পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে
দীপংকর রায়
উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস
৮৪.
আমার প্রত্যেকটা দিন ফুরায় প্রত্যেকটা মুহূর্তের অনিশ্চয়তায়।
এই ভাবি এমন একটা সময় এলো
পাল্টে গেল সব দুঃসহতা ---- চাঁদ উঠলো বৃষ্টির শেষে
এবার একবার ছাঁদে উঠবো , মাঠ পেরিয়ে ;
মাঠ ,
সে সব কবেকার ঝুরঝুরিয়ে ঝরে পড়া মেঘ-বৃষ্টি-জল......
আমাদের স্বপ্নের ভেতর লুকোনো লীলা ;
মানুষের গন্ধে বিভোর। নিষ্পাপ চারখানি হাতের বেষ্ঠনে একখানি বটপাকুরের ঝুরি নামানো মিলন উৎসব। কে কার তীমির হারিয়ে ঘুরিয়ে রয়েছে বাকলে সকল বলিষ্ঠ অভিব্যক্তি জানিনি তো !
শুধুই বিস্ময়ে বিভোর চেয়ে গেছি উভয়ে উভয়ের চোখের মণির অন্তরীক্ষে....!
সে যাক , সে সব প্রাগৈতিহাসিক কথা । কেমন আছো বলো তো এত বৃষ্টির পর আজ ?
চেয়ে দেখেছ কি
ঘুরে উঠেছিলে কি মেঘের আকাশে, একবারও কি অন্যমনষ্ক তোমার পাপে তুমি পুড়েছিলে কি ?
যদি পুড়ে না থাকো
যদি না থেকে থাকো ভিজে , না সেঁকে থাকো বৃষ্টির পরে তোমার এত ভেজা ;
তবে শোনো , তুমি জন্মাও নি কোথাও। তোমার খোলোস পড়েছে খসে এই পৃথাবীর পরে । তুমি জন্ম যদি সত্যিই নিতে, তাহলে এত জন্মের অভিশাপ ধারণের পর , আর একটি জন্মের হাতে সুনিপুণ কৌশলে তুলে দিতে পারতে না এত মেঘেদের আকাশ
বস্তুত যে মেঘে কোথাও জন্মের কথা লেখা নেই । সৃষ্টির কথা ।
এতটা বৃষ্টির পর একবারও কি ছাঁদে দাঁড়িয়েছিলে , না মাঠের দিকে চেয়ে অন্ধকারে হারিয়েছিলে একবারও দীর্ঘশ্বাসে !
৮৫.
দূর থেকে এঁকে তুলেছি যে পথ , তার ভেতর কে যেন পেছন ফিরে চলে যাচ্ছে
হাঁটতে হাঁটতে....
আমি কি তার পিছনের সমস্ত স্তর থেকে সম্পূর্ণ একটি সুন্দরকে দেখতে চেয়েছিলাম বলেই কে যেন ডুকরে উঠলো !
জানি জানি ,
নিঃশব্দের অসহায়তায় কম বেশি সকলেরই কথপকথন
চলে ..... ;
কে আর বাইরে আছে আজ ----
তবু তো একবার অন্তত চেষ্টা থাকে , উচ্চারণ স্পষ্ট হয় যদি ----- এই আলোআঁধারির পথে ;
এই কুয়াশাদের মেঘমল্লারে ডেকে বেড়াই খালি খালি !
সে কথা যেন বুঝি বলেই
পারলে ফিরে চেও
মেঘমল্লারে .....
৮৬.
হাওয়ারা লুটোপুটি খাচ্ছিল পাথরে । মঞ্চের চারপাশেও।
পলাশেরা হাওয়া বাতাসে মিশে অভিবাদন জানাচ্ছিল কাকে কাকে যে
সেটাই ভাবছিলাম ।
পলাশেরা কি তাদের কালোর ঘোরে
একটুখানি নতজানু ?
একটি অবিন্যস্ত সম্ভাষণ পর্বে এদিকে কেউ যেন আর একটু এগিয়ে বাড়িয়ে দিল
গলা , বললো , ' .. এভাবে নয় , এই ভাবে .... ;
তুমি কি চমকে গেলে চিরকালের নাদান ?
নাকি মুগ্ধ হয়ে চাইলে ওহে প্রাণ , তুমি কি আজও এতটাই অপরিণত .....?
মুহূর্ত ঘুরতে না ঘুরতে কোথায় হারিয়ে গেল মুহূর্তটা .....!
আর এলো না । আসে না ।
এভাবেই কেউ কাউকে উৎসর্গ করলো গোপনে তার হারিয়ে যাওয়া ঘুম --- ?
৮৭.
টিয়াপাখির চোখের পাতায়
প্রতিশ্রুতিরা
ঘোরায় এমন আকাশ
সে সব বহুকাল
দেখে দেখে
মুখস্থ করেছি অনেক ;
ফাঁদের দরজা আলগা
রাখি তাই
বসো তো বসো
না বসো তো যাও ----
তার ওড়া ডানার
সবুজ ছুঁয়ে
দেখতে চাই না আর ;
তার চেয়ে সে যত ওড়ে
আমি ততোই উঁচু করি
আমার ছোঁয়া আকাশটাকে ;
ওই তো তার ছায়া ,
ওই তার কমনীয় ডানার ঢেউ ,
ওই তো তার রোদ-ছায়ায় কিছুটা হলকা এসে উষ্ণ
করে দিলো আমার ক্ষত ?
সেই সৌন্দর্যে
লীন হতে হতে
কতটা ব্যর্থতা দিয়ে ফোটাই না-বলা রক্ত-জবাদের সকল কুঁড়ি ----?
৮৮.
এই হেমন্তের দুপুর ,সেই অঘ্রাণ ---
অনেক ভোরের ভুল-আলোর দরজা ঠেলে হুমড়ি খেয়ে পড়লো ;
আজও তার অচেনা মুহূর্তগুলো
এলোমেলো উড়ে বেড়ায় ।
সেই নিস্তব্ধতা ছুঁয়ে
কত রাত ডিঙ্গোই ;
কত তারায় তারায় ভেসে বেড়ায় অনন্ত অজানা কথারা যে , সেই অচেনা নিহারিকার পথে পথে ...... !
এই অঘ্রাণ মাস
তাকে ঘিরেই বৃত্তায়িত ; আমিও তাঁর ভেতর ঘুরতে ঘুরতে অনেক পাকা ধানের গন্ধে
বয়েস বাড়িয়ে চলেছি যেন .....
আরো কতকাল
তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে
সেই কিশোর থাকবো
বলো তো ?
হেমন্তকাল এলে
আরো অনেক অঘ্রাণের দুপুর রাত্রি
সেই ভোরের কুয়াশায় মিশে যেতে থাকে .....
এসব সে যদি জানতো , হয়তো বা নিয়র হয়ে ঝরে পড়তো
ওই অবহেলিত ঘাসেরা যেখানে ছুঁয়ে আছে শুকনো মাটির বুকখানি .....?
৮৯.
আমি তো মনে করি না !
সে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বিনে কাজে ।
ঘুরপাক খায় আনমনে। তার ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় এই আসা ......
সিগারেট চলাচল শেষ হলে , মাথা থেকে সরে যায় তার ছায়া ----আলগা একটা অবয়ব জুড়ে বিপরীত এই আলো ------ ;
সেই ঢেউএর ভেতরে তাকে
আমি দিগন্ত পার করে দিই -----
জন্মজন্মান্তরের আসা যাওয়া, এই মান অভিমান ঘিরে , সে আমার দ্বিতীয় সত্তা
প্রসব করাতে চায় ?
৯০.
মাঝখানে অবিনাশী ছোঁ-----
দুপাশে তরঙ্গ ..... ;
এই না দেখে
কী হাসিই না হাসলো
উপুড় হওয়া জল ;
ওদিকে আর এক রহস্যময় রোদেদের উঁকিঝুঁকি ;
ওহে আকাশ
তুমি কি আমার সব চিঠি গোপন বাক্সে ফেলে পালিয়ে যাও ?
তা যাও,
কিন্তু একবার অন্তত বলো তাঁকে
সে কেন খোলে না বুকের বোতাম
এত ঘামে ;
জলে ভাসতে ভাসতে
চলে যায়
দুপাশের তরঙ্গরা ...
দু'প্রান্ত চিরে যে পাখি
ডেকে উঠলো আজ
তাকে কি সত্যিই সে চেনে নি !
করোটির ডমুরু বাজলো মহাকালের হাতে।
উৎসর্গে সে কথা জানিয়ে দিল কে আজ ?
যে গ্রন্থে নাম লেখা হলো উভয়ের !

No comments:
Post a Comment