি ?

ভয় নেই । অপেক্ষা।
যা তোমার খোড়া ভিখিরির ; যা তোমার এ যাবতকালের 
একমাত্র অবলম্বন 
ভাঙা বাঁশের লাঠির ডগার মতোন 
তাকে, শুধু তাঁকে
নিয়েই ভিক্ষাপাত্র রেখে চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে দেখ 
   কী অনন্ত নির্মলতা 
      এখনোও তোমার ,
  শুধুই তোমার , আর কারো না ।


কোথা থেকে 
কোথায় যাই যে !
নিজেই বুঝি না । 

শুধু বুঝতে পারছি 
কিছুক্ষণ সরে গেছিলাম এই ডিকবাজির জীবন প্রবাহের বাইরে , তাই -----








১৪৬.
চারপাশে দেয়াল ।
দরজা আছে । জানালাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে একে একে । একটা দেয়াল খিক খিক করে । 
মুখ ঘুরিয়ে চোখটাকে রাখতে যাবো 
অমনি এক ঝাঁপটা ।
জল নয় জল নয় 
ছিটিয়ে যায় আরও
কিছু । 
একটা দুটো সব দেয়াল ই স্বভাব সারল্যে কায়দার অভাবে আজ 
আমার গলায় দশ হাত চালিয়ে দিয়েছে ।
রক্ত নেই । ঘাম নেই ।
সব শরীরের বাইরে ।
শরীরটাকে জড়িয়ে ময়ালের লেজে জড়িয়ে চিপসে যাচ্ছে । কতক্ষণ পরে নিঃশেষ হবে সেই 
অপেক্ষা শুধু একটি তৈলচিত্রের দৌলত আজ । শিল্পী বলেছেন না তিনি আর কতক্ষণ 
আমাকে রাখবেন 
অনিবার্যের হাতে ;


একটি বদ্ধ ঘর 
আর ছায়াদের ডিগবাজির ভেতর 
আমার চৈতন্যের 
আত্মধংস এঁকে তুলছেন আমার চিত্রকর । 
ভাষ্কর্য নয় । কারণ তাতে যতটুকু বাস্তবতা অতিবাস্তবতার প্রয়োজনীয় হয় 
তার বাইরে এই জাদুবাস্তবতার আলোড়ণ আজ আমি বন্দী !








১৪৭.
শীত রাতের অপেক্ষা
শেষ হলে 
উভয়ে আমরা খুঁজতে
চাই কিছুটা আগুন ;
কিছুটা উষ্ণতা কে জানতে না দিলেও 
অনেকটা নিরাশ্রয় 
সে সব মুখস্থ করে ।
নিরুপদ্রব জানলা পেলে হাওয়ায় খানিকটা চোখ মেলে ধরে যে
সেও তো অনিবার্য !

তাই বলে বলছি না 
কেউই আমরা যাবো না পুনরায় 
পুনরায়ের কাছে দুহাত মেলিয়ে ;

যাওয়া থাকবেই ।
যতোই ছবি 
না থাকুক । যতোই নিরাকার কে ঈর্ষাকাতর মনের বারান্দায় পোষ মানাও না 
সেই অনিবার্য তোমাকে সব প্রতিবন্ধকতার বাইরে 
এমন একটি মনের
জানলায় চিৎ করে 
ছুরি চালাবে যে
তুমি কুয়াশায় কুয়াশায় ভাসতে ভাসতে ছবির ঢেউ হয়ে তাকেই 
ঘিরে থাকবে , যে আঁজলা ইসত
বহমান তাই সেই অরূপ , যেখানে সকল প্রতিবন্ধকতার বাইরে 
চলে গেছে নতুন নতুন  স্নানের সকল ঋতুকাল ...... ;





 

১৪৮.
অসম্মানের মাত্রা বোধ নেই ।
নেই তো অনেক কিছুই ! 
তবু হয়ে উঠেছো কোন কায়দায় বেশ লকলকে 
দেখলেও টানাটানি লেগে যায় ;
অমানবিক মুখোশ খানা লুকিয়ে বেশ মানবিকতার নারীসুলভ হাঁটাহাঁটির বৈশিষ্ট্য টুকু 
ধার করে বেশ দুঃখি দুঃখি ভাব করে 
যেদিকে যেমন খুশি গেড়ে বসে যাও দেখি ! 
তা যাও।এই যাওয়া আসার ধারাপাত দোলা , এত দেখেছি যে , দেখে দেখে কন্ঠস্থ হয়ে গেছে ;
নিজেকে ছাই থেকে 
বেছে ফেলছি না কিন্তু 
মনে করো না কয়লায় ছাইয়ে , রাবিশে শুই নি , বালিয়াড়ি তে ডোবা মোষের পাশেও 
পড়ে থেকে মেখেছি অনেক কাদা ;
এসব সেরে সুরে 
ডান উরু বাঁ উরুর খাঁজে খাঁজে অনেক খুইয়ে ঠোঁটের মসৃনতা 
তারপর তিল তুলসি তামা হাতের কোষে তুলে নিয়ে 
সেই ভোর ভোর দাঁড়িয়েছিলাম এসে 
এই অববাহিকায় ---- 


আর কোনও উদ্দেশ্য  ছিলো না ,
তাও নিজেকেই পুনরায় হাবা ঠাওরাতে দিলাম  !







১৪৯.
এই যে ভাবনাদের দাসত্ব গঞ্জনা লাঞ্ছনায় 
উদ্বেলিত দিন কাটাই‌ 
সে কি শুধুই প্রকাশ লোভের কারণ 
কই 
নাতো !
কোনোদিনও প্রকাশ উৎকন্ঠায় কাটে নি তো দিন !
বরঞ্চ কোথাও বা হলেও সে রূপবতী
কুঁকড়েছি কেবলই
অত্যন্ত আড়ালে আড়ালে 
ঘটেছে সে টলমল দিন ;
তাও দাস হয়েই পড়ে আছি চরণখানি ধরে 
কীভাবে যে
কখন সব খেলা শেষ হবে !
নাকি শুরু ?
জানি না । মুক্তির নেশায় তবু সে এসে ছোঁয়ায় আঙুল 
ছুঁই আমিও ?
জানি না 
জানতে ইচ্ছাও করে না 
সময় পেরিয়ে যায় 
দাস হয়ে আছি 
পায়ে পড়ে আছি !

কই 
না তো , একবারও সারাদিনে ভাবি না তো 
তবু সে আসে ,
হাতের ছোঁয়ায় ছুঁইয়ে আঙুল চিৎকার শোনায় তাঁর


আমি শুনি না 
ছুঁয়ে থাকি শুধুই 


এই শুধু  অপরাধ !






১৫০.
নামতে নামতে অনেক নিচেয় নেমে 
নিঃশেষিত মুখের সারিতে তোমার সকল অনুপস্থিতি ।
যেন নিঃসঙ্গ একটি গাছের নেড়া ডালে প্রসস্ত বিষাদ ছেয়ে আছে ।

ভালোই হলো 
তাওতো যাওনি ! যাওয়ার নিয়মে তবু ;
অক্ষয় , অনির্বচনীয় এই উপস্থিতি , স্মরণাতীত ,ছেয়ে আছে আরো কত দূর অবধি 
সেইটুকু রোদ্দুর খুঁজতে খুঁজতে আজ আমি অনেক দূর অবধি মাঠের নিচু আকাশে শেষ ঠোঁট রেখে আসতে আসতে ভাবছিলাম , এই দুটি চোখে তোমার মৃত্যু নেই কেন ?

উপর্যুপরি এই উপস্থিতে সকল অনুপস্থিতির অনন্ত ছুঁয়ে এতটাই দীর্ঘ 
যার ওপারে কেবলই তার জন্মান্তর ঘটেই চলেছে ---- এতটা অবিশ্বাস কপটতা শেষ অঙ্কের হিসাব মেলাতে পারে নি যেন কিছুতেই , কোনোদিনও -----







১৫১.
ধীরে ধীরে একটি ছায়া তলদেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে জলজ রূপে ।
দৃশ্যত তাঁর উপস্থিতি ,
প্রাণস্পন্দন ছাড়া 
আর তো কিছু নয় !
তার ও আমার ,
তোমার ও তার ,
সে ও তাঁহারা
সকলেই ,‌ সকলেই 
দেখতে পায় কি চলমান সেই ছবিটুকু .....?
সে তার উপস্থিতি
না চিনলেও 
না চিনলেও বৃত্তাকার সেই সহনীয় অসহনীয়তা , 
ডুবসাঁতার চিৎসাঁতার চলতেই থাকে মুহুর্মুহু চোখের গভীরে ;

যাত্রাপথ আগলে কে আর বসে থাকে ;
ঘুরতে থাকে সকল অন্যমনষ্কতায় নিরন্তরের সেই সত্য তবুও। যা তাঁর অনিবার্য। যা তাহাদের । যা সে ও আমিকে ঘিরে ঘিরে
ফুরিয়ে ফেলে সকল শীতকাল । বসন্ত শীতের ভেতর হামা‌ দেয় যে অনুভবে ?
তাঁর হাত থেকে কান্নাদের রেহাই নেই যে, তা তার নীরব চাহুনিরাই জানে , আর কেউ নয় ।






Sunday, October 30, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




১১৫.

তোমার
এমন দুঃখ-সুখের গানে 
গলা মেলাতে 
বয়েই গেছে


জানা যখন হয়েই গেছে 
সয়েই গেছে ব্যাবধান!


ছবির মাদল ভাঙলো তবে 
     খানখান
কেন বলো তো ?


তার চেয়ে খেলাই যখন
সুখের ,
বেলায়-ই গাইবো গান            
আপন সুখে ;


দুখে
আর বুকে 
পাড়াই যতোই ঘুম 
সেই তো রুখু পথেই ভিজি 
একা ;


তোমার মেঘে ভাসবো কেন বলো 
আমার আকাশ 
সেই তো শুধুই দেখার ; 


দেখি তো , খুঁজিও খানিক ,
তুমিও বেল্লিক 
বোঝো না কিছুই 


বেলা নেই, রাত্রি নেই 
     সকাল 


বিকাল যে হলো 
 বোঝো না তাও !


তোমার ঋতু না হয় পাহাড় প্রমান         
সমানে সমান 
ভাবতে শেখ 
    

খেলায় 
মেলাও যদি 
          প্রাণ 
তবেই বাজে 
    প্রলয় - মেঘের
             গান !


বোঝো এবার 
বোঝো 
     বাঁকা চাঁদের হাসি
কোলের উপর
যতোই শেখাও তাকে 
সে রাখে তো ভালো ,
        


না হলে 
এবার তুমি শুধুই কাঁদতে শেখো।
           




১১৬.

চাই নি তো জবাব 
কুয়াশার এই ঘোরের কাছে 
চাই নি ডাকের
        বিভোরতাও ;


উন্মাদ হয়েছি 
নিজের ভেতরে নিজেই 
  অজানা মূর্ছনায় ----


বিদ্যুতের তারগুলি
কুয়াশায় নিস্তেজ ঝুলে আছে , 
আমাদের আলো পৌঁছে দিতে ?


বাতাসের প্রয়োজন নেই। পাখা ঘোরে না । তাই , তার থাকা না থাকায়
চোখের আলোই যথেষ্ট । 
রাতে যদি বাথরুমের প্রয়োজন তখন  সংযোগের কথাটি ;


এই রাতের বারান্দায়
প্রয়োজনীয়তা নেই ওই তারের ;
বারবার চমকে যাই
মনে হয় ফেলে আসা কালো কালো          
                                হেরিকেনের মুখগুলি ;
বিদ্যুতের ঘাড়ে উঠে উন্মাদ নৃত্যে
মেতে উঠলো সে !
আমি পথ দেখতে না পেরে
গাছেদের দায়ী করলাম অনেক !
মনে মনে একটি রাত- প্যাচা বাদুড় হয়ে 
                             লটকে গেলাম ।


হৃদয় কি ভেসে গেলো
অসহায় জোস্নায় ?


অন্ধকারের দিকে যেতে যেতে
নিঃসঙ্গ অবোধ মোহমূর্ছণায় বেঁচে উঠলাম 
নাকি মরবার কথা 
ভাবলাম আর একবার ?






১১৭.

কে কাকে সেই সত্যিটা বলে দেবে ,
কে কার ভেতরে বিড়বিড় করবে পথ ?


সেই মানুষটিকে 
এই পৌষ 
পথে পথে হারিয়ে যেতে দেখেছে ,
মানুষটির জন্যে 
কোনো অনুকম্পা ছিল কি তোমার ?


আবর্জনার স্তুপের  
ছায়াদের ঘুরতে দেখেছি অনেক ;
দেখেছি আবর্জনা সরিয়ে সে কেমন অমূল্য ইশারায় উন্মাদ হাসি 
হাসতে হাসতে পথের মাঝে উলঙ্গ হয়ে গেলো ----


শ্লীলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে ,
পারে না কুকুর কুকুরীর সংযোগ ছিন্নতা নিয়ে কথা ;
কারণ, তারা কানেই নেয় না ,
আর নেয় না 
যাকে তুমি উন্মাদ ঠাওরে নিলে ,
সেও কোনো দিকে না চেয়ে 
মুখ ভেংচিয়ে চলে যায়...
সন্ধ্যার ইশারারা মাখছে গায় আকাশ !


বলো , কোন সত্য তোমার বিলাসী জীবনের জানলার 
কাঁচ ভেঙে ছিল বলে মনে হলো ?






১১৮.

পাল্টে চলেছে চোখের উল্টো দিকে স্বপ্নরা 


ধরতে পারছি না । পাকাল মাছের মতো পিছলে যাচ্ছে শরতের মোহমগ্ন  জলকথাদের ঢেউগুলি ...... কিছুক্ষন আগেও ছিলো বর্ণময় ; 


দাঁড়াতে পারছি না 
থরথর করে কেঁপে উঠছি , 
তার দু'বাহুর দিকে চেয়ে ; 


তবে কি ফুরিয়ে আসছে 
বেঁচে থাকার সব দৃষ্টিসুখের 
এই যে জীবন পেয়েছিলাম যৌতুক ?


ভয় করছে 
ফিরিয়ে দেও আমার প্রিয় ছবি
 

যে ছবিতে তুমি ছিলে বলেই 
জীবন ছিলো 

ছিল তোমাকে নিয়ে আমার সকল অপূর্ণতা ?






১১৯.

কে যেন কাশফুল হাওয়ায় 
আরতি ভুলে যাচ্ছে দেবী মুখে---- 


জানি 
আজ সে ছাতিম ফুলের সুবাস এড়িয়ে
হাতের রোমালের ভেতর সুগন্ধি ছড়িয়ে 
ছড়ানো আকাশ ভরতি কেশবিন্যাসের প্রদর্শনীতে নাম লিখিয়েছে ---- তবু  মোহবন্দী থেকে নিস্তার নেই আমাদের কারো । 


পথের এপাশ ঘুরে ওপাশে পিঁপড়েরা লাইন ভাঙছে ; তুমি হেসো না, 
এত হাসি ছড়িয়ে চলেছো বলেই ভয় হচ্ছে বিষণ্ণ মুখখানির কথা ভেবে ;   
তাহলে দিন রাত্রি সমান করে এত চিৎকার শুনতে হবে যে , 
আমরা কিছুতেই আর উৎসবের দিন গুনে 
বেঁচে থাকতেই পারবো না -----


পাথর ঘুম চোখ খুলে ডাক দিয়ে গেল কাকে যেন ! 
আমি কি তার পাঁচ আঙুলের ভেতর  
কিছুক্ষণ সুগন্ধি মেখে চেয়ে থাকবো ? যেভাবে সে  ছাতিম ফুলের সুবাস ছড়িয়ে উড়ে উঠলো উৎসবমুখর দিনে---







১২০.

উৎসব এলো 
আমি যেন কারো  যাওয়ার দিকে 
চেয়ে আছি অনন্তকাল -----


ঋতু আসে , চলেও যায়....... 
গাছে গাছে শুকিয়ে যায় 
যেভাবে একসময়ের কচি পাতারা ;


উৎসবের অংশিদার হতে গিয়েছিলাম বন্ধু সঙ্গতে , 
কেন জানি না কতবার 
মনে হলো 
শেষ কথা দিয়ে 
কীভাবে ফুরিয়ে গেল উভয়ের দেওয়া নেওয়ার 
চালাকির দিনগুলি ;


আজ বারবার উৎসবমুখর দিনে কেউ একজন ভিড় করলো।


আচ্ছা , আমি কি আবারও কারো অপেক্ষায় রয়েছি, কখন সে আমায় 
                 কিমা করাটা শেখাবে !


উৎসব আসে 
চলেও যায় 


আমি মনমরা হয়ে লক্ষ্য করি 
কারো ছুরি চালানোর ধরণটা কেমন ছিল !


------তার মুখটি তো কোনোদিন দেখিনি !
যদিও তাকে ক'দিন না দেখতে পেলেই বলতাম , ভিডিও কল দেবো?


সময় পাল্টায় । 
একদিনও তাকে দেখিনি। যেভাবে দেখলে
জিভ বেয়ে নেমে আসে 
সাপের ছোবোল ?






১২১.

গাছেরা চুল খুলে রোদ্দুরে শুখচ্ছে মাথা !


শীত ও সুষ্কতা এত প্রকৃতিতে ,
ঠিকঠাক বোঝার উপায় নেই 
সময় কতো এখন ।


আচ্ছা 
সে কি গত রাতে শিশিরে চাঁদে
লুকোচুরি খেলেছিল কুয়াশায় ?


চোখের ইশারারা যেন তেমন কিছুই 
নানা কথার ছলে লুকিয়েছিল 
অনেক অভিব্যক্তিতে ;
নাকি সেসব নিছকই 
ডালেদের শিহরণে আটকে যাবার ভয় !


কোনটা যে...


ক্লান্ত ছিলাম খানিকটা যেন ,
টানা শ্বাস পাঠিয়েও থেমে গেলাম বুঝি !
সেও পর্যটন কথা‌ বিলক্ষণ জানে যেন ;
দীর্ঘ লয়ে বুঁদ হয়ে যাওয়া তারপর .....?


যদিও আজ সে কথা যায়নি জানানো 
যদিও সেসব বলা কওয়ার ভেতর 
অনেক প্রতিপক্ষের ভিড় ---- 


তবু সে জানে , 
সবই যেন ক্ষমা কেবলই ;
অসহায়তা, পরাধীনতা 
অনেক বাক্য আওড়ায় ;


মনে মনে বলি, এতই যদি রোদেদের খুনসুটি মাখো
এই দুপুরের ;
তবে কেন বিপরীতে পাঠাও না 
প্রথম দিনের সুষমা খানিক !


ভেতর মহলে কী করে যে উঁকি দিয়ে 
সেই দুর্বোধ্য সংলাপ মুখস্থ করি!
থরথর করে ধুলোয় বালিতে উড়ে যাই 
দীর্ঘ কোনো পথে, কোথাও 


যে রোদে আজ সে ফুটিয়ে তুললো 
অনেক ঝুমকো জবাদের ;


কতকাল পাড়াগাঁর সে সব বাগানে 
ঢুকিনি যেন , কতকাল !







১২২.

কবিতা নয় 
কথোপকথনের অভিপ্রায় ,
অনন্ত অন্তরায় জুড়ে 
            ঘুরে ঘুরে 
পাক খায় , তার কোলাহলে ?


কতরকম ভাবেই না সময়ের নিরীক্ষণ ;
অসীমের নিয়তি জোড়া !


হয়তো  তবুতেই তার  যাওয়া আসা 
             জুড়ে এই গান ,
এই সুর , এই মুর্ছনা !


কেন যে মনে হয় 
কই , কথা হলো কই 
দেখাই বা হলো কই ?


অদেখার মাঝেই 
অনন্ত এই ,
অনন্ত কথপোকথন !

সকল ভাবনাই ভেসে গেল অনন্ত সে জলে ....


যে জলের অবস্থান 
পথপাশের
একটি জলাশয়েই স্থির !


তোমারও থাকে কি ?


জানা হলো না তো সে কথাটি কোনোদিন !







১২৩.

ঘুরেফিরে হাত রাখি সেই গতিতেই ,
যা বস্তুতঃ গতিই না 


ব্যবহৃত অভ্যাস...


অর্থাৎ যা কিছু গোপন,
সেটাই মান অপমানের?


কেনই বা অসহায়তা হতে যাবে 


যাই আর না যাই
পাই তো তাতেই ভুল 


এই ফুল কুড়াই
কোন অসীমের নিরিখে ?


যেদিকেই চাই 
বাজে খালি খোল যেন 
ফাঁপা, সবই ফাঁপা মাগো 


তাই তো খেপারে লুকোই , কোটোরে ঢুকি ;


পেছনে পেছনে ছোটে  অনন্তকাল 
কে যেন তবু .......







১২৪.

মাঠে মাঠে চড়েছিলো অজানা বাসনারা 


সে কথা রইলো সবই 
              অজানা !


সে শুধুই শস্য ফুলের ঝাঁঝালো মুগ্ধতার 
                                      নীলে নীলে 
 উড়ে বেড়ালো যেন ,
কোনো এক পাড়াগাঁর 
খোড়ো চালের দিগন্তপ্রসারী ছবির ভেতর 
একবার, দুইবার, হয়তো শতবার 
তার নীল সে মাছিরা 
হয়তো গভীর থেকে কোনো এক অসীমের প্রশান্তির ধার ছুঁয়ে ছুঁয়ে 
                 ভেসে গেছিলো বহু দূর অবধি ---- 
   

হয়তো সে সব চেতনায় থেকেও নেই   
হয়তো তন্দ্রায় জাগে 
হয়তো তাইই নিরেট বরফকুচি হয়ে 
         উড়ে বেড়ায় কোথাও 
       

তাতেও কি মুক্তি নেই তার !               

হয়তো বলবে  
না হলে নয় 
না হয় যেওই ভুলে 


শেষ সে উত্তর কারই বা জানা আছে কিছুই 


উত্তরের অসাড় ব্যবহারিক সন্ধিক্ষণে
সকলেই বিষণ্ণ -----
জাগরণের ঘাড় ভাঙা‌
           ছবি যেন সকলেই আজ ;


কেবলই ছবির মহড়া, আছে কি কিছুই!






১২৫.

কোন সে সুদূরে
আমার সকল ভার 
         দিয়ে যাবার 
ইচ্ছেরা সব রাজার মুকুট চায় , 
                              জানি না তো !


জানি কি তার আসার 
               খোঁজ
জানি কি তাঁর যাওয়া !


পাওয়া আর না পাওয়া জুড়েই গাই         
গাই এমন সে গান 


সে কি করে হায় হায় !


আয় আর না আয় 

এই তো সেই অসহায় 

যা তাঁর ইচ্ছা 
ও অনিচ্ছায় 

পায় তাই-ই ----


বোঝে না কেউই 


বোঝে না বলেই 
সুরটি চলে অসীমেই 


অসীমেই হারায় 
যা হয়তো কেবলই স্বাতন্ত্রের ---   
আছে কি কিছুই !






১২৬.

গতরাতের গভীরতায় 
হেঁটেছিল যে সব তন্দ্রারা ,
তাদের নিঃশব্দ পদচারণা 
কোনো এক মনমরা বিকেলের ঝুঁকে পড়া ভাষ্কর্যের অন্তরে প্রাণ পেতে পেতে 
কারো কানে পৌঁছেছিল কি সে সব কথা ?


বিস্ময়ের সব না হয় থাক
রাতের আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে ;


সত্যিই চেয়েছিল কি !


সকল ঘুমের পেছনের ঘাড়ে                                      কোনো আকুতি তার 
ছিলো কি কখনো ?
বলো , বলো তো 
একবার শুনি সে কথা ,
ওই ফাল্গুন রাতের হাওয়াদের সবটুকু 
    ভাবতে ভাবতে
             ‌না হয় ;


আহা !
কোনো এক সন্ধ্যার অন্ধকার পলাশ বনের ধারে 
হয়েছিলো কি দেখা‌ 
         কখনো !


হয়তো হয়েছিল, হয়তো বা নয় 
সে বিকাল সকলই এক গভীর রাত্রির স্বপ্ন- অভিলাষ যেন ;
বর্ণমালায় যে অদৃশ্য কথপোকথনের ভাষালিপি রচেছি  উভয়ে , নাকি সে সব সবই একা একার 
না ঘুম শীতরাত্তিরের ভেতর নিয়রেরা জন্মজন্মান্তরে যেতে যেতে 
যে সব মানুষের চোখ পেয়েছিলো বুঝি 


পৃথিবীর পথে পথে আমাদের মতোন ....?






১২৭.

এই রাতে
    কার ঘুমের ভেতর 
হামাগুড়ি দিয়ে চলি 
                        যে ,
ঘুমের ঘোরে পাখা মেলিয়ে 
একা একা পিঁপড়ে
          হয়ে গেলাম ?


কতকাল ধরে এই সব 
স্বাদ আহ্লাদে জড়িয়ে 
জীবনকে অনেক পুরোনো, বাসি করেছি যে 


সে কথা কে আর ভাবে !


জানতে জানতেই 
কত কিট পতঙ্গের ভেতর 
নতুন হলাম ,
নাকি পুরোনো সে সবই ---- 


তবুও মেটেনি স্বাদ
সত্যিই মেটেনি কি ?

 
মেটেনি বলেই তো কারো আঁখিপল্লবে 
রেখায়
থমকে থেমেছি যেন ;


কোন সে চেতনায় ?


সে সবের নৈরাজ্যের কথা কি আর বলি 
সে সব না হয় থাক 
আর একদিন থেমে গেলে ঘুর্ণন 
বসা যাবে নিরিবিলি এখন এই যাত্রায়  
পথে পথে না হয় 
চলুক কথপকথন ;
ঘুমের দেশের ঘোরে 
ঘুরে ঘুরে
আর একবার দোসর খুঁজি
হন্যে হোক সে, পাগল হোক 
তার চোখের নিচের কালিতে  
ডুবে থেকে খুঁজে ফিরি , যে পথে সে আমাকে হারায় 
আমিও কি হারিয়ে তাকেই খুঁজে ফিরি ?


যে পথের অন্তরায় কথা 
সেই জানে শুধু ।







১২৮.

বাতাসে বসন্ত 


রোদের আলোর ভেতর 
কারো অনুপস্থিতির ঘুঙুর বাজছে ।


সেও কি তালহারা ?


গতরাতে অন্য এক 
সম্ভাবনার কথা উড়ে আসছিলো বাতাসে ।


নাকি সে রাত ছিলো 
বিছানা জোড়া অস্থির পায়ের আগমন বার্তা শুধুই !


তারাদের হাহাকার ছিলো আকাশ ব্যাপ্ত ;


যেসব অসাড় নক্ষত্ররা বহুকাল ঝাপসা নিহারিকায় অস্পষ্ট মেঘ মেখেছিলো শরীরে ,
সেইসব ঘুর্ণয়মান মহাশূণ্য থেকে ঝড়ে পড়ছিলো যেন কত সব নতুন নতুন নক্ষত্ররা -----


পৃথিবীর চেয়ে আরো সুন্দর হতে পারে কি কিছু ?


কারো ঠোঁটের বক্র রেখায় এঁকেছিল কতকাল ধরে মানুষেরা তাদের মানসীর মুখ !
নাকি তারা শুধুই মানুষ না ,
মানবিক পুরুষ্টুতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে অকল্পনীয় অভিলাষে তারা আরো অন্য অনেক কিছু হয়ে গেছে অনন্তকাল !


দিকশূন্যতাও ছিলো , ছিল বারবার;


থাক 
সেসব যা ছিলো , আজ এই আলোর কোলাহলের ভেতর অনেক পৌষমাস চলে গেলেও ছুটে , আমরা যে উৎসবের আগমনী অনুভবে এসেছিলাম 
ভেঙে ভেঙে 
তাতেই যেন সকল সুস্থতার লক্ষণ বার্তা শুনিয়েছিল কেউ ---- তাদেরই অপেক্ষা ঘিরে আছে 
        সকল ঋতুসম্ভারে ..?


তুমি এঁকে থাকো না কেন 
যতোই কালো দাগ গতরাতে ----
যাত্রাপথের জীবিত বা মৃত নক্ষত্রদের ভেতর সে লাবন্যবার্তা থেকে রেহাই নেই কারো ----


সে গুঢ় সত্য বলে দিও না হয় তুমিই তাকে ।






১২৯.

সময়ের সত্যগুলি ঢেকে যাচ্ছে 
সাজানো পাতা ঝরায় যেন ;
কোন দিক থেকে তাকে ডাকি ?
কোন দিকে চলে গেল মাথা ঘুরিয়ে 
সকল ছায়ারা  
উল্টে বিষাদের মঙ্গল ঘট !


সে কি গাছ হয়ে 
হাওয়া দিতে এসেছিলো , নাকি পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে রহস্যরা 
অনেক চিৎকার শুনিয়ে চলেছে 
আমাদের হৃদয়ে বহুকাল ---- 


তাও বর্ণমালায় সাজিয়েছিল কত রং ;
রঙে রঙে আজও  হন্যে হয়ে 
খুঁজে চলি.....
পথে পথে ঘুরে চলি দিনান্তের পর দিনান্ত 


কেউ সাজিয়ে দেয় না একমুঠো শান্তি !
তিরস্কারে অপদার্থতা বোঝাতে চাই যতোই-----
চাই সেই সত্যের নির্মলতা ,
কেউ রাখে না হাত ।
হাতের এমন এক দীর্ঘ ছায়া ঘুরে ঘুরে 
কেবলই এগিয়ে আসে 
যখন সব মানুষের মুখ ভুল করে বসি !


ভুল হয় কত পাহাড় পর্বত 
গাছেদের , মাঠেদের,  পথেদের 
কে যেন কুন্ডলী ছড়িয়ে ফনা তুলে  চারদিকে ঘুরে চলে ;


কোন দিকে ঘুরিয়ে ধরি শরীর ,
যেখানে বাদ গেছে 
সকল দংশন ?






১৩০.

পথের যাত্রা শেষ হলে 
ঝালমুড়ির স্বাদও ভুল হয় একসময় ।
কত কষ্টে পাশের আসনটি ছেড়ে 
উঠে গেছিল দূরে যে মানুষটি
তার কথাও কি মনে থাকে , যখন নির্ধারিত কল ঘরে স্নানে যেয়ে দাঁড়াই ।


আত্ম সুখে শীতলতা ছুঁয়ে যায় 
যতদূর অবধি আকাঙ্ক্ষা 
                                  আর আকাঙ্ক্ষা....



একদিন সব দিনলিপি লেখা না হলেও ,
তাঁর কথাটি তার হয় না কোনোদিনও
যে আমাদের যাত্রা পথে ঝুঁকিয়ে দিয়েছিল মানবতার ঘাড় ----


আমাদের সব পথের ছবিই ঝাপসা হবে একদিন , যে মুখের গর্জন তেলেই চকচক করে উঠুক না কেন দেবী মুখ ; 


তখন কাশির শব্দে চরাচর মোহিত হবার নয় আর 
তখন তুমি যাত্রাপথের বাথরুমটি নোংরা করেই নেমে গেছো 


এটাই বড় সত্য ।









Wednesday, August 31, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



১০৮.
আজ কিছু অতিথি আসার কথা আছে ,
এক অর্থে পর্যটনের একটি বছর
নতুন ঘোরার আর একটি পথ চিহ্নিত করলো ।


সকলেই আসবে ,না কি কেউই আসে না বস্তুত ;
আমরা যার যার ছায়ায় খানিকটা গোল হয়ে শুয়ে নি ?


সে এলেও
সে আসে না
আসে তাঁর ছায়ারা !
আসরেও দাঁড়ায় হয়তো দু এক বার
মুখ ঘুরিয়ে ;


তাও এই নেশাগ্রস্থ
হওয়া ,
পানপাত্র পড়ে থাকে
চারদিক জুড়ে ;
পানপাত্র প্রদক্ষিণ করে যার যার আত্মায় আত্মায় ; -----


করতালির আওয়াজ আসে যেন ; উপস্থিতির ভেতর আরো এক অনুপস্থিতি ঘিরে আছে আমাদেরকে ?


কেন যে কিছুই ছুঁই না
কেন যে শান্তি স্থির চেয়ে থাকতে বলে খালি ;
নোনা জলের খাড়ি পার হয় ঠিক তখনই
    পূর্ণিমার চাঁদ..... 


অথচ সে কিছুতেই সীমানাও ডিঙাতে  পারে না  ----- 


ডাক পাঠাই যদিও জন্ম জন্ম ধরে .....;


সকলেই আসে কি একদিন, সকলেই যাওয়া আসা করে শুধুই ......


আজকের আড্ডায় 
নতুন অতিথি কেউ তো আসে নি !


গলা জড়িয়ে নেমে যাচ্ছিল তবুও কিছু নতুন সম্ভাষণ আজ ?





১০৯.
সস্তা খেলায় মজেছে যেন আসর ;

  .... বাদ দিন তো,ছাড়েন ওসব ----

 '.... লেখা বলতে ওই তো , কাঁটাতারের কান্নাই কেবল ---- বিভোর অপগণ্ডটা ....,
দুঃখ যেন ওরই শুধু দেশ হারানোর ;
দুঃখ, মুড়ি-মশলা  ? '

'বেহুদা ---
ওর কিছুই হয় না ..... '

' ওঁর হয় ? '

.....' না , ওঁরও না ....'

.....' তাঁর...?'

   ..... না , তাঁরও না ..'

    ' ...... তাঁর.....?

    '..... না না তাঁরও না । ওঁর ও না ।সকলেই একটা না এর ভেতর গুম ঘরে বন্দী ? '


' তাহলে হলো কার ?
ওই নাক মোটা , কোল কুঁজো ফোরে টার যত কান্না , দুঃখ - সুখ এই মেলার মাঠে বিকিয়ে গেল .....!

 কেউ তোমরা জানো না , জানে না , জানতে চাও ? 
না , অহোরাত্র সে যে তোমাদের ভেতরেই বাঁচে ও মরে ......;




১১০.
অনেক ব্যাস্ততা 
মানুষ গন্ধের ভেতর ;
কেন যে হুরোহুরি করি 
বুঝি না কাঁচা দিনের ,
আবেগী দিনের ঝাঁঝ- 


বড়ো নির্বোধ 
বড়োই নাদান ;
হয়তো বা শুধুই কাঁটাতারে লটকে গেছে যাবতীয় প্রেম 
               অপ্রেম ;


সে ফতোয়া তো দিল 
আজ যত সব কাটা খাসির পাঁজরা বার
       করা মুখের হাসি ;
নাকি লিভার যক্রিতে 
জড়ানো চর্বি বার করা 
পাঁচ ছ কেজির একখণ্ড দাবনা ?


লাইন ছিল বেশ খানিকটা , দোকানীকে ঘিরে লোলুপ চোখের খিল আঁটা গালে ;


আমার হয়েছে ঘোড়া- রোগ , ঘুরেফিরে 
হাত চলে যায় তার প্রফাইলেই -----
এই জন্যেই তো নারীবাদী লেখিকাদের
           ‌    চক্ষুশূল ; 
কী যে করি 
মনে হয় কত কথা 
তোমাকে জাননো হয়নি আজও
অথচ কথা তো রোজই হয় ;


শেষমেষ কথা হলো , ''তোমার কিন্তু একটু শরীর সচেতন হওয়া উচিত ভাই ----- ''





১১১.
কোথাও বেসুরে বাজছে তৃতীয়ার চাঁদ ;

সেও যে ছদ্মবেশী ও ঘাতক ,
তা কি করে বোঝে আজকের সানাই - ঘোর  ;

বড়োই রক্তলোভী 
প্রয়োজন
পশুর মতো ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটুকরো মেঘ ; কুয়াশা ঘিরে আছে কোথাও কোণায় কোণায় ।

সেও কি অসহায়ের চোখ হয় 
নাকি একটুখানি কৃপাময় ; জাত বেজাত বুঝতে তার 
       বোয়েই গেছে ---

যাইহোক
ক্ষুধার্ত সিংহ মরা মাংস ছোঁয় না ।

মানুষ শুধু মরা ও জ্যান্ত কিছুই বুঝতে চায় না ---- দুহাতে খায় , যা কিছু তার নাগালে ---- 

বড়ো বেসুরে বাজছে আজ তৃতীয়ার চাঁদে পৃথিবীর সকল আহ্লাদ  ?!


 


১১২.
শীতরাতের হিমেল হাওয়ায়
গাছের পাতারাও 
বিষাদময় গান হয় !


কেন যে আশারোগ যায় না তাও , 
বুকের ভেতর পা আছড়ায় কারো মুখটুকু আগলে ?


কেন যে দাঁড়াতে পারি না খালি গায় ,
রাতের বারান্দায় কুয়াশা মাখামাখি হতে ......;


পথের পায়ের উপর পথ উপুর হয়ে শুয়ে আছে ।
আমিও কি উপুর হয়ে কারো বুকের ভেতর কানতে চেয়েছিলাম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে?


তৃতীয়ার আকাশ জুড়ে তুমিই শুধু একা কানতে শেখ নি ----


সেই আকাশে কত দীর্ঘশ্বাস যে পাঠালাম 
তবুও রদ হলো না নক্ষত্রদের এই পেঁচা হয়ে যাওয়া -----
হৃদয়ের কুয়াশায় মাখামাখি ডানার শব্দে বারকয় মৃত্যুর ডাক শুনেও 
এই আশারোগে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকি -----





১১৩.
কোন তীর্থে 
কে খুঁজে মরছে প্রাণের আনন্দ -----

আমি তো তিমিরতীর্থপথযাত্রী ...

অনেক নালীঘাসে ভরা ছিল দুই হাত‌ ; 
গাছে গাছে 
অনেক অষ্টমঙ্গলার সুর ---- তেপান্তরের মাঠে 
কত ভিজে-সুবাস মাখলাম যে ----- সে সব জানার কথা না তোমার ---- জানে কি ওই দূর নক্ষত্রদের উজ্জ্বল আলোরা 
 নিভে যেতে যেতে....?
অনেক প্রাণঘাতী বল্লম হাতে নেমেছিল 
                  যারা 
খুঁজে নিতে অনেক বর্ষামঙ্গল ;

এসবের কিছুই জানার দরকার নেই ---- জানো না এই দুহাতে কত না ছিঁড়েছিলাম মিথ্যে সীমানার জাল ----

সে সব যদিও ছোঁবার কথা ছিল না 
ছিল না চারপাশে নির্ভেজাল জীবনের গল্প খানিক ;----
শিশুহাতে ভেঙে ছিলাম অনেক প্লাস্টিকের খেলনা 
তাঁদেরই মতো .....!

কেন যে বিঁধিয়ে নিলাম এত কাঁটাতার ....!

যাক ----- সে সব থাক 
এখন যেদিকে চলেছে রথ , তার ডাইনে ও বাঁয়ে সেসব নালীঘাসেদের চিহ্ন মাত্র নেই ;
আছে পাথর আর কাঁকড়ে ভরা খানিকটা অন্য গল্প --- 

যা তুমি শতজন্মেও পাবে না কখনো .....?!





১১৪.
চলো নেভা আঁচে
খানিকটা মাংস কষাই -----  চলো কষা মাংসের স্বাদ গন্ধ গিলতে গিলতে 
তৃষ্ণার তলদেশ ছুঁয়ে আসি । 

এমন দৃশ্যের চেয়ে মনোরম আর কিছু আছে নাকি ?
নাকি এসব নির্লজ্জের ---- ? 

যেটাই হোক ---- হোক না সুগন্ধে 
তুমি ও সে ;
সে ও তুমি এই সব কথপকথন চালাচ্ছিলে যে , সেটাই মনে এলো .... ;

তাছাড়া ভাব বিনিময়
সুফল , বিফল 
আর আছে যা কিছু নাকি ?

কাঁটা তারে কাঁটা তারে বিদ্ধ আমি , লটকে আছি একটি ফড়িংএর মতো ;
বাদুড় হয়ে দুহাতে ধরে আছি ধরফরানো জীবন খানিকটা !

যাক 
সে সব তোমাকে বলার না , তুমি মাইক্রোফোন হাতে ঘুরে ঘুরে বলো শুনি ------ মঞ্চ দাপিয়ে প্রসারিত করো এই বক্ষ  ; ----

চলো ক্লোজাপে পাঠাই তোমার ইশারা ;
চলো পেশাদার বাউলের একতারার নছল্লা ধরে দি ---- 

তুমিই বাজার আমার ;
তুমিই এখন বড়শির টোপ ;
গ্রীবায় খঞ্জনি উঁচিয়ে এসো 
আকাশ ছুঁয়ে আসি একবার অন্ততঃ






পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



৯১.
বছর সাতাশ আগের
একটি সকাল
দোয়েলের ডানায়
ভর দিয়ে দাঁড়ালো ;
ছুঁড়ে দিলো একমুঠো
‌ বকুল---
ছড়ানো ভোরের তারারা যেন ;


ঘ্রাণ নিলাম আমিও তার ?
বুক ভর্তি শ্বাস ফিরে এলো---- কতকালের পরিচিত সুবাসের
         সঙ্গে সঙ্গে.... 

তবু কত অপরিচয় যেন ; 
কত অজানায় জীবনের চলাচল বুঝি 
বাসি খোলোসের ভেতর কড়কড় করে ওঠে কত সরীসৃপ আতঙ্ক যে ,
সে যেন মুচড়ে ভাঙবে 
আবারো ছত্রিশ খানা  হাড়  ! 


না না 
এ সে অসহায়তা নয় 
সহায়হীন নির্মোহ ?


যাইহোক
এসেছিলো তো তবু  !


কোনো এক ভোরবেলার দরজা খুলে কে যেন চমকে 
              উঠেছিল
সে কি কম ?!


আজও সেই একটি দুটি দিনের ভেতর 
নিজেকে সঁপে দিই 
    অনাহুতের মত ?


শত পরিচিতের  অপরিচিয়ে ভাসাই 
    কত আকাশগঙ্গা ;
তাঁর নতুন নতুন জন্ম হয় , শত শত জন্মের 
    অভিসার শেষে 
     এমন বকুল 
      ছড়িয়েই বুঝি .....!





৯২.
মান অপমানের
প্রকৃত কোনো ভাষা হয় না 
হয় বোধ ।


নির্লিপ্ত হলাম 
অমীমাংসিত ফাঁকা পথে শিস দিতে দিতে 
         চলেছি .....
আকাশ যেখানে মাটি ছুঁয়ে নতজানু হয়ে আছে ----


কাউকে কেউ চাই না ।
নষ্ট দুচোখ চায় শুধুই  শত শত জন্মের গা- গুলোনো 
কশাইখানার দিকে ;


তারপর নদীর দীর্ঘ রেখাটিতে মিলেমিশে
 ভাটির গান হয়ে 
  যায় যেভাবে দিন ... ;


শিস দিতে দিতে 
ওই তো শেষ রাত 
        চলেছে যেদিকে ;
সেও বললো যেন ----
আমি তোমায় শত শত 
নিরাশ্রয়ের পথ দেখালাম ---- যার পর 
জলের চিহ্ন থাকে না 
        কোথাও আর।





৯৩.
একান্তে আপন ঢেউএ ভেসে বেড়াই ।
উল্টো দিকে 
তার প্রবাহের ভেতর 
  শত আলপনা আঁকে
                  সময় -----

একটারও 
পায়ের ছাপ পড়ে কি 
         কারো বুকে.... ?
খালি হয়ে যায় চাষের‌ 
                 মাঠ ----
খালি হয়ে যায় স্বপ্নেরা  


যা ছিলো 
জমির আকাঙ্ক্ষা 
উল্টো সোজা বুননে 
সেও কি কল্পিত বিস্ময়‌ আমাদের  ?


কেউ যেন কারো জলে নামেনি কখনো 
চাষ শেষ হয়ে যায়‌ 
     এমনি এমনি ... 
চাষ তো চাষের জমিই 
         চেনালো না 


একান্তে আপন দুঃখের ভেতর সকলেই হয় মাটি ।
হয় জল ? 
হয়ে যায় খানিকটা 
                   পাঁক .....
তখনও আলপনা উঠে 
আসে কোথাও নিভৃতি 
          দাওয়ায়  ;
উঠে আসে শুধুই পরষ্পরের মুহূর্ত কান্নাটুকুই -----


সত্যিই যদি তাও সত্য হতো ;
বিশুদ্ধতা প্রবাহের অন্তিম দেখাতো তাকে; 

ঘুরে দাঁড়াতো সকল জল- কথা ----





৯৪.
খুচরো পয়সার মতো এই রোদে 
আশ্বিন কুড়োতে বেরিয়েছি .....


ভাবছি , কোনদিক থেকে 
কে যেন ছুঁড়ে দিচ্ছে 
কার মাংস চোষা হাড়;
আমি কি কুকুর হয়ে 
শুঁকে বেড়াচ্ছি ?


সেও যেন নিরিখ করছে 
আছি কিনা পথের মাঝে ;


ওই তো বীজ ফাটিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছি 
দোনার গুঁড়ো র মতো ; 


ওহো , চেন না 
তাই না !
না চেনারই কথা 
সে সব কোন অচেনা গ্রাম্য নাম ধাম !
দেখো 
এই নগরের পথে পথে কেউ যেন মুঠোয় লুকিয়ে ছড়িয়ে দিল 
আমার সর্বাঙ্গ জুড়ে .... ; 

কাউকে বলিনি 
তোমার কথা 
তোমার ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট পাথেয় ;


উৎসবের দিন তো এখন ;
সচ্ছল সুখি মানুষজনদের ভিড়ে হারিয়ে যেয়েও 
পথময় একটুখানি আলোর প্রত্যাশা 
       কুড়িয়ে চলেছি ...





৯৫.
নীল আংটির ভেতর 
একটি একটি করে কমলা রঙের উজ্জ্বল তারাদের ডুবে যেতে দেখি ,
আমি তার হলুদে 
এত যে তর্জনী উঁচিয়ে
সাজিয়ে দিলাম ,
তাতে আরো কত মুক্তের ব্যবহার চেনাই বলো তো !


তারা তো বুঝলো শুধুই আগুন বিলাস ;


ও হোমাগ্নি 
তুমি তো জানো 
এই সেজে ওঠা সময়ের সকল অহম 
কিসে ছাই হয়ে যায় ---


তবুও বার বার 
মিনতি জানিয়েছি তার জন্ম-ললাট ছুঁয়ে;


চলো চলো 
সময় যে ফুরায় ,
নতুন লালিত্যে বহু ফুল করে তুলি তবু 
আঙুলে জড়াই 
একটা একটা করে খুলে দি শ্বাসের বুদবুদ 
তোমার গভীরে ;
নাও 
নাও সে অনিশ্চয়তা 
এ জন্মের বিধান ছুঁয়ে
গড়িয়ে দাও শত শত রঙের প্রস্ফুটন ;


তুমিই শেষ আঙুল 
যেখানে ফুটেছে হাজারো নীলকণ্ঠ  আজ ,


আমি কোন রঙে ছোঁয়াই ঠোঁট !





৯৬.
যাত্রা পথে অনেক স্বপ্ন থাকে ,
ফেরার পথেও 
অনেক আগুপিছু ঘুরি ;


গর্ভগৃহ খুঁজে পাই না 
আত্মীয়-অনাত্মীয়ও ;


পথের মানুষ কাছে পেতে এত যে অনিশ্চয়তায় ঝাঁপ দিই 
ভুলে যাই সময় অসময় ;


সেও কি শুধুই দেওয়া নেওয়া ?!


কার দেওয়াতে কে সমৃদ্ধ ?
রাতের আকাশের দিকে চেয়ে থাকি --- 


কুয়াশার ভেতর কে যেন হাত ছাড়িয়ে চলে 
                       যায়
যে হাতেই রাখি পূর্ণ শ্বাস ;


মুখটি ঘোরে না তো 
পথের ঘুরে দাঁড়ানোয় 
একটি কথাই বাতাসে বাজে শুনি ---- কোথাকার অথিতি আমি ......?!





৯৭.
পাতাদের উপর অনেক ঢেউ ভেঙে গড়িয়ে গড়িয়ে নামে দেখি তৃষ্ণারা .....


আমি কোন চোখে তাকে দেখতে পাই ?


বিভাজিত সে 
দুদিকেই বোইছে যখন নদী .......


প্রকৃতি যখন তার চোখের ভেতর খুলে রাখে সবটুকু নৈঃশব্দ 
সেই অবগুন্ঠনের ভাষাতেই বর্ণিত হয় যখন তার এক একটি চোখ 
আমি কার হাতে তুলে দিই সম্পূর্ণ বিশ্বাস ?


যা দিয়ে গড়ে তোলা যায় এক একটি সভ্যতার ইতিবৃত্ত -----


তাই তো তাকে দেখে মনে হলো , বলা হলো 
হয়তো অনেক না-বলা কথার পরের কথা;


আমি কি নদীকে 
তার বিভাজিকায় 
পৌঁছে দিয়ে 
নিজেই হয়ে যাবো 
এক একটি শ্রাবণ মেঘের ডাক  -----





 ৯৮.
মহানন্দা কোন দিকে 
কোথায় বোইছে দামোদর ?
তুমি কোন বাতাসে চিরে ফেলো 
ছুটতে ছুটতে কংশাবতীর  বুক !

এই নাও মুখ খোলা চিঠি ,
বলো তাকে রোদ উঠেছে ;
কোথায় তার উষ্ণ আলিঙ্গন ?


কেন যে সময় অসময় নেই আমি এসে দাঁড়াই
তার বাতাসে মুখ রেখে ; হৃৎপিণ্ডে জোয়ার ভেঙে যায় কতোই না ;


জানি কি তার সব স্বর !
সেও কি জানে 
কেন আমি এত নদী ভেঙে পাঠাই তার দুচোখের গভীরে ?


ওহে মহানন্দা 
ওহে কাশাই ,
কোন দিকে আজ তাকে আর একবার থমকে যেতে দেখেছি !





৯৯.
কিছুটা বলেছি 
কিছুটা বলিনি ,
জল থেকে উঠে
ডানা ভেঙে বসে পড়ে যেভাবে ক্লান্ত হাঁসেরা 
আমিও তেমনি সন্ধ্যার ক্লান্ত পায় 
নীরবে কথা বলেছি 
দু - এক কথা ; 


কেউ কি জানে 
শোনে ?
নাকি হাসতে হাসতে হয় খুন ,
মটকে পড়ে থাকে ঘাড় ভেঙে ;


সে সব যা হয় হোক গে কারো অন্তরে 
আমি শুধু সন্ধ্যার ক্লান্ত পায়ে নেমে যাবো এমন ভাবে যেখানে তার মনটি দেখেছি হতে শুধুই ভার , বাকি সবই প্রলাপের মতো তালি দিয়ে বেড়াক দুহাতে ;

সে সব ঢের জেনেছি একদিন ,
ভেবেছিও
তবু তার দুগালের জলরেখা ছুঁই নি ;
পড়েছে আড়ালে অনেক মঞ্জরী খসে ,পাপড়ি মেলেছে যেন বাসি ফলের মতোন কারো বা কথার ঢেউ
সে কথা হয় নি বলা বলে নি তো কেউ !


তাই তো এই হাঁস- সন্ধ্যায় তার ডানার তলায় তাকেও লুকিয়ে যেতে দেখে তাকেই পাঠাই না-বলা কথাটি বলার অভিপ্রায়ের বাকি কথাটি ....!





১০০.
তার ঘুমের ভেতরে 
কতবার 
চাঁদ তারাদের নিয়ে হুটোপাটি করলাম !


জানো অথবা জানো না ।
সে যা হোক 
একটা কিছু হলো  ;
মৃত মাছিদের ডানায় চড়ে আজ ই প্রথম ভাগাড়ে পড়লাম ?


আমিও মৃত মাছি এখন !


জানি না , তবে বড্ড লাল মেঘ দেখলাম আজ আকাশে ।
বড্ড লাল মেঘ ঝুলে আছে কার অভিশপ্ত ডানায়  !
অনেক গঙ্গাফড়িংদের  ভাঙাচোরা ডানার গোপোন চিৎকার সে সব ; 
বুঝলাম ওইখান দিয়েই যেতে হবে সকল ঘুমের অগচরে ;


যেভাবে তার ঘুমের ভেতর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ?


জানি না তো !


আড়ালে আমাদের যাত্রা পথের ঠিকানা যদি সঠিক কিছু থাকতো , তাহলে আরো ভালো হতো তার তন্দ্রায় পৌঁছতে



এমন হুমড়ি খেয়ে পড়ি 
একটুখানি লাল মেঘের নিচেয় দাঁড়াবো বলে  ?


ভিমরোতির শেষ আছে , তুমিই বলো ---






১০১.
কতকাল 
শিউলি তলায় ঘুরছি ,
কতকাল 
কদমের রেণু মাখছি গায় ,
রাধা রাধা বলে 
আমি কি গৌর গোঁসাই এর পিছু পিছু ছুটছি .......


ভুলে গেছি সংসার ধর্ম  !


ছাতিম ফুলের উগ্রতা ছুঁয়ে 
বকুল ঘ্রাণে বর্ষার মাদল শুনছি , পাহাড়ি খাদের ধারে  ?


কার উরুসন্ধি তে ডুবতে ডুবতে 
ভুলে গেলাম কোন পাঁপড়ির নির্মল সন্ধ্যা  ? 


সূর্য - স্তবে 
আগামী পৃথিবীর বিশুদ্ধতা চেয়ে ,
সেও কি তার ঘুম ভাঙা সকালের নিস্তব্ধতা ----- ?

ফুটে ওঠে নীলকণ্ঠ ফুল .... ?


ওমা ,
সে দিকেও চেয়ে দেখি সেও বলছে , ওই তো স্বর্গদ্বার ---- 


সেখানেও ভুল করলে তুমি ..... !





১০২.
কোনো দরজায় প্রহরী 
থাকবে না ,
কেউ থামাবে না 
উচ্চারণের স্বাতন্ত্রে 
          যেতে যেতে ...;


সে জন্যেই কি 
দরজা ভাঙি ?
আড়াল ভেঙে দি বাক্সের ,
বার করে আনি অন্য মুখ ?


কবিতার কাছে 
সম্পর্কের আনন্দ ছাড়া 
আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার ।


মহামানবতার ধ্যানে জ্বালিয়ে ধুনী
বসে আছেন যে 
সাধক 
আমি তাঁর সাধনসঙ্গীকে বলি ,
প্রস্ফুটিত হবার ভেতর 
ফুটিয়ে তোলো 
প্রকৃত রেণু ----


তাঁর গর্ভ থেকে 
জন্ম নিক 
এমন উচ্চারণ 
যাতে
কোথাও না থাকে 
ভেদাভেদ ;
প্রকৃত মানবের কাছে 
মানুষের যেতে......;





১০৩.
অযাচিত অপমান 
সময়ের উপেক্ষা ;
গোটাতে গোটাতে কেন্নো হয়ে মুখ গুঁজে পড়ে যাই কার কোলে তখনো ?

বহুবার সাবধান এর পরেও
আগলাতে যেয়েই
এই সরীসৃপ রূপ !

টুকরো হয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে নিতান্ত একটি অচল আধুলিতে গড়িয়ে বেড়াই 
পথের মাঝে .......;

বাতাস প্রতিবাদী হুঙ্কার ছাড়ে ।
কি আর করি 
আবারও সেই দুটি চোখের জলের সঙ্গে মিলিমিশে ছড়িয়ে পড়ি তার দুগালের উপর!


মনে হয় আকাশটাকে চৌচির করে ফাটিয়ে বলি ---- আমি কি সত্যিই পাপচোখে  তাকিয়েছিলাম 
চাঁদের কলঙ্কে ?





১০৪.
আজ কেন জানি না কান্না দিয়ে আঁকতে গেলাম তাঁর চোখ ; 
হাওয়ারা খেলা করলো । উল্টে দিলো যত জল ছিলো রঙে ভরা আকাশে ।


বড় অপেক্ষা ছিল ,
পথের স্বপ্ন - কথায় কতটুকু ছিলাম      তার অন্যমনষ্কতায় ---


রঙ তুলি ছাড়াই 
পথের কুড়োনো পাতায় 
তাই তো ফেলেছিলাম সকল চোখের জল ;
কি রঙে যে মুছে 
দিল বাতাস 
সেই মিলন দৃশ্য 


খুঁজে পেলাম না 


তাই কি নানা বাহানায় তার কন্ঠের ভেতর  প্রদক্ষিণ করলাম 
সেই শতজন্মের অপরিচয়  ?


তার চোখই কি 
তার হৃদয় ? 
এই পর্যটন সকল তীর্থক্ষেত্র ভুলিয়ে দিলো  ;


বৃন্দাবন চিনি কি ?
নাকি চিনি গোপোন সে লীলা মাধুরী 
তাই কি উন্মাদ হয়ে যায় সকল চোখের জল ...... ?





১০৫.
লুকোতে যেয়ে
নিজেই লুকিয়ে ফেলি 
নিজের সব সত্য !
সত্যরা কি এতই দূর্বল এতই ঠুনকো ?


সহজেই ভেঙে পড়ে ,
রক্তাক্ত হয় ? 

মিথ্যে হয়ে যায় 
তাঁকে নিয়ে আমার সকল কান্না ।


চারপাশে এত অনাহার 
এত বুভুক্ষুদের 
টানাটানি
এ ওর ঘাড়ে দাঁড় করায় , যা শুধুই কায়দা খানিক ।
নেই কোথাও সত্যের প্রকৃত সংলাপ ,
নেই প্রেম , নেই তিতিক্ষা ----
তবু তারাই তাকে হাটে বিকিয়ে চলে যায় ?


তাঁকে লুকোতে যেয়েই 
নিজেই লুকোই 
ব্যার্থ সময়ের হাতে ;





১০৬.
তোড়ে ভেসে যাওয়া 
বুদবুদদের আগলাতে 
নিজেও বুদবুদ
উঁকি দিয়েই ডুবে যাই।


নিচেয় কেমন ছিলাম ?
নিচেয় জীবন খুঁজতে যেয়ে এত প্লাবন ....!


সেও কি 
ভেতরেই থাকবে ,
না উঠে হরিণ দৌড় মারবে খানিক...... ?


বুঝতে পারিনা 
তবু তাঁর শরীরের গন্ধে বিভোর হই ----


অনেক দূরের 
একটি হাতের ইশারা 
 জলের উপর গড়িয়ে বেড়ায় যেন  ;


বছর পাল্টায় মধ্যরাতে ।
আড়াআড়ি উঠে দাঁড়ায় তার ছায়া ।
আমি ভিজি , নাকি 
উভয়েই ভিজতে ভিজতে নক্ষত্রদের 
ভেতরে হারিয়ে যাই ?


তুমি কি কাল রাতে 
একবারও
নতুন দিনের উপহারের কথা 
একবারও ভাবো নি !


চাঁদ ডুবে যাবার সঙ্গে সঙ্গে , সেই সব মৃদু আলোয় হয়তো ভেবেছিলে , হয়তো ভাবতে চেয়েছিলে ;
অথচ ভাবনারা নানা নিত্যপ্রয়োজনের ভিড়ে হারিয়ে গেছিল হয়তো ;


আমি তো অনেক বুদবুদের ভেতর কারো উত্থান কে দুহাতে তুলে নিতেই চেয়েছিলাম ---


গন্ধরাজ ফুলেদের হলুদ কেশরে অনেক দীর্ঘ সুবাস আজ ;





১০৭.
যেতে চাওয়া আলোর গতি 
নিষেধ না মানার পরোয়া করে তখনই
যখন
ছায়া সরে যেয়ে
ভয় পাওয়ায় পথিক কে ।


অবরুদ্ধ চারদিক ;
আরো চেপে আসে 
দশ-আঙুল প্রসারিত করে ----
গলা ছাড়িয়ে নি 
কিসের আতঙ্কে ?


বেশি দিন তো নয় 
বছর তো ফুরোলো তাও ; 
নতুন বছরের হইহুল্লার ভেতর 
উন্মুক্ত চুলের হাওয়ায় 
দাঁড়াতে চাওয়া কি 
এতটাই অন্যায় !


যদিও তখন মনে হয় 
কোথাও ছল আছে ;
সমস্ত বিশ্বাস জুড়ে 
উল্টে পড়ে আছে 
মেলার মাঠের মাটির 
             রাধা কৃষ্ণ ?


কুড়োতে কুড়োতে 
একটিই ঘোড়া ,
পক্ষীরাজ বানিয়ে নি ;


সেই যেন একমাত্র ভরসা ; 
এত করে বুঝিয়েও 
বিশ্বাসের রথ 
এতটা পথ অতিক্রম
   করতে পারলো না !
যার কাছে রাখতে চেয়েছিলাম গচ্ছিত 
আমার সকল পৌষমাস ;


ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম
রোদ্দুর উল্টিয়ে দুহাতে অনেকটা ----


কীভাবে বোঝাই 
এই শীত ফুরিয়ে এলো ..... ।





পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...