পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে
দীপংকর রায়
উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস
৭৭.
ঘুরতে ঘুরতে
এতটাই ঘুরে গেছে
ছায়া-সমৃদ্ধ ----
কোন দিক থেকে আবৃত হই ?
ভাবতে ভাবতেই পাঠালাম অনেক পরাজিত আঁকিবুঁকি
হাত উল্টে
হাত নয়
হাতের ছায়ায় মেলে ধরলো অনেকখানি মুহূর্তের কুয়াশা ----
কত খাজুরাহো
কত পোড়া মাটির স্থাপত্য সে সব !
বুঝি অথবা বুঝি না ---
পাথর খোদাই হয় থরে থরে । খোদাই হয় কত মৈথুন রূপ !
যদিও দেখি না
কিম্বা দেখি
অন্তরে উল্লাস নেই তো তাও কোথাও ;
জীবন পূর্ণতায় হামাগুড়ি টানে তবু ?
পায় কি !
পথে পথে ঢেউ গুনি । বেঁকতে বেঁকতে পথ উল্টাই এত ,
এসবের কিছুই জানো না তো !
জানতে জানতেই জীবন প্যাঁচার চোখের নিরিখে হারিয়ে যায় --
হারিয়ে যায় অন্ধকার রাতের তারায় তারায়
আমাদের কত সমৃদ্ধ অসমৃদ্ধ ঘুম চোখ যেন ......
ফুরায়
সকলই ফুরায়
কুয়াশা ভরা মুখে ----
যেতে যেতে যেমনটা দেখে কেউ ,
সকলেই না ----
৭৮.
থরে থরে সাজিয়ে তুলি অনেক না বলা
অনেক উৎসর্গ -----
ভুল সম্ভাষণে সারা জীবন সাজায় যা মনোসংযোগ ?
তাতেই সকলে ডুবি।ডোবাই অনেক হিম কুয়াশায় সমস্ত রাত্তির।
তারপর সে কোন দিকে যায় ?
তাহারাই বা কোথায় যেতে যেতে ঘুরেছিলো পিছনে একবার !
দড়মায় বুনে উঠলো যে সব সম্মোহন ;
বাঁশের মাচায় শেষ হলো যে জীবনের ঘুম-চোখ , তারপরেও কি বাকি ছিলো কিছু অলিখিত সংলাপ ?
তুমিই জানো
ওহে অভিমানী প্রস্থান
তুমিই জানো ভালো
সেই জলে ভেসে
যেতে যেতে
শেষ সেই অস্থির কথপকথন ----
৭৯.
চঞ্চলতা উধাও হয়েছে আজ । ঘুরে গেছে একে একে নক্ষত্রেরা ছিল যেখানে যত । সকলেই ঢেকেছে মুখ মুখের আড়ালে ওই ।
তার দীপাবলীর আলোক সম্ভারে , কত নতুন মুখের আয়োজন আজ ; সেজে উঠেছে আগের ছায়াশরীরীরা একে একে এসে যেন --- সে সবের পেছনে আরো কত পুরাতনের সারি যে ছিল ,
চিরপুরাতনের পায়ে পায়ে গড়িয়ে চলেছে শত শত যুগ ধরে
যে সকল অভিসার ---- চলে গেছে কত মমৃয়মান আলোকরাশি -----
কোই কোথাও কোনো দুঃখ তো নেই !
সকলই গতানুগতিক প্রস্থান .......
তবে তুমি কী দিয়ে আঁকতে চাইছো তাকে ?
ছায়ার ভেতর ছায়া এসে গুমড়ে উঠছে আনমনে ।
কে সে ?
কে গো !
কে তাকে নিয়ে ঝরে পড়লো ওই দূরে
শিশিরের পায়ে পায়ে .....?
এই তো কিছুদিন আগেও আলপনায় আলপনায় সমস্ত সাজিয়ে তুলেছিল সেই তো , লেখা ছিলো আনমনে তার-ই চোখের পলক সে সব !
৮০.
প্রতিদিনের উৎকন্ঠায়
সে ছিলো
হারিয়ে যাওয়া দূরের প্রতিধ্বনি ।
অনেক অপেক্ষা জুড়ে
ভাসিয়ে রাখা
তার একটুকরো আকাশের কোণায় একটি তারা ----
হাঁটতে হাঁটতে পেছন ফিরে দেখা
যে সব পেছনের ঢেউ
তারা যে এতটাই ঘায়েল-সৌন্দর্য ,
সে কথা এতকাল তো জানতে পারিনি !
সে যে কখন মা ও মেয়ে , মেয়ে ও প্রিয়
এত উলঙ্গ-উচ্চতায় ঘুরিয়ে ঢাকছে ওই আঁচলখানি !
তাহলে এ পর্বেও
ছলনায় ঢেকে ফেললো সে তাঁর
পেছন থেকে দেখা সকল সুন্দর !
আর একটু বিশ্বাস দাও আমায় , ওহে প্রবঞ্চক
সময়ের নতুন ঘোরলাগা সেই ক্ষেতের কুয়াশায় সরে যায় কে যে ওই দূরে ..
তাঁর কোনো অভিনিবেশ
খুঁজে না পেলেও
মানতে পারছি না সেই পিছন ফিরানো রূপে এতটাই ছিল ছলনা --!
দম নিতে দেখি
আমি তো আমার নিজস্ব শ্বাসে
ছিলাম না এতদিন ....!
৮১.
পেয়ারা পাতার উজ্জ্বলতা
ঠোঁটের স্পর্শ চাইছিল?
ওপাশে করবীর ডালে
কার যেন দুটি হাত ;
কী মনোরম ভাষায় অনুবাদ করছিল কি যে অচেনা অজানা কথামালা !
আমি কি ভুলতে চাইছিলাম এমন কিছু যে সব তারাদের মুখের উপর ভেসে উঠছে এমন সজল চাহুনি
যেন বুকের কাপড় ঠিক করে নিলো আনপড় কিশোরী !
চাহুনি তে লেখা হয় যে কথা তার
হাত খানি জুড়ে কেবলই লজ্জা যেন গাঁথা;
এসব সব যেন অনন্ত অভ্যাসে গাঁথা ফুলমালা খানি ----?
যদিও যে সুবাস অন্তরালে ঘোরে তখন
সে কথার সবটা কি বুঝি !
তার ভেতরেও এমনই এক মধ্যবিত্ত চাতুরী অসুখ প্রবেশ করিয়ে সামনে দাঁড়ায় এসে ;
সকলেরই সমাবর্তনে আজ সে কয়েকবার এমন সান্ধভাষায় ডেকে উঠলো ----
বলে কি এত অভিমান বলো তো !
দেখো আমি তো জ্বলজ্বল করে উঠেই তোমাকে চাইছি ----
তবু তুমি এত আঁতকে উঠছো কেন !
এই তো কদিন আগেই কত অত্যন্ত আপন স্পন্দন শোনাতে তাকে ;
কেউ যেন হাজার নক্ষত্রমালায় ঘুরে
টেনে ধরেছিল দুহাতে আর একটি নিঃসীম অন্ধকারের
প্রস্তর-মুখি গাল ?
৮২.
নিজেকে নিজের থেকে
আলাদা করে অহেতুক কে করি টুকরো ।
প্রলাপে হাসি ।
সংলাপে হই খন্ড খন্ড।
তুমি সেই টুকরো নিয়েই পোড়াও ।পোড়াও স্বপ্নদের খানিকটা আপন আহ্লাদে ।
তবু আমি জানি , বিশুদ্ধতাই জানে প্রকৃত সকল আরম্ভের অর্থ ও অনর্থ ।
বাকি টা তো টগবগে মাংসের সুবাসে ঘোরা মুখ ;
তাও তো অস্বীকার করি নি !
শিস দিতে দিতে ভেসে গেছি বহুদূর ------ মুঠোর প্রলাপ ছিঁড়েছি আপনার ঘোরে কেবলই একাকী !
তোমার সকল ক্লান্তির ওপারে
এই বেঁচে থাকার পথ চলা একাকীর গান নিয়েই ফির তুমি ;
আমি তো হাঁটি
আমার ঘোরে ;
অসুখ যে হাঁটে কার পায় ,.......!
৮৩.
একটু একটু করে
ইচ্ছেদের মারি।
ফিরে যাই তবুও সেইখানে , যেখানে স্বপ্নরা পা ছড়িয়ে বসেছিল খানিকটা সময় !
বসেছিল
অথবা বসেনি
কেউ তাদের মিথ্যে কুয়াশায় ভরা বারান্দার স্থিরচিত্র এঁকে দেখিয়েছিল কল্পনায় ?
সে যাই হোক
যেভাবেই হোক হেঁটেছিলাম
গেয়েছিলাম দুহাত ধরে যেন ;
তারপর একে একে পাহাড় জঙ্গল ভেঙে নেমে এলো হড়কা বান ....
সব মুহূর্ত ই হারালো
বাতাসে সিদ্ধ মাংসের ঘ্রাণ ।
সে যে কোন দিকে যায় ?
ছবি : কল্পোত্তম

No comments:
Post a Comment