৭.
ডাকছে যে
কী করি ---- আবার যাবো .....?
কেন যে কেবলই ডাকে !
কাল রাতে দাঁড়িয়েছিলাম বারান্দায়
ভাবছি, কেন যে কার গলার স্বর শুনি কেবলিই বাতাসে .....!
সময় বলে, বড় অসময় ;
সময় অসময় বলছে কেবলই, কোথায় বিকেল, কোথায়ই বা
রাত .....?
শোনো শোনো
এখনি শোনো, এ তো চিরকালের ডাক......
সাড়া দাও
সাড়া দাও
দিন যে যায় চলে ;
কে আর অমন করে নেয়ই বা -----
ও পলাশ ভালো থেকো ।
৮.
ঝরা পাতা আর পলাশের মাঝে
যে উঠলো ফুটে,
যার সুন্দর নিয়ে এলো
তাকে,
আলোরা কাঁপতে থাকলো । আকাশে আকাশ গেল ভেঙে ---
সেই হাওয়াদের চিনি কি ?
ও মাটি, তোমায় প্রণাম । ও বৃক্ষ, তোমার ফুলে ফুলে
ফুটেছে দেখ কেমন
পলাশ আজ ..... ;
না দেখলেও, দেখি
না গেলেও, যাই
তোমার মাটিতে তুমিই আকাশ
তুমিই বৃক্ষ
তুমিই ফুল .....!
তাও সে সবের কেউ না আমরা যেন ;
আজ যা হলে, কালও
থেক, সেও কি ঘুরে ফিরে গেল মানুষের এই বসন্তে..;
৯.
সব বন্ধ করে বসে আছি । সাবানের ফেনার মধ্যেও
অজানা-আতঙ্ক লুকিয়ে আছে ।
আমি তার কোন হাতটা ধুয়ে তুলবো !
কতকাল আমরা কেউ কারো কাছে আসিনি।
কতকাল ------
সাবানের ফেনার ভেতর আজ
আমাদের নবপ্রজন্মকে ধুয়ে তুলে দিচ্ছি যে অনিশ্চয়তা ----
তাতেও নদী আসে
পাহাড়,
আসে, না-ছোঁয়া অরণ্য ......
সব ঠিকঠাক দেখা গেলেও
সব ঠিক না
তার সেই কমনীয় দুইহাত জুড়ে
যে অবিশ্বাস লেগে গেল আঠার মতো---
তাই, তাকেও আর
নিশ্চিন্তে .....;
কোথায় দাঁড়াবো
কোন দিকে
কোনখানে গেলে
তার নাকের ফুলের উপর জ্বলে উঠতে দেখবো সেই সব
বিশুদ্ধ নক্ষত্রদের ....
যে আকাশে আজ
অসংখ্য মৃত-মুখ ভেসে বেড়ায় ......।
১০.
সে চোখ খুললে
জেগে ওঠে সূর্যেরা সব ---- ঘুম ভাঙে আমাদেরও
সেই কলকাকলিতে---
পাখিরা এসে সব-- শাখায় বাঁধে বাসা,
গায় সুখ-দুঃখের গান ...... ;
সে সব সব ঘটতে থাকে ওই দু'চোখের ভেতর একটি স্তব্ধতায় !
আমরা তার কেশ-বিন্যাস দেখি,
সেলফিতে হাসতে দেখি এক গভীর আয়নাদের ;
সে যে কত যত্নে পাঠিয়ে দেয়
এক একটি অভিপ্রায়
এক একটি মহড়ার নিপুন বুনন .... ;
কই, কোথাও তো কোনো বিষণ্ণতা নেই ,
নেই সমস্ত দিনের হাহাকার, আতঙ্কদের অনাহারী মুখ-----
জঙ্গলমহলের বাতাসে আজ শুধুই বুঝি
ভাঙা বসন্তের ছেঁড়া পলাশেরা ওড়ে .....!
সেই চোখের পাতা খুললে, পাহাড় শাল-সেগুনের ছায়ায় তাই হাজারও কথা
সে ঘুমে গেলে
যে আলোরা নিভে যায় চারদিক অন্ধকার করে-----
তখন কুমারী নদীর অপর পাড়ে ভেসে বেড়ায় যেসব চাঁদেদের ঘর-দুয়োর ;
আমরাও যেন চাঁদ-তারাদের সঙ্গে সঙ্গে ছুটে চলে যাবো আজ
কিছুক্ষণ....
তার ঘুমের মুখের উপর
এমন একটি প্রতিবিম্বের জন্যে
যে সেলফিতে
সে তাকে নিজেই
চিনতে পারে না।
তাই ঘুমের ভেতর একা একা সেও কেঁদে ওঠে..........।
(ছবি দীপ্তিশিখা দাস)

No comments:
Post a Comment