Wednesday, June 15, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে




পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




১১-ক

কথা ছিলো সব খুলে ফেলবো
ছায়ার ভেতর ছায়া খুলে 
বসে পড়বো জলের মতোন......
দৃশ্যরা দৃশ্য থেকে সরে কথা বলবে ---চলবে অন্তরঙ্গ সংলাপ কিছুক্ষন ,
পাখিরা উড়ে যাবে সব জড়তা ভেঙে .....

অথচ পর্যটন পর্যটন-ই রইলো। আমরা আবারও বন্দী 
হয়ে গেলাম। যেখানে 
বিগত সংলাপের চিহ্নটুকুও নেই । খাঁক হয়ে গেছে সব আয়োজনের উচ্ছাস !





১১ - খ

খড়কুটো ঠোঁটে 
         উড়ে বেড়াচ্ছে ওখানে 
                কারা ----
পথ আর পথে নেই 
পথ চলে গেছে নব অরণ্যের দিকে .....
নির্জন আকাশ ছুঁয়ে কথা বলছে সভ্যতার ভূতেরা এখন ----

ছায়ায় ছায়া মিশে ফিসফাস হেঁটে বেড়াচ্ছে ছায়ার কঙ্কালেরা .....
পিঠে তাঁদের কোন কুরুক্ষেত্রের সংলাপ?

ছায়া‌ থেকে ছায়া খুলে 
একটি আঙুলের উপর ধরে কেউ যেন পুরোনো কথা স্মরণ করিয়েছিল ----'আর একটি --- তাহলেই পাল্টে যাবে সব .....; '

কথা ছিলো 
দু'জনে দু'জনের দিকে ছুটে একটি ছায়ায় ছায়া হয়ে যাবো ----

পাখির মতোন আকাশ পাবে সকালের অরণ্য যখন 
বিশুদ্ধ ছায়ার শরীরে---- ?






১২.
তাঁর ধুলো-বাতাসে 
ভাসতে চাইলে 
এক ধরণের গন্ধ ;
লালমাটি উঠে গিয়ে যেন মানুষ রূপ পায় 
জানায় অভিবাদন ;
বরণডালা তুলে ধরে সাল-শেগুনের মুখের উপর ;
মেঘফাগুনের আকাশ উড়িয়ে দেয়.....

শুধুই প্রশান্তি 
হাওয়ায় হাওয়ায় কেবলই গান ....

আমাদের হৃদয়ে আজ 
পরিব্রাজকের অনন্ত শুধুই ----

সে তো জানে না 
তার রূপের খুশিতে ঝুরোমাটির 
ভাষা কেমন হয় ----

পথের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে                      তাঁর শুষ্ক মুখের ছায়া খানিক মুখে মাখি ;

এই ধুলো-বাতাসে 
ভাসতে আসি বলেই, সকল গঙ্গা লুকোয় 
মহাকালের জটায় --- !

এই ধুলো বাতাসে ভাসতে চাই যেই ,
চলার পথের উপর এক ধরণের 
গন্ধ পাই ---- 

দুঃখ হয় 
সে, সে সুবাস টের পায় না ----- টের পায় না এই চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জারও ;------






১৩.
সিগনাল না পেয়ে থমকে দাঁড়িয়েছিল
যে ট্রেন, দূর মাঠে 
তাল গাছের মাথায়
তখন যে সূর্যাস্ত ---
লাফ কেটে কেউ কেউ
              নেমেও গেল,
কেউ যেন রসের হাঁড়িটি পেড়ে আনবে বলে ছুটলো .....

ওপাশে খাড়া পাহাড়
পাথরে পাথরে
ভাসছে রাঢ়বাংলার
                সুবাস ---
ওদিকে ইঞ্জিনের সেই
ঘ্রাণ নিয়ে যাবে আরো
               কত দূর 
কেউ তা জানে না -----

সত্যি সত্যিই স্টেশন
কোথাও আছে কি ---
যেখানে রোজ দেখা হয় আমাদের !

কথা ছিল 
এরপর পথের গান শুনবো
করতালি উঠবে
সব শিমুল-পলাশে ....

দেখতে পেলাম না বলে এবার সেও 
মুখ লুকিয়ে নিলো 
           তাঁর -----?





১৪.
সে তো বনজঙ্গলের পাহাড়ি ফুল
পাখিদের ডানায় খোলা আকাশ ----

তার দরজা বন্ধ নেই 
জানলাও খোলা 
যত খুশি আলো মাখো 
                  ‌ গায় ------
আমাদের যে টুকু মাঠ 
             প্রান্তর 
সেখানেও দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখতেও ভয় এখন ।

এই আতঙ্কের সাথে 
ভাষা বিনিময় 
করতে করতে 
ক্লান্ত 
ঘুম নেই 
বিছানা চাদর বালিশ 
সব কিছুতেই 
একটিই কথা ,  দরজা বন্ধ করেছো ..?‌

ফোন আসে না 
তাহলে কি কথা বলতেও ভয় ?
ভয় কি সব সম্পর্ক জুড়ে বুকের উপর মস্ত একটি বিভাজিকা ----

সামনের মাধবী ফুলের গাছটির দিকে 
চেয়ে থাকি 
কই , সেও তো বোবা!

তার ফুলেরা কি বলে,
পাহাড়ী পাখিরা ?
বলে নাকি হরিণেরা ছুটে যায় ওই তো .....

তার রাতজাগা চোখের-জঙ্গলে 
ছায়া-জোস্নায় বাঘের আতঙ্ক নেই কোনও.......?!




( ছবি : সুমিত সরকার )



No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...