Wednesday, August 10, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




৭০.
সব উল্টে যায় ----
যেভাবে হোঁচট খেয়ে
পড়ি পথের দিকে চেয়ে ;
কত আকাশের মাঝে গড়িয়ে গড়িয়ে ভাসে দেখি আমার কঙ্কাল ....;

অফলাইনে এভাবেই সকল প্রফাইল বিবর্ণ আজ---

পাল্টাতে পারি না ।
পাল্টে পাল্টে যেভাবে মোহনীয় হও , 
তার উল্টো পথে নিজেকে করি আরো বিবর্ণ ।

পথ , পথের দিকে চাইতে চাইতে কুকুরকুন্ডলী শোয় ;
আমি কী নিয়ে ফিরি ,কী নিয়ে করি 
তাঁর ঘরের খোঁজ...?

তার অবহেলাই 
তাঁর খোঁজে
এমন ঠিকানাবিহীন করলো আজ !





৭১.
আমার অসহায়তা কি খুব বড় ?

তার থেকেও এই যে মুখথুবড়ে পড়া মেঘরোদে ছুটছে যে সব দিকবেদিক শূন্যতারা ----
তার থেকেও আরো যেন কত অসহায়তার 
অন্তরীক্ষে  এলোমেলো সেই  হাওয়াদের পথ .....

তাই তো জানি 
এসবের ভেতর কত তুচ্ছ এই যে আমার 
                  সকল না পারা ,
          না পাওয়া জীবনের 
কয়েকটুকরো মান-অপমানে নীল 
হওয়া মুখটি ----;

দুপুর রোদে দু'পা প্রশস্ত করে , জিভ বার করে , যিনি শরীরে মাখছেন দোমাটি , তাঁর শম্ভুনিশম্ভু সংসার কথা ভাবতে ভাবতে যে পথ পেরোচ্ছিলাম একাকী ......
কে যেন পেছন থেকে ডেকে উঠলো বাবার গলায় ; না কি মায়ের কথা মনে পড়লো আজ একবার 
             এই আসন্ন অমাবস্যার ঘোরে ...!

কানতে পারলাম‌ না ।
সেও যেন মা হয়ে মুহূর্তে হাত রাখলো 
              ‌মাথায়---- ?
মনে পড়লো , এই তো 
যে মুখটি আস্তে আস্তে 
             মিলিয়ে যাচ্ছে ..... 

নেহাতই চাওয়া পাওয়ার হিসাব মেলাতে , সেও কি আমিই ছিলাম ?
ছিল কি আমার ম্লান মুখ কিছুটা তার 
          কোলের ভেতর 
                    মুখথুবড়ে পড়ে ?

দুটাকার ফড়ে উঠলো হেঁকে , একশো টাকার বেহিসাবে  ?

আমি তো শূন্য , দিল খানিকটা গুটখা ঢেলে ----- বললো , ধার মেটেনি ---- এই ধার মিটিয়ে তবেই পরের 
                  হিসেব ;

মনে পড়ছিল শ্মশান ঘাটের পাশে ডোমকন্যার জলজ্যান্ত হাসির কথা 
                খানিকটা ---- 
মনে পড়ছিল শিশুকন্যাটিকে কাঁধে করে যে পিতা মুখে আগুন দিল তার.....দিল নিথর দেহটি প্রবেশ করানোর আগে ; তার 
           এই হাহাকারের কথা 
                     কে আর ঠিকঠাক বোঝে , তুমিই বলো না ?

পথ ভাঙছি , এই তো দুপুরের পথ একাকী 
             ‌ছুটতে ছুটতে 
কেউ কি তাড়া করলো 
              আজ আমায় ?

কে সে , আমার পেছনে পেছনে চলেছে ......?






৭২.
কত ভাবে 
কত গোপনীয় অন্তরাল ভেঙে 
সে যে নদী হয়ে যায় 
           কেন ......?

হতবাক হয়ে যাই ----

তুমি তো মাথা চুল্কিয়েই মরলে কেবল ;
তাই না দেখে 
 ব্রহ্মান্ডের সকল নকশারা উঠলো হেঁসে ---- বললো , খুঁজে পেলে না তো ?
খুঁজে পেলে না তো ,ওই বদ্ধ পাগলই 
পায় আমায় খুঁজে ----কারণ , বস্তুর বাইরে যে যে রহস্যে তাঁর শরীরে আমার অন্তরাল ঢেউ খেলে ... তাকে দেখতে হলে তো ওই পাগলের কাঁধে চড়ে 
         এই বৈতরণী
                    পার হতে হবে ---

জানি , তা তুমি পারবে না বলেই 
খুঁজে পাবে না সেই 
           অলৌকিকতা ---- ;

এই সব 
হাবিজাবি চিবোতে চিবোতে যখন পথ 
            ভাঙছিলাম
মনে পড়লো ,ও হো ----- আজ তো পাওনা দেনার খাতা থেকে 
মৃত মায়ের নামটা 
       খারিজ না করলেই 
                 নয় ....।

দম বন্ধ করে 
দম ছাড়তে ছাড়তে 
তাঁর মুখটি দেখবো বলে আকাশের দিকে চাইলাম কয়েকবার ---- ওমা ! সমস্তটা  জুড়ে তাঁর মুখটি দেখি লাল মেঘের ভেতর --- উঁকি দিয়েই যেন ডুবে গেল নিমেষে...






৭৩.
সকল মুখ আনন্দদের পেয়ে নদী হয়ে ঝিরঝিরে হাওয়ায় মেশে যখন , সেই বাতাস কথাদের দিকে চেয়ে একবার অন্তত 
          নতজানু হই ---- ভেতরের সকল মোহর গড়িয়ে দি সেই নর্তকীর পায় ----?

সেও যদি না নেয়  ঘোর প্রলাপ , আপন প্রবাহের মজা খালে উজার করি সেই অর্ঘ ----- তাঁর দিকেই সকল যাত্রা পথ ----- তাতেই অলিখিত প্রলাপ আঁকি পুনরায় ; না না মন্ত্র নয় , নয় বিলাপ ---- তবু সেই ঘুরে ওঠাতেই ধরে রাখি সকল জলকল্লোল .....! 

চেও না তির্যক আর , রক্তের অকথিত সম্মোহনে 
           ফিরে দেখো 
ওই তো বারান্দা পেরিয়ে চলে গেল রাতের সকল কুয়াশারা একলা পায়ে ......

সে তার নদীকে 
দুই পার ভেঙে  পারলো না তবুও ছুঁতে
              এই জন্মে যেন....;

বিশুদ্ধতার সকল , কোন কোনের আসন খোঁজে যে ,
বুঝতে পারি না কিছুতেই যেন ---;





৭৪.
এই মুগ্ধতা কি সত্যিই
            পাওনার ?

কতকালের উচ্ছাসে মোড়া সে রক্তস্নান !

যে মুখটি রাতের বিছানায় পাঁচ আঙুল 
কপালে রেখে আড়মোড় ভেঙেছিল ,
সেও সামনে এসে সব ধারণা পাল্টে দেয় ;

এমনই হয় বেলা পড়ে এলে 
বারান্দায় সব বিকেল হামলে পড়ে ।
তখন ছায়াদের ঘিরে পাখিদের ডানায় ফেরার সকল ক্লান্তি 
           মেখে নেওয়া .... !

তার ভেতরেও
কত মুখ চাওয়াচায়ি 
ঘিরে ধরে যে দুই হাঁটু জুড়ে ;
তাতেও অনেক নখের বিস্তার , অনেক 

বড়ো হাসি নেই কোথাও
চেয়ে চেয়ে দেখা আছে ক্লান্তিহীন ---- 
সব যেন শীতের সন্ধ্যাবেলার মনখারাপ ;

ওহে বিরহ , তুমি বিরহীর না ?

ঘুরে শোও রক্তের ভেতর । স্নায়ুর !
আমি খুব ভালো করে 
পরিতৃপ্ত ঘুমের পর 
আর একবার ভালো করে কুলকুচি করে ফেলে দি আমার ঘুমের ভেতরে যত সব ভুল স্বপ্নের লালা- বিষ ছিলো ;-----

ওমা ,
সে যে কত দূর থেকে দিনের প্রথম আলোয় মুখ তুলে চায় ----

বিশুদ্ধতার সকল কোন কোনের আসন খোঁজে যে ,
বুঝতে পারি না কিছুতেই ----;





৭৫.
তাকে ভাবা মানে 
রসায়নে মিশতে মিশতে ডুবতে থাকা ;
খানিকটা বাকলে মুখ ঢেকে ধ্যানস্থ হওয়ার 
মতোন ।

যদিও ইদানিং
লন্ঠন ঝুলিয়ে সে আদল বদল করতে চাইছে যে তা বোঝা যায় ।

সে ভালো 
ভালোই হলো 
রাতের ঘোড়ারা বহুকাল সহিসবিহীন 
               ছোটেনি....;
রক্তের দুরন্ত গতিতে গেঁজলা ভেঙে ছোটে যেভাবে অনাদি কালের চোখেরা ....
মধ্যপথে যেতে যেতে যেভাবে দিকশূন্য হয় !

এসব সব অবচেতনে ভাঙতে ভাঙতে 
যেখানে এসে আজ কিছুটা প্রশান্তিতে তুলেছিল মুখ স্নায়ুর গভীর , একে অন্যের ভেতর হাঁটু ভেঙে বসতে চেয়েছিল 
          যেভাবে একদিন ;

এর বেশি কিছু কি জীবনও চেয়েছিল ?
না , চাওয়ার অধিকার জানাতে উঁকি দিয়েছিল তাঁহার সত্যে ?

ওই তো 
কত প্রশান্তির হাওয়ায় গড়িয়ে গড়িয়ে 
ওই ফসলের ক্ষেতে অবুঝ ফড়িংটার কী হাল  !

কই , কেউ  এই সব পোকামাকড়ের জীবনের কোনো হিসাব রাখেনি তো !

নাকি কেউ কারো অপ্রয়োজনে মাখামাখি পড়ে থাকা 
শীতের নিয়রে
সেই সব ক্ষেতের দিকে 
কখনো পেছন ফিরে 
 একবারও কি চায় ?!





৭৬.
ঘুরতে ঘুরতে এতটাই ঘুরে গেছে ছায়া সমৃদ্ধ; 
কোন দিক থেকে তাতে আবৃত হবো ?

ভাবতে ভাবতে আজ তাকে পাঠালাম আমার অনেক পরাজিত হাতের আঁকিবুঁকি । সেও হাত উল্টে হাত নয় 
হাতের ছায়ায় মেলে ধরলো মুহূর্তের অনেক কুয়াশা মোড়া খাজুরাহো ;

আমি কি পোড়া মাটির ভাষ্কর্য বুঝি !
না বুঝি পাথর খোদাই মৈথুন রূপ !

কিছুই দেখিনি তো !
দেখেছি জীবন সমৃদ্ধ সমর্পণে যে জীবন পূর্ণতা পায় ;

পথে পথে ঢেউ গুনি ।
বেঁকতে বেঁকতে পথ উল্টাই শরীরে ।
তুমি এসবের কিছুই বুঝবে না তো !
জানতে জানতেই  জীবন একটি প্যাঁচার চোখের নিরিখে হারায়--- হারিয়ে যায় অন্ধকার রাতের তারায় কত সমৃদ্ধ অসমৃদ্ধ ঘুম চোখ যে!

হায়, ফুরায়
সকলই ফুরায় 

একটি কুয়াশা ভরা মুখে !

যেতে যেতে যেমনটা দেখে কেউ কেউ 

সকলেই না ।





ছবি : কল্পোত্তম 


No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...