Wednesday, August 31, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে


দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



১০৮.
আজ কিছু অতিথি আসার কথা আছে ,
এক অর্থে পর্যটনের একটি বছর
নতুন ঘোরার আর একটি পথ চিহ্নিত করলো ।


সকলেই আসবে ,না কি কেউই আসে না বস্তুত ;
আমরা যার যার ছায়ায় খানিকটা গোল হয়ে শুয়ে নি ?


সে এলেও
সে আসে না
আসে তাঁর ছায়ারা !
আসরেও দাঁড়ায় হয়তো দু এক বার
মুখ ঘুরিয়ে ;


তাও এই নেশাগ্রস্থ
হওয়া ,
পানপাত্র পড়ে থাকে
চারদিক জুড়ে ;
পানপাত্র প্রদক্ষিণ করে যার যার আত্মায় আত্মায় ; -----


করতালির আওয়াজ আসে যেন ; উপস্থিতির ভেতর আরো এক অনুপস্থিতি ঘিরে আছে আমাদেরকে ?


কেন যে কিছুই ছুঁই না
কেন যে শান্তি স্থির চেয়ে থাকতে বলে খালি ;
নোনা জলের খাড়ি পার হয় ঠিক তখনই
    পূর্ণিমার চাঁদ..... 


অথচ সে কিছুতেই সীমানাও ডিঙাতে  পারে না  ----- 


ডাক পাঠাই যদিও জন্ম জন্ম ধরে .....;


সকলেই আসে কি একদিন, সকলেই যাওয়া আসা করে শুধুই ......


আজকের আড্ডায় 
নতুন অতিথি কেউ তো আসে নি !


গলা জড়িয়ে নেমে যাচ্ছিল তবুও কিছু নতুন সম্ভাষণ আজ ?





১০৯.
সস্তা খেলায় মজেছে যেন আসর ;

  .... বাদ দিন তো,ছাড়েন ওসব ----

 '.... লেখা বলতে ওই তো , কাঁটাতারের কান্নাই কেবল ---- বিভোর অপগণ্ডটা ....,
দুঃখ যেন ওরই শুধু দেশ হারানোর ;
দুঃখ, মুড়ি-মশলা  ? '

'বেহুদা ---
ওর কিছুই হয় না ..... '

' ওঁর হয় ? '

.....' না , ওঁরও না ....'

.....' তাঁর...?'

   ..... না , তাঁরও না ..'

    ' ...... তাঁর.....?

    '..... না না তাঁরও না । ওঁর ও না ।সকলেই একটা না এর ভেতর গুম ঘরে বন্দী ? '


' তাহলে হলো কার ?
ওই নাক মোটা , কোল কুঁজো ফোরে টার যত কান্না , দুঃখ - সুখ এই মেলার মাঠে বিকিয়ে গেল .....!

 কেউ তোমরা জানো না , জানে না , জানতে চাও ? 
না , অহোরাত্র সে যে তোমাদের ভেতরেই বাঁচে ও মরে ......;




১১০.
অনেক ব্যাস্ততা 
মানুষ গন্ধের ভেতর ;
কেন যে হুরোহুরি করি 
বুঝি না কাঁচা দিনের ,
আবেগী দিনের ঝাঁঝ- 


বড়ো নির্বোধ 
বড়োই নাদান ;
হয়তো বা শুধুই কাঁটাতারে লটকে গেছে যাবতীয় প্রেম 
               অপ্রেম ;


সে ফতোয়া তো দিল 
আজ যত সব কাটা খাসির পাঁজরা বার
       করা মুখের হাসি ;
নাকি লিভার যক্রিতে 
জড়ানো চর্বি বার করা 
পাঁচ ছ কেজির একখণ্ড দাবনা ?


লাইন ছিল বেশ খানিকটা , দোকানীকে ঘিরে লোলুপ চোখের খিল আঁটা গালে ;


আমার হয়েছে ঘোড়া- রোগ , ঘুরেফিরে 
হাত চলে যায় তার প্রফাইলেই -----
এই জন্যেই তো নারীবাদী লেখিকাদের
           ‌    চক্ষুশূল ; 
কী যে করি 
মনে হয় কত কথা 
তোমাকে জাননো হয়নি আজও
অথচ কথা তো রোজই হয় ;


শেষমেষ কথা হলো , ''তোমার কিন্তু একটু শরীর সচেতন হওয়া উচিত ভাই ----- ''





১১১.
কোথাও বেসুরে বাজছে তৃতীয়ার চাঁদ ;

সেও যে ছদ্মবেশী ও ঘাতক ,
তা কি করে বোঝে আজকের সানাই - ঘোর  ;

বড়োই রক্তলোভী 
প্রয়োজন
পশুর মতো ঘাড় বেঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটুকরো মেঘ ; কুয়াশা ঘিরে আছে কোথাও কোণায় কোণায় ।

সেও কি অসহায়ের চোখ হয় 
নাকি একটুখানি কৃপাময় ; জাত বেজাত বুঝতে তার 
       বোয়েই গেছে ---

যাইহোক
ক্ষুধার্ত সিংহ মরা মাংস ছোঁয় না ।

মানুষ শুধু মরা ও জ্যান্ত কিছুই বুঝতে চায় না ---- দুহাতে খায় , যা কিছু তার নাগালে ---- 

বড়ো বেসুরে বাজছে আজ তৃতীয়ার চাঁদে পৃথিবীর সকল আহ্লাদ  ?!


 


১১২.
শীতরাতের হিমেল হাওয়ায়
গাছের পাতারাও 
বিষাদময় গান হয় !


কেন যে আশারোগ যায় না তাও , 
বুকের ভেতর পা আছড়ায় কারো মুখটুকু আগলে ?


কেন যে দাঁড়াতে পারি না খালি গায় ,
রাতের বারান্দায় কুয়াশা মাখামাখি হতে ......;


পথের পায়ের উপর পথ উপুর হয়ে শুয়ে আছে ।
আমিও কি উপুর হয়ে কারো বুকের ভেতর কানতে চেয়েছিলাম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে?


তৃতীয়ার আকাশ জুড়ে তুমিই শুধু একা কানতে শেখ নি ----


সেই আকাশে কত দীর্ঘশ্বাস যে পাঠালাম 
তবুও রদ হলো না নক্ষত্রদের এই পেঁচা হয়ে যাওয়া -----
হৃদয়ের কুয়াশায় মাখামাখি ডানার শব্দে বারকয় মৃত্যুর ডাক শুনেও 
এই আশারোগে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকি -----





১১৩.
কোন তীর্থে 
কে খুঁজে মরছে প্রাণের আনন্দ -----

আমি তো তিমিরতীর্থপথযাত্রী ...

অনেক নালীঘাসে ভরা ছিল দুই হাত‌ ; 
গাছে গাছে 
অনেক অষ্টমঙ্গলার সুর ---- তেপান্তরের মাঠে 
কত ভিজে-সুবাস মাখলাম যে ----- সে সব জানার কথা না তোমার ---- জানে কি ওই দূর নক্ষত্রদের উজ্জ্বল আলোরা 
 নিভে যেতে যেতে....?
অনেক প্রাণঘাতী বল্লম হাতে নেমেছিল 
                  যারা 
খুঁজে নিতে অনেক বর্ষামঙ্গল ;

এসবের কিছুই জানার দরকার নেই ---- জানো না এই দুহাতে কত না ছিঁড়েছিলাম মিথ্যে সীমানার জাল ----

সে সব যদিও ছোঁবার কথা ছিল না 
ছিল না চারপাশে নির্ভেজাল জীবনের গল্প খানিক ;----
শিশুহাতে ভেঙে ছিলাম অনেক প্লাস্টিকের খেলনা 
তাঁদেরই মতো .....!

কেন যে বিঁধিয়ে নিলাম এত কাঁটাতার ....!

যাক ----- সে সব থাক 
এখন যেদিকে চলেছে রথ , তার ডাইনে ও বাঁয়ে সেসব নালীঘাসেদের চিহ্ন মাত্র নেই ;
আছে পাথর আর কাঁকড়ে ভরা খানিকটা অন্য গল্প --- 

যা তুমি শতজন্মেও পাবে না কখনো .....?!





১১৪.
চলো নেভা আঁচে
খানিকটা মাংস কষাই -----  চলো কষা মাংসের স্বাদ গন্ধ গিলতে গিলতে 
তৃষ্ণার তলদেশ ছুঁয়ে আসি । 

এমন দৃশ্যের চেয়ে মনোরম আর কিছু আছে নাকি ?
নাকি এসব নির্লজ্জের ---- ? 

যেটাই হোক ---- হোক না সুগন্ধে 
তুমি ও সে ;
সে ও তুমি এই সব কথপকথন চালাচ্ছিলে যে , সেটাই মনে এলো .... ;

তাছাড়া ভাব বিনিময়
সুফল , বিফল 
আর আছে যা কিছু নাকি ?

কাঁটা তারে কাঁটা তারে বিদ্ধ আমি , লটকে আছি একটি ফড়িংএর মতো ;
বাদুড় হয়ে দুহাতে ধরে আছি ধরফরানো জীবন খানিকটা !

যাক 
সে সব তোমাকে বলার না , তুমি মাইক্রোফোন হাতে ঘুরে ঘুরে বলো শুনি ------ মঞ্চ দাপিয়ে প্রসারিত করো এই বক্ষ  ; ----

চলো ক্লোজাপে পাঠাই তোমার ইশারা ;
চলো পেশাদার বাউলের একতারার নছল্লা ধরে দি ---- 

তুমিই বাজার আমার ;
তুমিই এখন বড়শির টোপ ;
গ্রীবায় খঞ্জনি উঁচিয়ে এসো 
আকাশ ছুঁয়ে আসি একবার অন্ততঃ






No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...