Wednesday, August 31, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



৯১.
বছর সাতাশ আগের
একটি সকাল
দোয়েলের ডানায়
ভর দিয়ে দাঁড়ালো ;
ছুঁড়ে দিলো একমুঠো
‌ বকুল---
ছড়ানো ভোরের তারারা যেন ;


ঘ্রাণ নিলাম আমিও তার ?
বুক ভর্তি শ্বাস ফিরে এলো---- কতকালের পরিচিত সুবাসের
         সঙ্গে সঙ্গে.... 

তবু কত অপরিচয় যেন ; 
কত অজানায় জীবনের চলাচল বুঝি 
বাসি খোলোসের ভেতর কড়কড় করে ওঠে কত সরীসৃপ আতঙ্ক যে ,
সে যেন মুচড়ে ভাঙবে 
আবারো ছত্রিশ খানা  হাড়  ! 


না না 
এ সে অসহায়তা নয় 
সহায়হীন নির্মোহ ?


যাইহোক
এসেছিলো তো তবু  !


কোনো এক ভোরবেলার দরজা খুলে কে যেন চমকে 
              উঠেছিল
সে কি কম ?!


আজও সেই একটি দুটি দিনের ভেতর 
নিজেকে সঁপে দিই 
    অনাহুতের মত ?


শত পরিচিতের  অপরিচিয়ে ভাসাই 
    কত আকাশগঙ্গা ;
তাঁর নতুন নতুন জন্ম হয় , শত শত জন্মের 
    অভিসার শেষে 
     এমন বকুল 
      ছড়িয়েই বুঝি .....!





৯২.
মান অপমানের
প্রকৃত কোনো ভাষা হয় না 
হয় বোধ ।


নির্লিপ্ত হলাম 
অমীমাংসিত ফাঁকা পথে শিস দিতে দিতে 
         চলেছি .....
আকাশ যেখানে মাটি ছুঁয়ে নতজানু হয়ে আছে ----


কাউকে কেউ চাই না ।
নষ্ট দুচোখ চায় শুধুই  শত শত জন্মের গা- গুলোনো 
কশাইখানার দিকে ;


তারপর নদীর দীর্ঘ রেখাটিতে মিলেমিশে
 ভাটির গান হয়ে 
  যায় যেভাবে দিন ... ;


শিস দিতে দিতে 
ওই তো শেষ রাত 
        চলেছে যেদিকে ;
সেও বললো যেন ----
আমি তোমায় শত শত 
নিরাশ্রয়ের পথ দেখালাম ---- যার পর 
জলের চিহ্ন থাকে না 
        কোথাও আর।





৯৩.
একান্তে আপন ঢেউএ ভেসে বেড়াই ।
উল্টো দিকে 
তার প্রবাহের ভেতর 
  শত আলপনা আঁকে
                  সময় -----

একটারও 
পায়ের ছাপ পড়ে কি 
         কারো বুকে.... ?
খালি হয়ে যায় চাষের‌ 
                 মাঠ ----
খালি হয়ে যায় স্বপ্নেরা  


যা ছিলো 
জমির আকাঙ্ক্ষা 
উল্টো সোজা বুননে 
সেও কি কল্পিত বিস্ময়‌ আমাদের  ?


কেউ যেন কারো জলে নামেনি কখনো 
চাষ শেষ হয়ে যায়‌ 
     এমনি এমনি ... 
চাষ তো চাষের জমিই 
         চেনালো না 


একান্তে আপন দুঃখের ভেতর সকলেই হয় মাটি ।
হয় জল ? 
হয়ে যায় খানিকটা 
                   পাঁক .....
তখনও আলপনা উঠে 
আসে কোথাও নিভৃতি 
          দাওয়ায়  ;
উঠে আসে শুধুই পরষ্পরের মুহূর্ত কান্নাটুকুই -----


সত্যিই যদি তাও সত্য হতো ;
বিশুদ্ধতা প্রবাহের অন্তিম দেখাতো তাকে; 

ঘুরে দাঁড়াতো সকল জল- কথা ----





৯৪.
খুচরো পয়সার মতো এই রোদে 
আশ্বিন কুড়োতে বেরিয়েছি .....


ভাবছি , কোনদিক থেকে 
কে যেন ছুঁড়ে দিচ্ছে 
কার মাংস চোষা হাড়;
আমি কি কুকুর হয়ে 
শুঁকে বেড়াচ্ছি ?


সেও যেন নিরিখ করছে 
আছি কিনা পথের মাঝে ;


ওই তো বীজ ফাটিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছি 
দোনার গুঁড়ো র মতো ; 


ওহো , চেন না 
তাই না !
না চেনারই কথা 
সে সব কোন অচেনা গ্রাম্য নাম ধাম !
দেখো 
এই নগরের পথে পথে কেউ যেন মুঠোয় লুকিয়ে ছড়িয়ে দিল 
আমার সর্বাঙ্গ জুড়ে .... ; 

কাউকে বলিনি 
তোমার কথা 
তোমার ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট পাথেয় ;


উৎসবের দিন তো এখন ;
সচ্ছল সুখি মানুষজনদের ভিড়ে হারিয়ে যেয়েও 
পথময় একটুখানি আলোর প্রত্যাশা 
       কুড়িয়ে চলেছি ...





৯৫.
নীল আংটির ভেতর 
একটি একটি করে কমলা রঙের উজ্জ্বল তারাদের ডুবে যেতে দেখি ,
আমি তার হলুদে 
এত যে তর্জনী উঁচিয়ে
সাজিয়ে দিলাম ,
তাতে আরো কত মুক্তের ব্যবহার চেনাই বলো তো !


তারা তো বুঝলো শুধুই আগুন বিলাস ;


ও হোমাগ্নি 
তুমি তো জানো 
এই সেজে ওঠা সময়ের সকল অহম 
কিসে ছাই হয়ে যায় ---


তবুও বার বার 
মিনতি জানিয়েছি তার জন্ম-ললাট ছুঁয়ে;


চলো চলো 
সময় যে ফুরায় ,
নতুন লালিত্যে বহু ফুল করে তুলি তবু 
আঙুলে জড়াই 
একটা একটা করে খুলে দি শ্বাসের বুদবুদ 
তোমার গভীরে ;
নাও 
নাও সে অনিশ্চয়তা 
এ জন্মের বিধান ছুঁয়ে
গড়িয়ে দাও শত শত রঙের প্রস্ফুটন ;


তুমিই শেষ আঙুল 
যেখানে ফুটেছে হাজারো নীলকণ্ঠ  আজ ,


আমি কোন রঙে ছোঁয়াই ঠোঁট !





৯৬.
যাত্রা পথে অনেক স্বপ্ন থাকে ,
ফেরার পথেও 
অনেক আগুপিছু ঘুরি ;


গর্ভগৃহ খুঁজে পাই না 
আত্মীয়-অনাত্মীয়ও ;


পথের মানুষ কাছে পেতে এত যে অনিশ্চয়তায় ঝাঁপ দিই 
ভুলে যাই সময় অসময় ;


সেও কি শুধুই দেওয়া নেওয়া ?!


কার দেওয়াতে কে সমৃদ্ধ ?
রাতের আকাশের দিকে চেয়ে থাকি --- 


কুয়াশার ভেতর কে যেন হাত ছাড়িয়ে চলে 
                       যায়
যে হাতেই রাখি পূর্ণ শ্বাস ;


মুখটি ঘোরে না তো 
পথের ঘুরে দাঁড়ানোয় 
একটি কথাই বাতাসে বাজে শুনি ---- কোথাকার অথিতি আমি ......?!





৯৭.
পাতাদের উপর অনেক ঢেউ ভেঙে গড়িয়ে গড়িয়ে নামে দেখি তৃষ্ণারা .....


আমি কোন চোখে তাকে দেখতে পাই ?


বিভাজিত সে 
দুদিকেই বোইছে যখন নদী .......


প্রকৃতি যখন তার চোখের ভেতর খুলে রাখে সবটুকু নৈঃশব্দ 
সেই অবগুন্ঠনের ভাষাতেই বর্ণিত হয় যখন তার এক একটি চোখ 
আমি কার হাতে তুলে দিই সম্পূর্ণ বিশ্বাস ?


যা দিয়ে গড়ে তোলা যায় এক একটি সভ্যতার ইতিবৃত্ত -----


তাই তো তাকে দেখে মনে হলো , বলা হলো 
হয়তো অনেক না-বলা কথার পরের কথা;


আমি কি নদীকে 
তার বিভাজিকায় 
পৌঁছে দিয়ে 
নিজেই হয়ে যাবো 
এক একটি শ্রাবণ মেঘের ডাক  -----





 ৯৮.
মহানন্দা কোন দিকে 
কোথায় বোইছে দামোদর ?
তুমি কোন বাতাসে চিরে ফেলো 
ছুটতে ছুটতে কংশাবতীর  বুক !

এই নাও মুখ খোলা চিঠি ,
বলো তাকে রোদ উঠেছে ;
কোথায় তার উষ্ণ আলিঙ্গন ?


কেন যে সময় অসময় নেই আমি এসে দাঁড়াই
তার বাতাসে মুখ রেখে ; হৃৎপিণ্ডে জোয়ার ভেঙে যায় কতোই না ;


জানি কি তার সব স্বর !
সেও কি জানে 
কেন আমি এত নদী ভেঙে পাঠাই তার দুচোখের গভীরে ?


ওহে মহানন্দা 
ওহে কাশাই ,
কোন দিকে আজ তাকে আর একবার থমকে যেতে দেখেছি !





৯৯.
কিছুটা বলেছি 
কিছুটা বলিনি ,
জল থেকে উঠে
ডানা ভেঙে বসে পড়ে যেভাবে ক্লান্ত হাঁসেরা 
আমিও তেমনি সন্ধ্যার ক্লান্ত পায় 
নীরবে কথা বলেছি 
দু - এক কথা ; 


কেউ কি জানে 
শোনে ?
নাকি হাসতে হাসতে হয় খুন ,
মটকে পড়ে থাকে ঘাড় ভেঙে ;


সে সব যা হয় হোক গে কারো অন্তরে 
আমি শুধু সন্ধ্যার ক্লান্ত পায়ে নেমে যাবো এমন ভাবে যেখানে তার মনটি দেখেছি হতে শুধুই ভার , বাকি সবই প্রলাপের মতো তালি দিয়ে বেড়াক দুহাতে ;

সে সব ঢের জেনেছি একদিন ,
ভেবেছিও
তবু তার দুগালের জলরেখা ছুঁই নি ;
পড়েছে আড়ালে অনেক মঞ্জরী খসে ,পাপড়ি মেলেছে যেন বাসি ফলের মতোন কারো বা কথার ঢেউ
সে কথা হয় নি বলা বলে নি তো কেউ !


তাই তো এই হাঁস- সন্ধ্যায় তার ডানার তলায় তাকেও লুকিয়ে যেতে দেখে তাকেই পাঠাই না-বলা কথাটি বলার অভিপ্রায়ের বাকি কথাটি ....!





১০০.
তার ঘুমের ভেতরে 
কতবার 
চাঁদ তারাদের নিয়ে হুটোপাটি করলাম !


জানো অথবা জানো না ।
সে যা হোক 
একটা কিছু হলো  ;
মৃত মাছিদের ডানায় চড়ে আজ ই প্রথম ভাগাড়ে পড়লাম ?


আমিও মৃত মাছি এখন !


জানি না , তবে বড্ড লাল মেঘ দেখলাম আজ আকাশে ।
বড্ড লাল মেঘ ঝুলে আছে কার অভিশপ্ত ডানায়  !
অনেক গঙ্গাফড়িংদের  ভাঙাচোরা ডানার গোপোন চিৎকার সে সব ; 
বুঝলাম ওইখান দিয়েই যেতে হবে সকল ঘুমের অগচরে ;


যেভাবে তার ঘুমের ভেতর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েছিলাম ?


জানি না তো !


আড়ালে আমাদের যাত্রা পথের ঠিকানা যদি সঠিক কিছু থাকতো , তাহলে আরো ভালো হতো তার তন্দ্রায় পৌঁছতে



এমন হুমড়ি খেয়ে পড়ি 
একটুখানি লাল মেঘের নিচেয় দাঁড়াবো বলে  ?


ভিমরোতির শেষ আছে , তুমিই বলো ---






১০১.
কতকাল 
শিউলি তলায় ঘুরছি ,
কতকাল 
কদমের রেণু মাখছি গায় ,
রাধা রাধা বলে 
আমি কি গৌর গোঁসাই এর পিছু পিছু ছুটছি .......


ভুলে গেছি সংসার ধর্ম  !


ছাতিম ফুলের উগ্রতা ছুঁয়ে 
বকুল ঘ্রাণে বর্ষার মাদল শুনছি , পাহাড়ি খাদের ধারে  ?


কার উরুসন্ধি তে ডুবতে ডুবতে 
ভুলে গেলাম কোন পাঁপড়ির নির্মল সন্ধ্যা  ? 


সূর্য - স্তবে 
আগামী পৃথিবীর বিশুদ্ধতা চেয়ে ,
সেও কি তার ঘুম ভাঙা সকালের নিস্তব্ধতা ----- ?

ফুটে ওঠে নীলকণ্ঠ ফুল .... ?


ওমা ,
সে দিকেও চেয়ে দেখি সেও বলছে , ওই তো স্বর্গদ্বার ---- 


সেখানেও ভুল করলে তুমি ..... !





১০২.
কোনো দরজায় প্রহরী 
থাকবে না ,
কেউ থামাবে না 
উচ্চারণের স্বাতন্ত্রে 
          যেতে যেতে ...;


সে জন্যেই কি 
দরজা ভাঙি ?
আড়াল ভেঙে দি বাক্সের ,
বার করে আনি অন্য মুখ ?


কবিতার কাছে 
সম্পর্কের আনন্দ ছাড়া 
আর কিছুই চাওয়ার নেই আমার ।


মহামানবতার ধ্যানে জ্বালিয়ে ধুনী
বসে আছেন যে 
সাধক 
আমি তাঁর সাধনসঙ্গীকে বলি ,
প্রস্ফুটিত হবার ভেতর 
ফুটিয়ে তোলো 
প্রকৃত রেণু ----


তাঁর গর্ভ থেকে 
জন্ম নিক 
এমন উচ্চারণ 
যাতে
কোথাও না থাকে 
ভেদাভেদ ;
প্রকৃত মানবের কাছে 
মানুষের যেতে......;





১০৩.
অযাচিত অপমান 
সময়ের উপেক্ষা ;
গোটাতে গোটাতে কেন্নো হয়ে মুখ গুঁজে পড়ে যাই কার কোলে তখনো ?

বহুবার সাবধান এর পরেও
আগলাতে যেয়েই
এই সরীসৃপ রূপ !

টুকরো হয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে নিতান্ত একটি অচল আধুলিতে গড়িয়ে বেড়াই 
পথের মাঝে .......;

বাতাস প্রতিবাদী হুঙ্কার ছাড়ে ।
কি আর করি 
আবারও সেই দুটি চোখের জলের সঙ্গে মিলিমিশে ছড়িয়ে পড়ি তার দুগালের উপর!


মনে হয় আকাশটাকে চৌচির করে ফাটিয়ে বলি ---- আমি কি সত্যিই পাপচোখে  তাকিয়েছিলাম 
চাঁদের কলঙ্কে ?





১০৪.
আজ কেন জানি না কান্না দিয়ে আঁকতে গেলাম তাঁর চোখ ; 
হাওয়ারা খেলা করলো । উল্টে দিলো যত জল ছিলো রঙে ভরা আকাশে ।


বড় অপেক্ষা ছিল ,
পথের স্বপ্ন - কথায় কতটুকু ছিলাম      তার অন্যমনষ্কতায় ---


রঙ তুলি ছাড়াই 
পথের কুড়োনো পাতায় 
তাই তো ফেলেছিলাম সকল চোখের জল ;
কি রঙে যে মুছে 
দিল বাতাস 
সেই মিলন দৃশ্য 


খুঁজে পেলাম না 


তাই কি নানা বাহানায় তার কন্ঠের ভেতর  প্রদক্ষিণ করলাম 
সেই শতজন্মের অপরিচয়  ?


তার চোখই কি 
তার হৃদয় ? 
এই পর্যটন সকল তীর্থক্ষেত্র ভুলিয়ে দিলো  ;


বৃন্দাবন চিনি কি ?
নাকি চিনি গোপোন সে লীলা মাধুরী 
তাই কি উন্মাদ হয়ে যায় সকল চোখের জল ...... ?





১০৫.
লুকোতে যেয়ে
নিজেই লুকিয়ে ফেলি 
নিজের সব সত্য !
সত্যরা কি এতই দূর্বল এতই ঠুনকো ?


সহজেই ভেঙে পড়ে ,
রক্তাক্ত হয় ? 

মিথ্যে হয়ে যায় 
তাঁকে নিয়ে আমার সকল কান্না ।


চারপাশে এত অনাহার 
এত বুভুক্ষুদের 
টানাটানি
এ ওর ঘাড়ে দাঁড় করায় , যা শুধুই কায়দা খানিক ।
নেই কোথাও সত্যের প্রকৃত সংলাপ ,
নেই প্রেম , নেই তিতিক্ষা ----
তবু তারাই তাকে হাটে বিকিয়ে চলে যায় ?


তাঁকে লুকোতে যেয়েই 
নিজেই লুকোই 
ব্যার্থ সময়ের হাতে ;





১০৬.
তোড়ে ভেসে যাওয়া 
বুদবুদদের আগলাতে 
নিজেও বুদবুদ
উঁকি দিয়েই ডুবে যাই।


নিচেয় কেমন ছিলাম ?
নিচেয় জীবন খুঁজতে যেয়ে এত প্লাবন ....!


সেও কি 
ভেতরেই থাকবে ,
না উঠে হরিণ দৌড় মারবে খানিক...... ?


বুঝতে পারিনা 
তবু তাঁর শরীরের গন্ধে বিভোর হই ----


অনেক দূরের 
একটি হাতের ইশারা 
 জলের উপর গড়িয়ে বেড়ায় যেন  ;


বছর পাল্টায় মধ্যরাতে ।
আড়াআড়ি উঠে দাঁড়ায় তার ছায়া ।
আমি ভিজি , নাকি 
উভয়েই ভিজতে ভিজতে নক্ষত্রদের 
ভেতরে হারিয়ে যাই ?


তুমি কি কাল রাতে 
একবারও
নতুন দিনের উপহারের কথা 
একবারও ভাবো নি !


চাঁদ ডুবে যাবার সঙ্গে সঙ্গে , সেই সব মৃদু আলোয় হয়তো ভেবেছিলে , হয়তো ভাবতে চেয়েছিলে ;
অথচ ভাবনারা নানা নিত্যপ্রয়োজনের ভিড়ে হারিয়ে গেছিল হয়তো ;


আমি তো অনেক বুদবুদের ভেতর কারো উত্থান কে দুহাতে তুলে নিতেই চেয়েছিলাম ---


গন্ধরাজ ফুলেদের হলুদ কেশরে অনেক দীর্ঘ সুবাস আজ ;





১০৭.
যেতে চাওয়া আলোর গতি 
নিষেধ না মানার পরোয়া করে তখনই
যখন
ছায়া সরে যেয়ে
ভয় পাওয়ায় পথিক কে ।


অবরুদ্ধ চারদিক ;
আরো চেপে আসে 
দশ-আঙুল প্রসারিত করে ----
গলা ছাড়িয়ে নি 
কিসের আতঙ্কে ?


বেশি দিন তো নয় 
বছর তো ফুরোলো তাও ; 
নতুন বছরের হইহুল্লার ভেতর 
উন্মুক্ত চুলের হাওয়ায় 
দাঁড়াতে চাওয়া কি 
এতটাই অন্যায় !


যদিও তখন মনে হয় 
কোথাও ছল আছে ;
সমস্ত বিশ্বাস জুড়ে 
উল্টে পড়ে আছে 
মেলার মাঠের মাটির 
             রাধা কৃষ্ণ ?


কুড়োতে কুড়োতে 
একটিই ঘোড়া ,
পক্ষীরাজ বানিয়ে নি ;


সেই যেন একমাত্র ভরসা ; 
এত করে বুঝিয়েও 
বিশ্বাসের রথ 
এতটা পথ অতিক্রম
   করতে পারলো না !
যার কাছে রাখতে চেয়েছিলাম গচ্ছিত 
আমার সকল পৌষমাস ;


ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম
রোদ্দুর উল্টিয়ে দুহাতে অনেকটা ----


কীভাবে বোঝাই 
এই শীত ফুরিয়ে এলো ..... ।





No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...