১১৫.
তোমার
এমন দুঃখ-সুখের গানে
গলা মেলাতে
বয়েই গেছে
জানা যখন হয়েই গেছে
সয়েই গেছে ব্যাবধান!
ছবির মাদল ভাঙলো তবে
খানখান
কেন বলো তো ?
তার চেয়ে খেলাই যখন
সুখের ,
বেলায়-ই গাইবো গান
আপন সুখে ;
দুখে
আর বুকে
পাড়াই যতোই ঘুম
সেই তো রুখু পথেই ভিজি
একা ;
তোমার মেঘে ভাসবো কেন বলো
আমার আকাশ
সেই তো শুধুই দেখার ;
দেখি তো , খুঁজিও খানিক ,
তুমিও বেল্লিক
বোঝো না কিছুই
বেলা নেই, রাত্রি নেই
সকাল
বিকাল যে হলো
বোঝো না তাও !
তোমার ঋতু না হয় পাহাড় প্রমান
সমানে সমান
ভাবতে শেখ
খেলায়
মেলাও যদি
প্রাণ
তবেই বাজে
প্রলয় - মেঘের
গান !
বোঝো এবার
বোঝো
বাঁকা চাঁদের হাসি
কোলের উপর
যতোই শেখাও তাকে
সে রাখে তো ভালো ,
না হলে
এবার তুমি শুধুই কাঁদতে শেখো।
১১৬.
চাই নি তো জবাব
কুয়াশার এই ঘোরের কাছে
চাই নি ডাকের
বিভোরতাও ;
উন্মাদ হয়েছি
নিজের ভেতরে নিজেই
অজানা মূর্ছনায় ----
বিদ্যুতের তারগুলি
কুয়াশায় নিস্তেজ ঝুলে আছে ,
আমাদের আলো পৌঁছে দিতে ?
বাতাসের প্রয়োজন নেই। পাখা ঘোরে না । তাই , তার থাকা না থাকায়
চোখের আলোই যথেষ্ট ।
রাতে যদি বাথরুমের প্রয়োজন তখন সংযোগের কথাটি ;
এই রাতের বারান্দায়
প্রয়োজনীয়তা নেই ওই তারের ;
বারবার চমকে যাই
মনে হয় ফেলে আসা কালো কালো
হেরিকেনের মুখগুলি ;
বিদ্যুতের ঘাড়ে উঠে উন্মাদ নৃত্যে
মেতে উঠলো সে !
আমি পথ দেখতে না পেরে
গাছেদের দায়ী করলাম অনেক !
মনে মনে একটি রাত- প্যাচা বাদুড় হয়ে
লটকে গেলাম ।
হৃদয় কি ভেসে গেলো
অসহায় জোস্নায় ?
অন্ধকারের দিকে যেতে যেতে
নিঃসঙ্গ অবোধ মোহমূর্ছণায় বেঁচে উঠলাম
নাকি মরবার কথা
ভাবলাম আর একবার ?
১১৭.
কে কাকে সেই সত্যিটা বলে দেবে ,
কে কার ভেতরে বিড়বিড় করবে পথ ?
সেই মানুষটিকে
এই পৌষ
পথে পথে হারিয়ে যেতে দেখেছে ,
মানুষটির জন্যে
কোনো অনুকম্পা ছিল কি তোমার ?
আবর্জনার স্তুপের
ছায়াদের ঘুরতে দেখেছি অনেক ;
দেখেছি আবর্জনা সরিয়ে সে কেমন অমূল্য ইশারায় উন্মাদ হাসি
হাসতে হাসতে পথের মাঝে উলঙ্গ হয়ে গেলো ----
শ্লীলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে ,
পারে না কুকুর কুকুরীর সংযোগ ছিন্নতা নিয়ে কথা ;
কারণ, তারা কানেই নেয় না ,
আর নেয় না
যাকে তুমি উন্মাদ ঠাওরে নিলে ,
সেও কোনো দিকে না চেয়ে
মুখ ভেংচিয়ে চলে যায়...
সন্ধ্যার ইশারারা মাখছে গায় আকাশ !
বলো , কোন সত্য তোমার বিলাসী জীবনের জানলার
কাঁচ ভেঙে ছিল বলে মনে হলো ?
১১৮.
পাল্টে চলেছে চোখের উল্টো দিকে স্বপ্নরা
ধরতে পারছি না । পাকাল মাছের মতো পিছলে যাচ্ছে শরতের মোহমগ্ন জলকথাদের ঢেউগুলি ...... কিছুক্ষন আগেও ছিলো বর্ণময় ;
দাঁড়াতে পারছি না
থরথর করে কেঁপে উঠছি ,
তার দু'বাহুর দিকে চেয়ে ;
তবে কি ফুরিয়ে আসছে
বেঁচে থাকার সব দৃষ্টিসুখের
এই যে জীবন পেয়েছিলাম যৌতুক ?
ভয় করছে
ফিরিয়ে দেও আমার প্রিয় ছবি
যে ছবিতে তুমি ছিলে বলেই
জীবন ছিলো
ছিল তোমাকে নিয়ে আমার সকল অপূর্ণতা ?
১১৯.
কে যেন কাশফুল হাওয়ায়
আরতি ভুলে যাচ্ছে দেবী মুখে----
জানি
আজ সে ছাতিম ফুলের সুবাস এড়িয়ে
হাতের রোমালের ভেতর সুগন্ধি ছড়িয়ে
ছড়ানো আকাশ ভরতি কেশবিন্যাসের প্রদর্শনীতে নাম লিখিয়েছে ---- তবু মোহবন্দী থেকে নিস্তার নেই আমাদের কারো ।
পথের এপাশ ঘুরে ওপাশে পিঁপড়েরা লাইন ভাঙছে ; তুমি হেসো না,
এত হাসি ছড়িয়ে চলেছো বলেই ভয় হচ্ছে বিষণ্ণ মুখখানির কথা ভেবে ;
তাহলে দিন রাত্রি সমান করে এত চিৎকার শুনতে হবে যে ,
আমরা কিছুতেই আর উৎসবের দিন গুনে
বেঁচে থাকতেই পারবো না -----
পাথর ঘুম চোখ খুলে ডাক দিয়ে গেল কাকে যেন !
আমি কি তার পাঁচ আঙুলের ভেতর
কিছুক্ষণ সুগন্ধি মেখে চেয়ে থাকবো ? যেভাবে সে ছাতিম ফুলের সুবাস ছড়িয়ে উড়ে উঠলো উৎসবমুখর দিনে---
১২০.
উৎসব এলো
আমি যেন কারো যাওয়ার দিকে
চেয়ে আছি অনন্তকাল -----
ঋতু আসে , চলেও যায়.......
গাছে গাছে শুকিয়ে যায়
যেভাবে একসময়ের কচি পাতারা ;
উৎসবের অংশিদার হতে গিয়েছিলাম বন্ধু সঙ্গতে ,
কেন জানি না কতবার
মনে হলো
শেষ কথা দিয়ে
কীভাবে ফুরিয়ে গেল উভয়ের দেওয়া নেওয়ার
চালাকির দিনগুলি ;
আজ বারবার উৎসবমুখর দিনে কেউ একজন ভিড় করলো।
আচ্ছা , আমি কি আবারও কারো অপেক্ষায় রয়েছি, কখন সে আমায়
কিমা করাটা শেখাবে !
উৎসব আসে
চলেও যায়
আমি মনমরা হয়ে লক্ষ্য করি
কারো ছুরি চালানোর ধরণটা কেমন ছিল !
------তার মুখটি তো কোনোদিন দেখিনি !
যদিও তাকে ক'দিন না দেখতে পেলেই বলতাম , ভিডিও কল দেবো?
সময় পাল্টায় ।
একদিনও তাকে দেখিনি। যেভাবে দেখলে
জিভ বেয়ে নেমে আসে
সাপের ছোবোল ?
১২১.
গাছেরা চুল খুলে রোদ্দুরে শুখচ্ছে মাথা !
শীত ও সুষ্কতা এত প্রকৃতিতে ,
ঠিকঠাক বোঝার উপায় নেই
সময় কতো এখন ।
আচ্ছা
সে কি গত রাতে শিশিরে চাঁদে
লুকোচুরি খেলেছিল কুয়াশায় ?
চোখের ইশারারা যেন তেমন কিছুই
নানা কথার ছলে লুকিয়েছিল
অনেক অভিব্যক্তিতে ;
নাকি সেসব নিছকই
ডালেদের শিহরণে আটকে যাবার ভয় !
কোনটা যে...
ক্লান্ত ছিলাম খানিকটা যেন ,
টানা শ্বাস পাঠিয়েও থেমে গেলাম বুঝি !
সেও পর্যটন কথা বিলক্ষণ জানে যেন ;
দীর্ঘ লয়ে বুঁদ হয়ে যাওয়া তারপর .....?
যদিও আজ সে কথা যায়নি জানানো
যদিও সেসব বলা কওয়ার ভেতর
অনেক প্রতিপক্ষের ভিড় ----
তবু সে জানে ,
সবই যেন ক্ষমা কেবলই ;
অসহায়তা, পরাধীনতা
অনেক বাক্য আওড়ায় ;
মনে মনে বলি, এতই যদি রোদেদের খুনসুটি মাখো
এই দুপুরের ;
তবে কেন বিপরীতে পাঠাও না
প্রথম দিনের সুষমা খানিক !
ভেতর মহলে কী করে যে উঁকি দিয়ে
সেই দুর্বোধ্য সংলাপ মুখস্থ করি!
থরথর করে ধুলোয় বালিতে উড়ে যাই
দীর্ঘ কোনো পথে, কোথাও
যে রোদে আজ সে ফুটিয়ে তুললো
অনেক ঝুমকো জবাদের ;
কতকাল পাড়াগাঁর সে সব বাগানে
ঢুকিনি যেন , কতকাল !
১২২.
কবিতা নয়
কথোপকথনের অভিপ্রায় ,
অনন্ত অন্তরায় জুড়ে
ঘুরে ঘুরে
পাক খায় , তার কোলাহলে ?
কতরকম ভাবেই না সময়ের নিরীক্ষণ ;
অসীমের নিয়তি জোড়া !
হয়তো তবুতেই তার যাওয়া আসা
জুড়ে এই গান ,
এই সুর , এই মুর্ছনা !
কেন যে মনে হয়
কই , কথা হলো কই
দেখাই বা হলো কই ?
অদেখার মাঝেই
অনন্ত এই ,
অনন্ত কথপোকথন !
সকল ভাবনাই ভেসে গেল অনন্ত সে জলে ....
যে জলের অবস্থান
পথপাশের
একটি জলাশয়েই স্থির !
তোমারও থাকে কি ?
জানা হলো না তো সে কথাটি কোনোদিন !
১২৩.
ঘুরেফিরে হাত রাখি সেই গতিতেই ,
যা বস্তুতঃ গতিই না
ব্যবহৃত অভ্যাস...
অর্থাৎ যা কিছু গোপন,
সেটাই মান অপমানের?
কেনই বা অসহায়তা হতে যাবে
যাই আর না যাই
পাই তো তাতেই ভুল
এই ফুল কুড়াই
কোন অসীমের নিরিখে ?
যেদিকেই চাই
বাজে খালি খোল যেন
ফাঁপা, সবই ফাঁপা মাগো
তাই তো খেপারে লুকোই , কোটোরে ঢুকি ;
পেছনে পেছনে ছোটে অনন্তকাল
কে যেন তবু .......
১২৪.
মাঠে মাঠে চড়েছিলো অজানা বাসনারা
সে কথা রইলো সবই
অজানা !
সে শুধুই শস্য ফুলের ঝাঁঝালো মুগ্ধতার
নীলে নীলে
উড়ে বেড়ালো যেন ,
কোনো এক পাড়াগাঁর
খোড়ো চালের দিগন্তপ্রসারী ছবির ভেতর
একবার, দুইবার, হয়তো শতবার
তার নীল সে মাছিরা
হয়তো গভীর থেকে কোনো এক অসীমের প্রশান্তির ধার ছুঁয়ে ছুঁয়ে
ভেসে গেছিলো বহু দূর অবধি ----
হয়তো সে সব চেতনায় থেকেও নেই
হয়তো তন্দ্রায় জাগে
হয়তো তাইই নিরেট বরফকুচি হয়ে
উড়ে বেড়ায় কোথাও
তাতেও কি মুক্তি নেই তার !
হয়তো বলবে
না হলে নয়
না হয় যেওই ভুলে
শেষ সে উত্তর কারই বা জানা আছে কিছুই
উত্তরের অসাড় ব্যবহারিক সন্ধিক্ষণে
সকলেই বিষণ্ণ -----
জাগরণের ঘাড় ভাঙা
ছবি যেন সকলেই আজ ;
কেবলই ছবির মহড়া, আছে কি কিছুই!
১২৫.
কোন সে সুদূরে
আমার সকল ভার
দিয়ে যাবার
ইচ্ছেরা সব রাজার মুকুট চায় ,
জানি না তো !
জানি কি তার আসার
খোঁজ
জানি কি তাঁর যাওয়া !
পাওয়া আর না পাওয়া জুড়েই গাই
গাই এমন সে গান
সে কি করে হায় হায় !
আয় আর না আয়
এই তো সেই অসহায়
যা তাঁর ইচ্ছা
ও অনিচ্ছায়
পায় তাই-ই ----
বোঝে না কেউই
বোঝে না বলেই
সুরটি চলে অসীমেই
অসীমেই হারায়
যা হয়তো কেবলই স্বাতন্ত্রের ---
আছে কি কিছুই !
১২৬.
গতরাতের গভীরতায়
হেঁটেছিল যে সব তন্দ্রারা ,
তাদের নিঃশব্দ পদচারণা
কোনো এক মনমরা বিকেলের ঝুঁকে পড়া ভাষ্কর্যের অন্তরে প্রাণ পেতে পেতে
কারো কানে পৌঁছেছিল কি সে সব কথা ?
বিস্ময়ের সব না হয় থাক
রাতের আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে ;
সত্যিই চেয়েছিল কি !
সকল ঘুমের পেছনের ঘাড়ে কোনো আকুতি তার
ছিলো কি কখনো ?
বলো , বলো তো
একবার শুনি সে কথা ,
ওই ফাল্গুন রাতের হাওয়াদের সবটুকু
ভাবতে ভাবতে
না হয় ;
আহা !
কোনো এক সন্ধ্যার অন্ধকার পলাশ বনের ধারে
হয়েছিলো কি দেখা
কখনো !
হয়তো হয়েছিল, হয়তো বা নয়
সে বিকাল সকলই এক গভীর রাত্রির স্বপ্ন- অভিলাষ যেন ;
বর্ণমালায় যে অদৃশ্য কথপোকথনের ভাষালিপি রচেছি উভয়ে , নাকি সে সব সবই একা একার
না ঘুম শীতরাত্তিরের ভেতর নিয়রেরা জন্মজন্মান্তরে যেতে যেতে
যে সব মানুষের চোখ পেয়েছিলো বুঝি
পৃথিবীর পথে পথে আমাদের মতোন ....?
১২৭.
এই রাতে
কার ঘুমের ভেতর
হামাগুড়ি দিয়ে চলি
যে ,
ঘুমের ঘোরে পাখা মেলিয়ে
একা একা পিঁপড়ে
হয়ে গেলাম ?
কতকাল ধরে এই সব
স্বাদ আহ্লাদে জড়িয়ে
জীবনকে অনেক পুরোনো, বাসি করেছি যে
সে কথা কে আর ভাবে !
জানতে জানতেই
কত কিট পতঙ্গের ভেতর
নতুন হলাম ,
নাকি পুরোনো সে সবই ----
তবুও মেটেনি স্বাদ
সত্যিই মেটেনি কি ?
মেটেনি বলেই তো কারো আঁখিপল্লবে
রেখায়
থমকে থেমেছি যেন ;
কোন সে চেতনায় ?
সে সবের নৈরাজ্যের কথা কি আর বলি
সে সব না হয় থাক
আর একদিন থেমে গেলে ঘুর্ণন
বসা যাবে নিরিবিলি এখন এই যাত্রায়
পথে পথে না হয়
চলুক কথপকথন ;
ঘুমের দেশের ঘোরে
ঘুরে ঘুরে
আর একবার দোসর খুঁজি
হন্যে হোক সে, পাগল হোক
তার চোখের নিচের কালিতে
ডুবে থেকে খুঁজে ফিরি , যে পথে সে আমাকে হারায়
আমিও কি হারিয়ে তাকেই খুঁজে ফিরি ?
যে পথের অন্তরায় কথা
সেই জানে শুধু ।
১২৮.
বাতাসে বসন্ত
রোদের আলোর ভেতর
কারো অনুপস্থিতির ঘুঙুর বাজছে ।
সেও কি তালহারা ?
গতরাতে অন্য এক
সম্ভাবনার কথা উড়ে আসছিলো বাতাসে ।
নাকি সে রাত ছিলো
বিছানা জোড়া অস্থির পায়ের আগমন বার্তা শুধুই !
তারাদের হাহাকার ছিলো আকাশ ব্যাপ্ত ;
যেসব অসাড় নক্ষত্ররা বহুকাল ঝাপসা নিহারিকায় অস্পষ্ট মেঘ মেখেছিলো শরীরে ,
সেইসব ঘুর্ণয়মান মহাশূণ্য থেকে ঝড়ে পড়ছিলো যেন কত সব নতুন নতুন নক্ষত্ররা -----
পৃথিবীর চেয়ে আরো সুন্দর হতে পারে কি কিছু ?
কারো ঠোঁটের বক্র রেখায় এঁকেছিল কতকাল ধরে মানুষেরা তাদের মানসীর মুখ !
নাকি তারা শুধুই মানুষ না ,
মানবিক পুরুষ্টুতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে অকল্পনীয় অভিলাষে তারা আরো অন্য অনেক কিছু হয়ে গেছে অনন্তকাল !
দিকশূন্যতাও ছিলো , ছিল বারবার;
থাক
সেসব যা ছিলো , আজ এই আলোর কোলাহলের ভেতর অনেক পৌষমাস চলে গেলেও ছুটে , আমরা যে উৎসবের আগমনী অনুভবে এসেছিলাম
ভেঙে ভেঙে
তাতেই যেন সকল সুস্থতার লক্ষণ বার্তা শুনিয়েছিল কেউ ---- তাদেরই অপেক্ষা ঘিরে আছে
সকল ঋতুসম্ভারে ..?
তুমি এঁকে থাকো না কেন
যতোই কালো দাগ গতরাতে ----
যাত্রাপথের জীবিত বা মৃত নক্ষত্রদের ভেতর সে লাবন্যবার্তা থেকে রেহাই নেই কারো ----
সে গুঢ় সত্য বলে দিও না হয় তুমিই তাকে ।
১২৯.
সময়ের সত্যগুলি ঢেকে যাচ্ছে
সাজানো পাতা ঝরায় যেন ;
কোন দিক থেকে তাকে ডাকি ?
কোন দিকে চলে গেল মাথা ঘুরিয়ে
সকল ছায়ারা
উল্টে বিষাদের মঙ্গল ঘট !
সে কি গাছ হয়ে
হাওয়া দিতে এসেছিলো , নাকি পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে রহস্যরা
অনেক চিৎকার শুনিয়ে চলেছে
আমাদের হৃদয়ে বহুকাল ----
তাও বর্ণমালায় সাজিয়েছিল কত রং ;
রঙে রঙে আজও হন্যে হয়ে
খুঁজে চলি.....
পথে পথে ঘুরে চলি দিনান্তের পর দিনান্ত
কেউ সাজিয়ে দেয় না একমুঠো শান্তি !
তিরস্কারে অপদার্থতা বোঝাতে চাই যতোই-----
চাই সেই সত্যের নির্মলতা ,
কেউ রাখে না হাত ।
হাতের এমন এক দীর্ঘ ছায়া ঘুরে ঘুরে
কেবলই এগিয়ে আসে
যখন সব মানুষের মুখ ভুল করে বসি !
ভুল হয় কত পাহাড় পর্বত
গাছেদের , মাঠেদের, পথেদের
কে যেন কুন্ডলী ছড়িয়ে ফনা তুলে চারদিকে ঘুরে চলে ;
কোন দিকে ঘুরিয়ে ধরি শরীর ,
যেখানে বাদ গেছে
সকল দংশন ?
১৩০.
পথের যাত্রা শেষ হলে
ঝালমুড়ির স্বাদও ভুল হয় একসময় ।
কত কষ্টে পাশের আসনটি ছেড়ে
উঠে গেছিল দূরে যে মানুষটি
তার কথাও কি মনে থাকে , যখন নির্ধারিত কল ঘরে স্নানে যেয়ে দাঁড়াই ।
আত্ম সুখে শীতলতা ছুঁয়ে যায়
যতদূর অবধি আকাঙ্ক্ষা
আর আকাঙ্ক্ষা....
একদিন সব দিনলিপি লেখা না হলেও ,
তাঁর কথাটি তার হয় না কোনোদিনও
যে আমাদের যাত্রা পথে ঝুঁকিয়ে দিয়েছিল মানবতার ঘাড় ----
আমাদের সব পথের ছবিই ঝাপসা হবে একদিন , যে মুখের গর্জন তেলেই চকচক করে উঠুক না কেন দেবী মুখ ;
তখন কাশির শব্দে চরাচর মোহিত হবার নয় আর
তখন তুমি যাত্রাপথের বাথরুমটি নোংরা করেই নেমে গেছো
এটাই বড় সত্য ।
