Tuesday, August 9, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস


৬২.
ছায়া সমৃদ্ধ স্বভাবে 
ঘুরতে ঘুরতে এতটাই 
ঘুরে গেছে 
কোন দিক থেকে তাতে আবৃত হই ?


আজ তাকে পাঠালাম 
আমার পরাজিত হাতের আঁকিবুঁকি ;

সেও হাত উল্টে 
হাতের ছায়ায় মেলে ধরলো মুহূর্তের কুয়াশায় মোড়া অনেকটাই খাজুরাহো 

আমি কি ভাষ্কর্য বুঝি 
না বুঝি পাথর খোদাই 
কিছুই দেখিনি মৈথুন ঢেউ
অন্তরের সমর্পণে 
যে জীবন পূর্ণতা চায় 

সেই ঢেউ গুনি কেবল 
বেঁকতে বেঁকতে 
শরীরেই যেন সকল পথ উল্টাই ;

এসবের কিছুই জানো না হয়তো ,
জানতে জানতেই একটি জীবন পেঁচার চোখের নিরিখে হারিয়ে যায় ---
হারায় একটি রাতের তারায় তারায় আমাদের কত সব সমৃদ্ধ অসমৃদ্ধ ঘুম চোখে যে ফুরায় দিনগুলি

হায় 
সকলই ফুরায় 
একটি কুয়াশা ভরা মুখে !

যেতে যেতে যেমনটা
দেখে কেউ কেউ 

সকলেই না -----





৬৩.
বিন্দু বিন্দু ঘাম রক্তে
গড়াতে গড়াতে
যে ধারা-বর্ষায় প্রাণের প্রবাহ উঠেছিল গড়ে
তার বিপরিতে
আকাশ যে অন্য রঙ মাখে
এ বার্তাও এসেছিল কানে ,
তবু মেঘমল্লারে  
দুই হাঁটু করেছিলাম ভাঁজ 
নিয়েছিলাম তুলে শেষ ঝঙ্কার ,
জানি সে বর্ষার বিদ্যুৎও সেই ;

ভেসে যাবে একদিন সেও সেই ভুলের সন্মোহেই 
পারবে না রাখতে ধরে 
যে গভীরে যায় সেই নির্মোহ !

তার যে হয়নি 
হয়নি দেখা ,
মহাসংগীতের মিলন মুর্ছনায় ভাসা ----

তাও তাকেই চাইছ কেন বাঁধতে ?

কেন তা তো জানি না !
জেনেছে কি সে ?
জেনেছে কি 
কেন তার চোখে বসাতে চেয়েছিলাম অধরার স্বপ্ন-কাজল!





৬৪.
জাটিঙ্গায় শুনেছিলাম ইচ্ছা-মৃত্যুর গল্প 
কোনো একদিন ।
আগুন সম্মোহনে 
কেন যে যায় তারা ...!

যদিও সে আগুন তো আমরাও চিনি যেন ;

তবুও যাই 

তাকে আবৃত করে 
এই যে ঘুরি ,
সেও তো খানিকটা তাই ; 

ব্যবধান এটুকুই 
তাতে দৃশ্যত আগুন নেই 
আছে জলের নিরন্তর বয়ে যাওয়া .....
তাতে বেজে চলে সুবর্ণরেখার পায়ে চলা পথের ধ্বনি ; 

সে মিলনস্বপ্ন ভেঙে 
তুমি কি আবারো যাবে লিখিত কোনো সম্মোহনে !

সে যেন লিখিত নয় 
অলিখিত প্রলাপ আকাঙ্ক্ষা অনিশ্চিত 
                      ঘুম !

তবে যাও

এই তো কদিন আগেই দাঁড়িয়েছিলে 
হাতে নিয়ে বারান্দার প্রদীপ ;
কে যেন বলেছিলো ঘুরতে ঘুরতে, পারবে তো , পারবে তো ....?

যদিও সে সব কারো জন্যেই নয় 
জন্মের অসহায়তা থেকে মুক্তির খোঁজ ?

আছি , ছিলামও ;
বারবার আসি এই পৃথিবীর পথে ডাক দিয়ে যাই ---- 
যদি কেউ শোনে , কেউ শোনে তাঁর আপন সংলাপ ; এই অজানা অচেনা পথিকের সুরে , 
ভ্রান্ত সে কথপকথন ?






৬৫.
দিগন্তের ওপারে নক্ষত্রপথ ধরে ধরে চলছিল যেন কুনোব্যাঙটি ---- মাঠ শস্যক্ষেত কথা বলছিল যেন তার পায়ে পায়ে .....
কত জীবনের কথা সে সব ; তার দুপায়ের ফাঁকে জমে যাচ্ছিল রক্ত ক্লেদ, মৃত ও জীবিত ডাস ঝিঁঝিঁদের অকথিত সংলাপ কত যে ;

চাঁদেদের অট্টহাসিও কিছু ; ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই তার ।বহুকাল পরে কথা পেয়েছিল সে !
কেউ বলেছিল যেন , চলো চলো , ওই তো ওইখানে তিনি জন্ম নিচ্ছেন --- তোমাকে বরন করে ফিরে আসতে যেটুকু সময় ;

একটি প্যাঁচা লক্ষ্য করছিল সে সব । তার ছিল রাতের আহারের খোঁজ ----

ওহে অনাহারী --- অপেক্ষায় থাকো , আমি এক মহামানবের জন্ম প্রদক্ষিণ করেই ফিরবো --- তার পর সব শুনবো তোমার কথা যা আছে ।

একটি নক্ষত্রের দিকে চেয়ে চেয়ে এই যে উৎসাহী পথ , একে কে আর মনে রাখে বলো ; আকাশের ওপারে আকাশ জুড়ে আজ কারো ডাক চলেছে ছুটে ....;

সে শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখে আর মাঠ ভাঙে একা একা .....

সে কার গলায় পড়াবে মালা 
সেই মহেন্দ্রক্ষণ যায় যে চলে ......






৬৬.
ধুলায় বালিতে 
ছায়ায় 
দেনা আর 
      পাওনায় 
বিরহ তোমায় 
   ফেরায় মুখ ;
মানুষ ভুলেছে মানুষের ধ্যান 
মানুষের পাশে 
    বসেছে মানুষ তবু 
          আহারে 
         অনাহারে 
কাহারে তুমি কাহার করেছ ,
ওহে বিরহী 
আমি তো চিনেছি 
              অন্য সুখ ;

বুকে আমার তুলেছে ধুন 
গাইছে গুনগুন
    বলছে কেবলই
        তুমি দেখেছ কি 
বলেছ তারে,জীবন প্রবাহ জুড়ে এমনই সে 
 এমনই তাঁর রূপ!

চাইলে কি চিনতে 
নাকি , ভাসলে কেবলই
    সেই মরা গাঙে....





৬৭.
শত সংকটে থাকলেও 
অভিমান তো 
     তার থেকেও 
          বড় , না ?

আত্ম - মন্থনে যাই
নিঃশেষ করি
          ঘুরে ঘুরে 
       সব দুধ ----
যা কিছু নিয়েই আসো না কেন , যা কিছুতেই 
                হও ;
অভাগার না থাকলেও
      নতুন আলো 
প্রদীপের ছায়াতেই 
 ‌ পড়ি 
       সকল মনুষত্ব ;

ঢেউএ ঢেউএ-ই ক্ষইয়ে ফেলি , যে জলে উজলে দিয়েছিলাম তোমায় লেখা চিঠি ----

ভাসতে ভাসতে ডুবি
দেখি , তাঁর শেষ অস্থি ---- 

একই মাটি পায় ....

যে মাটিতে জন্মেছিল অবহেলিত একটি চারাগাছ ?





৬৮.
সব উল্টে যায়।

যেভাবে হোঁচট খেয়ে পড়ি পথের দিকে চেয়ে।
আকাশের মাঝেও উল্টে ভাসে দেখি আমার কঙ্কাল....।

অফলাইনে 
এভাবেই প্রফাইল বিবর্ণ হয় আজ --- 

পাল্টাতে পারি না । পাল্টে পাল্টে যেভাবে সে মহনীয় হয় । আমি তারই উল্টো পথে নিজেকে করি বিবর্ণ।

পথ পথের দিকে চাইতে চাইতে কুকুর-কুন্ডলী শোয়।

কী নিয়ে ফিরি ,কী নিয়ে ঘরের করি খোঁজ.....?
তার অবহেলাই 
তাঁর খোঁজে ঠিকানাবিহীন করলো !





৬৯.
বেলাশেষের বেলা 

কোথাও একদিন ছিলো যেন রোজের কথা কওয়াকয়ি ;

কোনো একদিন 
শুনেছিলাম 
ইচ্ছা-মৃত্যুর গল্প :
আগুন-সম্মোহনে 
কেন যে যায় তারা ...!

যদিও সে সব সম্মোহন আমরাও চিনি যেন ;

তবু যাই....।

তাকে আবৃত করে 
এই যে ঘুরি ,
সেও তো তাই ;

ব্যবধান এটুকুই
দৃশ্যত আগুন নেই ,
আছে যেন জলের নিরন্তর বয়ে যাওয়া...
তাতে বেজে চলে কত সুবর্ণরেখার পায়ে চলা পথের ধ্বনি ;

সেই মিলনস্বপ্ন ভেঙে 
সে কি আবারও যাবে লিখিত সম্মোহনে ?

সেও যেন লিখিত নয় 
অলিখিত প্রলাপ আকাঙ্ক্ষা ;
নিশ্চিত ঘুমের !

তবে যাক ....

এই তো কদিন আগেই দাঁড়িয়েছিলো 
হাতে নিয়ে বারান্দার প্রদীপ ;
কে যেন বলেছিলো ঘুরতে ঘুরতে ,
পারবে তো , পারবে তো ....?

যদিও সেসব কারো জন্যেই নয় ,
জন্মের অসহায়তা 
থেকে মুক্তির খোঁজ !

আছি ,
ছিলামও ;
বারবার আসি এই পৃথিবীর পথে 
ডাক দিয়ে যাই 
যদি কেউ শোনে ,কেউ শোনে তাঁর আলাপ ;
এই অজানা অচেনা পথিকের সুর ----

ভ্রান্ত সে কথপোকথন?
জাটিঙ্গায় ইচ্ছা মৃত্যু লেখা যেন।



ছবি : কল্পোত্তম 

No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...