Sunday, June 12, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে



পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



২.
কত নাম না জানা !

তার বুকের নিচেয় ধুকপুক করে উঠতে দেখি
তোমার মুখের রেখাদের ;

কী যে কমনীয় অসহায়তা সে সব ---
সে যে কত জীবনের গান
এই একলা পথের ;

জীবন যেন তারই গলায় চলেছে ছুটে....

সে যে কত পথ
কত নদী
কত মাঠ চিরে গড়ে দেয় তাঁকে ------

সেই মূর্তিই একমাত্র সম্বল
সেই আলোয়
মেঘে,
ছায়ায় গড়ে যে শরীর 
তাও যে কতকালের উপাসনা---- 
সে কথা কি জানা হলো এই ধুলায় ধুলায়.....

ওহে মেঘ-রোদের কাশবন 
কতবার আমি যে তোমাতে নদী হই 
কতবার পাহাড় 
কত সমুদ্র ওড়াই
তার বুকে, সে কথা যদি ঠিকঠাক কেউ জানতো, তাহলে এই শরীর 
এই মান অভিমান
এই বোধ 
সকলই হতো তারই -----

সে যে কাঁদে এই ভাদ্রের পথের আলোয়, এই রোদে ...

আমি যে কী করে যাই ফিরে
কোথায়ই বা যাবো ?
কী করেই বা যাই ভুলে
যা কিছু ধরা দিয়ে যায় চলে, ওই দূরে ....

যে ছিল 
একটু আগেও নির্বাক!





৩.
তার জন্যে ভেতর থেকে খোদাই করে
আনলাম দুইহাত ------

সে একটি করে ফুল ফোটাক
লতায়পাতায় ভরিয়ে দিক 
চোখের একটান কাজলে 
যেমন ক্যানভাস খোলে মুখ 
ভাসতে ভাসতে মেঘেদের কণারা মেঘে মেঘে‌ ঘোরে‌ যেভাবে ......;

সেই সব পাতাবাহার‌ কুড়িয়ে জড়িয়ে 
তার সকল সৌন্দর্য রেখায় গন্ধে বয়ে যাক -----

মুগ্ধতায় চেয়ে থাকুক সকল আনন্দ ----
সে সব সব তাকে দেব বলেই তো 
এই সুরমাধূর্য করেছি প্রতিস্থাপন --------;

লক্ষ জন্মের অভিশাপ ভেঙে এমন মাধুর্য উদযাপনে যাক সেই মহার্ঘ্য সুরে 
যার উপর উজাড় দাঁড়াতে পারে সকল নিঃসঙ্গতা ---------

একমাত্র সেই তো জানে সেই মুর্ছনা 
কেমন হলে রাতের ট্রেনের ভেতর দুলতে থাকে কোন আগমনী.....!

তারপরও সকল যন্ত্রণার পোড়া পাখনা ওঠে উড়ে‌ ....

উড়ে আসে এমন এক ইচ্ছে-পতঙ্গের কান্নারা ; যাদের ডানায় অনেক নৈসর্গিক অবয়ব;
সে এমন স্থলপদ্ম হাসতে থাকে সবটা জুড়ে যেন ....।

এ জন্ম ---- সত্যিই কি জানে সে সব !

তাই বুঝি গড়ে ওঠে 
সকল অলিখিত সম্পর্কে বিচিত্র এক পৃথিবীর অপার নামফলক -----?

সে যেন ঘরের বারান্দা জুড়ে হেসে বেড়ায় তখন । আকাশের ডানাভাঙা রূপমুগ্ধতায় সে হয় অনেক কাহিনীর একটিই গল্প -----

যে ‌বুকের উপর 
হাঁটু ভেঙে বসুক পুনরায় অন্য আর এক জয়দেব -----
 




৪.
এভাবেই বার কয় 
পথের নদীর ভেতর 
ভাসতে ভাসতে
উদ্বাহু দাঁড়িয়ে থাকলাম থমকে ;

তোমার স্রোতস্বিনীর তরঙ্গে 
জলের ঘুর্ণির ভেতর 
আলিঙ্গনাবদ্ধ ;

কে যে তখন 
কোন্ উচ্চাঙ্গ সংগীতে
কোথায় নিয়ে তাকে 
কোথায় ফিরিয়ে দেয়‌---- 

আমি অভিভূত ; 
চেয়ে থেকেই যেন
    কত জন্ম পার করে 
                    দিচ্ছি ----

একটি গল্পের ভেতর 
ছায়াছবির মতোন 
    কথা দিলাম যেই

সে আবার ভাসতে ভাসতে দাঁড়ালো ।
তাকে নতুন করে গড়ে তুলতে অলিখিত সম্ভবনারা 
আর এক দিগন্ত ছাড়িয়ে 
একটিই সাক্ষর রাখতে ছুটে আসছে যেন .......;





৫.
প্রস্তুত ছিলো !

অপেক্ষা ভেঙে 
তাই খানখান হচ্ছিল 
বুকের ভেতর ?

একটি ইশারা বুঝতে 
এতটা সময় পার হয়ে গেল !

উঁকি দিল সে, ডাকলো, বুঝোলো,
'গন্ডি ভেঙে বের হয়ে 
ডাকতে‌ পারলে না ---'

যার কথা ইষ্টনাম হয়ে 
     গান হয়ে গেল .... ;
সুর বুঝলে না বলে 
সুর খুঁজে চললে ....?

যেভাবে খুঁজে খুঁজে 
মানুষ জন্ম পার করে 
               প্রাণ ----
মহাপ্রাণের পরিচয় করাতেই ডেকেছিল 
                 সে--- 
বুঝিয়েছিল , দুটি চোখের স্তম্ভিত বিষাদ‌! 

' তাও গন্ডি ভেঙে 
  ডাকতে পারলে‌ না.?'

যেন একটি প্রদক্ষিণ শেষ হলে 
আর একটিতেই চলে গেল এই জন্মের সকল বয়স  ..... ; 

কেউ কেউ যেন বলে গেল , পিছুটান ----

দিন আনতে 
দিন ফুরোলো
সে সাধন, কখন ?
শত উদযাপনেও 
সে বাঁধন জোড়া যায় না ।

প্রস্তুত ছিলে কি ?
অনেক অপেক্ষা ভেঙে খান খান হয়েছিল -----;

যদিও ইশারা বোঝানো গেল না যেন ---- সময় পার হয়ে গেল সময়ের হাতটি 
          ছাড়িয়ে ----
সেও কি ঘুরে, ফিরে গেল , এই জন্মের  পথে পথে একা একা..?





৬.
তার মাথায় পলাশ দেখে 
এবারের বিমুখিনতা ক্ষমা করি ।

মন দিয়ে চেয়েছিলাম বলেই ,
এই বসন্তও লুকিয়ে ফেললো মুখ --- ?

সুখে থেকো 
আনন্দে ফুটে থেকো 
পাহাড়ী মেঘের মতো .... ;



(ছবি দীপ্তিশিখা দাস)


No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...