১১-ক
কথা ছিলো সব খুলে ফেলবো
ছায়ার ভেতর ছায়া খুলে
বসে পড়বো জলের মতোন......
দৃশ্যরা দৃশ্য থেকে সরে কথা বলবে ---চলবে অন্তরঙ্গ সংলাপ কিছুক্ষন ,
পাখিরা উড়ে যাবে সব জড়তা ভেঙে .....
অথচ পর্যটন পর্যটন-ই রইলো। আমরা আবারও বন্দী
হয়ে গেলাম। যেখানে
বিগত সংলাপের চিহ্নটুকুও নেই । খাঁক হয়ে গেছে সব আয়োজনের উচ্ছাস !
১১ - খ
খড়কুটো ঠোঁটে
উড়ে বেড়াচ্ছে ওখানে
কারা ----
পথ আর পথে নেই
পথ চলে গেছে নব অরণ্যের দিকে .....
নির্জন আকাশ ছুঁয়ে কথা বলছে সভ্যতার ভূতেরা এখন ----
ছায়ায় ছায়া মিশে ফিসফাস হেঁটে বেড়াচ্ছে ছায়ার কঙ্কালেরা .....
পিঠে তাঁদের কোন কুরুক্ষেত্রের সংলাপ?
ছায়া থেকে ছায়া খুলে
একটি আঙুলের উপর ধরে কেউ যেন পুরোনো কথা স্মরণ করিয়েছিল ----'আর একটি --- তাহলেই পাল্টে যাবে সব .....; '
কথা ছিলো
দু'জনে দু'জনের দিকে ছুটে একটি ছায়ায় ছায়া হয়ে যাবো ----
পাখির মতোন আকাশ পাবে সকালের অরণ্য যখন
বিশুদ্ধ ছায়ার শরীরে---- ?
১২.
তাঁর ধুলো-বাতাসে
ভাসতে চাইলে
এক ধরণের গন্ধ ;
লালমাটি উঠে গিয়ে যেন মানুষ রূপ পায়
জানায় অভিবাদন ;
বরণডালা তুলে ধরে সাল-শেগুনের মুখের উপর ;
মেঘফাগুনের আকাশ উড়িয়ে দেয়.....
শুধুই প্রশান্তি
হাওয়ায় হাওয়ায় কেবলই গান ....
আমাদের হৃদয়ে আজ
পরিব্রাজকের অনন্ত শুধুই ----
সে তো জানে না
তার রূপের খুশিতে ঝুরোমাটির
ভাষা কেমন হয় ----
পথের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে তাঁর শুষ্ক মুখের ছায়া খানিক মুখে মাখি ;
এই ধুলো-বাতাসে
ভাসতে আসি বলেই, সকল গঙ্গা লুকোয়
মহাকালের জটায় --- !
এই ধুলো বাতাসে ভাসতে চাই যেই ,
চলার পথের উপর এক ধরণের
গন্ধ পাই ----
দুঃখ হয়
সে, সে সুবাস টের পায় না ----- টের পায় না এই চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারও ;------
১৩.
সিগনাল না পেয়ে থমকে দাঁড়িয়েছিল
যে ট্রেন, দূর মাঠে
তাল গাছের মাথায়
তখন যে সূর্যাস্ত ---
লাফ কেটে কেউ কেউ
নেমেও গেল,
কেউ যেন রসের হাঁড়িটি পেড়ে আনবে বলে ছুটলো .....
ওপাশে খাড়া পাহাড়
পাথরে পাথরে
ভাসছে রাঢ়বাংলার
সুবাস ---
ওদিকে ইঞ্জিনের সেই
ঘ্রাণ নিয়ে যাবে আরো
কত দূর
কেউ তা জানে না -----
সত্যি সত্যিই স্টেশন
কোথাও আছে কি ---
যেখানে রোজ দেখা হয় আমাদের !
কথা ছিল
এরপর পথের গান শুনবো
করতালি উঠবে
সব শিমুল-পলাশে ....
দেখতে পেলাম না বলে এবার সেও
মুখ লুকিয়ে নিলো
তাঁর -----?
১৪.
সে তো বনজঙ্গলের পাহাড়ি ফুল
পাখিদের ডানায় খোলা আকাশ ----
তার দরজা বন্ধ নেই
জানলাও খোলা
যত খুশি আলো মাখো
গায় ------
আমাদের যে টুকু মাঠ
প্রান্তর
সেখানেও দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখতেও ভয় এখন ।
এই আতঙ্কের সাথে
ভাষা বিনিময়
করতে করতে
ক্লান্ত
ঘুম নেই
বিছানা চাদর বালিশ
সব কিছুতেই
একটিই কথা , দরজা বন্ধ করেছো ..?
ফোন আসে না
তাহলে কি কথা বলতেও ভয় ?
ভয় কি সব সম্পর্ক জুড়ে বুকের উপর মস্ত একটি বিভাজিকা ----
সামনের মাধবী ফুলের গাছটির দিকে
চেয়ে থাকি
কই , সেও তো বোবা!
তার ফুলেরা কি বলে,
পাহাড়ী পাখিরা ?
বলে নাকি হরিণেরা ছুটে যায় ওই তো .....
তার রাতজাগা চোখের-জঙ্গলে
ছায়া-জোস্নায় বাঘের আতঙ্ক নেই কোনও.......?!
( ছবি : সুমিত সরকার )

No comments:
Post a Comment