Wednesday, August 31, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



৮৪.
আমার প্রত্যেকটা দিন ফুরায় প্রত্যেকটা মুহূর্তের অনিশ্চয়তায়।

এই ভাবি এমন একটা সময় এলো
পাল্টে গেল সব দুঃসহতা ---- চাঁদ উঠলো বৃষ্টির শেষে
এবার একবার ছাঁদে উঠবো , মাঠ পেরিয়ে ;

মাঠ ,
সে সব কবেকার ঝুরঝুরিয়ে ঝরে পড়া মেঘ-বৃষ্টি-জল......
আমাদের স্বপ্নের ভেতর লুকোনো লীলা ;

মানুষের গন্ধে বিভোর। নিষ্পাপ চারখানি হাতের বেষ্ঠনে একখানি বটপাকুরের ঝুরি নামানো মিলন উৎসব। কে কার তীমির হারিয়ে ঘুরিয়ে রয়েছে বাকলে সকল বলিষ্ঠ অভিব্যক্তি জানিনি তো !
শুধুই বিস্ময়ে বিভোর চেয়ে গেছি উভয়ে‌ উভয়ের চোখের মণির অন্তরীক্ষে....!

সে যাক , সে সব প্রাগৈতিহাসিক কথা । কেমন আছো বলো তো এত বৃষ্টির পর আজ ?

চেয়ে দেখেছ কি
ঘুরে উঠেছিলে কি মেঘের আকাশে, একবারও কি অন্যমনষ্ক তোমার পাপে তুমি পুড়েছিলে কি ?

যদি পুড়ে না থাকো
যদি না থেকে থাকো ভিজে , না সেঁকে থাকো বৃষ্টির পরে তোমার এত ভেজা ;

তবে শোনো , তুমি জন্মাও নি কোথাও। তোমার খোলোস পড়েছে খসে এই পৃথাবীর পরে । তুমি জন্ম যদি সত্যিই নিতে, তাহলে এত জন্মের অভিশাপ ধারণের পর , আর একটি জন্মের হাতে সুনিপুণ কৌশলে তুলে দিতে পারতে না এত মেঘেদের আকাশ
বস্তুত যে মেঘে কোথাও জন্মের কথা লেখা নেই । সৃষ্টির কথা ।

এতটা বৃষ্টির পর একবারও কি ছাঁদে দাঁড়িয়েছিলে , না মাঠের দিকে চেয়ে অন্ধকারে হারিয়েছিলে একবারও দীর্ঘশ্বাসে !



৮৫.
দূর থেকে এঁকে তুলেছি যে পথ , তার ভেতর কে যেন পেছন ফিরে চলে যাচ্ছে

হাঁটতে হাঁটতে....

আমি কি তার পিছনের সমস্ত স্তর থেকে সম্পূর্ণ একটি সুন্দরকে দেখতে চেয়েছিলাম বলেই কে যেন ডুকরে উঠলো !

জানি জানি ,
নিঃশব্দের  অসহায়তায় কম বেশি সকলেরই কথপকথন 
                   চলে ..... ;
কে আর বাইরে আছে আজ ---- 

তবু তো একবার অন্তত চেষ্টা থাকে , উচ্চারণ স্পষ্ট হয় যদি  ----- এই আলোআঁধারির পথে ;

এই কুয়াশাদের মেঘমল্লারে ডেকে বেড়াই খালি খালি !

সে কথা যেন বুঝি বলেই 
পারলে ফিরে চেও
          মেঘমল্লারে .....


 

৮৬.
হাওয়ারা লুটোপুটি খাচ্ছিল পাথরে । মঞ্চের চারপাশেও।
পলাশেরা হাওয়া বাতাসে মিশে অভিবাদন জানাচ্ছিল কাকে কাকে যে 
সেটাই ভাবছিলাম ।
পলাশেরা কি তাদের কালোর ঘোরে 
একটুখানি নতজানু ?

একটি অবিন্যস্ত সম্ভাষণ পর্বে এদিকে কেউ যেন আর একটু এগিয়ে বাড়িয়ে দিল 
গলা , বললো , ' .. এভাবে নয় , এই ভাবে .... ;

তুমি কি চমকে গেলে চিরকালের নাদান ?
নাকি মুগ্ধ হয়ে চাইলে ওহে প্রাণ , তুমি কি আজও এতটাই অপরিণত .....?

মুহূর্ত ঘুরতে না ঘুরতে কোথায় হারিয়ে গেল মুহূর্তটা .....!

আর এলো না । আসে না ।
এভাবেই কেউ কাউকে উৎসর্গ করলো গোপনে তার হারিয়ে যাওয়া ঘুম --- ?





৮৭.
টিয়াপাখির চোখের পাতায় 
প্রতিশ্রুতিরা 
ঘোরায় এমন আকাশ 

সে সব বহুকাল 
দেখে দেখে 
মুখস্থ করেছি অনেক ;

ফাঁদের দরজা আলগা 
রাখি তাই 
বসো তো বসো 
না বসো তো যাও ----

তার ওড়া ডানার
সবুজ ছুঁয়ে
দেখতে চাই না আর ;
তার চেয়ে সে যত ওড়ে 
আমি ততোই উঁচু করি 
আমার ছোঁয়া আকাশটাকে ; 

ওই তো তার ছায়া ,
ওই তার কমনীয় ডানার ঢেউ ,
ওই তো তার রোদ-ছায়ায় কিছুটা হলকা এসে উষ্ণ
করে দিলো আমার ক্ষত ?
সেই সৌন্দর্যে 
লীন হতে হতে 
কতটা ব্যর্থতা দিয়ে ফোটাই না-বলা রক্ত-জবাদের সকল  কুঁড়ি  ----?





৮৮.
এই হেমন্তের দুপুর ,সেই অঘ্রাণ ---
অনেক ভোরের ভুল-আলোর দরজা ঠেলে হুমড়ি খেয়ে পড়লো  ;

আজও তার অচেনা মুহূর্তগুলো
এলোমেলো উড়ে বেড়ায় ।

সেই নিস্তব্ধতা ছুঁয়ে
কত রাত ডিঙ্গোই ;
কত তারায় তারায় ভেসে বেড়ায় অনন্ত  অজানা কথারা যে , সেই অচেনা নিহারিকার পথে পথে ...... !

এই অঘ্রাণ মাস 
তাকে ঘিরেই বৃত্তায়িত ; আমিও তাঁর ভেতর ঘুরতে ঘুরতে অনেক পাকা ধানের গন্ধে 
বয়েস বাড়িয়ে চলেছি যেন .....

আরো কতকাল 
তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে
সেই কিশোর থাকবো
        বলো তো  ?

হেমন্তকাল এলে 
আরো অনেক অঘ্রাণের দুপুর রাত্রি 
সেই ভোরের কুয়াশায় মিশে যেতে থাকে .....

এসব সে যদি জানতো , হয়তো বা নিয়র হয়ে ঝরে পড়তো 
ওই অবহেলিত ঘাসেরা যেখানে ছুঁয়ে আছে শুকনো মাটির বুকখানি .....?




 
৮৯.
আমি তো মনে করি না !
সে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিনে কাজে ।
ঘুরপাক খায় আনমনে। তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় এই আসা ......

সিগারেট চলাচল শেষ হলে , মাথা থেকে সরে যায় তার ছায়া ----আলগা একটা অবয়ব জুড়ে বিপরীত এই আলো ------  ;

সেই ঢেউএর ভেতরে তাকে 
আমি দিগন্ত পার করে দিই ----- 

জন্মজন্মান্তরের  আসা যাওয়া, এই মান অভিমান ঘিরে , সে আমার দ্বিতীয় সত্তা 
   প্রসব করাতে চায় ?





৯০.
মাঝখানে অবিনাশী ছোঁ-----

দুপাশে তরঙ্গ ..... ;

এই না দেখে 
কী হাসিই না হাসলো 
উপুড় হওয়া জল ;

ওদিকে আর এক রহস্যময় রোদেদের উঁকিঝুঁকি ;

ওহে আকাশ 
তুমি কি আমার সব চিঠি গোপন বাক্সে ফেলে পালিয়ে যাও ?

তা যাও,
কিন্তু একবার অন্তত বলো তাঁকে
সে কেন খোলে না বুকের বোতাম 
এত ঘামে ;
জলে ভাসতে ভাসতে 
          চলে যায় 
    দুপাশের তরঙ্গরা ...
         
দু'প্রান্ত চিরে যে পাখি 
   ডেকে উঠলো আজ 
তাকে কি সত্যিই সে চেনে নি !
করোটির ডমুরু বাজলো মহাকালের হাতে।

উৎসর্গে সে কথা জানিয়ে দিল কে আজ ?

যে গ্রন্থে নাম লেখা হলো উভয়ের !








No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...