এই সেই নদী। নাম জানলাম সোনাই নদী। এই সেই ঘোষ বাড়ি , যে বাড়ির খড়ি রাখা ঘরে ছিলাম। পচান্ন বছর পরে সেই খড়ির ঘরটির পরিবর্তন বিশেষ কিছু হয়নি। এখন মানুষ থাকবার ঘর হয়েছে এই যা ;
এই নদীতেই সমস্ত দিন মেঘ রোদের খেলায় পাল তুলে ভেসে ছিলাম সারাদিন।
তীর্থ - দর্শণ হলো। কী যে রোমাঞ্চ হচ্ছিল। সেই ভয় ভয় দিন ------ দিদিভাইয়ের কোলের ভেতর বসে যে পথটা গোরুর গাড়িতে দুলোতে দুলোতে চলেছিলাম , আজ পঞ্চান্ন বছর পরে সেই পথটা কি সহজে ইজিবাইকে চড়ে অতিক্রম করলাম !
মনে হচ্ছিল, ওই তো দিদিভাইয়ের সঙ্গে, পরে গোরুর গাড়ি ছেড়ে দিয়ে দৌড়তে দৌড়তে যে পথটুকু জগিন দাদুর বাগানের মধ্যে সেই যে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া , আজও সেসব সবই আছে একই রকম , শুধু সময় চলে গেছে পঞ্চান্ন বছরের পার -----
এই সেই পথ, যে পথে ত্রস্ত পায়ে ছুটে ছিলাম ---- ওই যে, ওপাশে, মাঠের ওপাশে সেই গোরুর গাড়ি চড়া পথের শুরু -----
কী অদ্ভুত, বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে
ছিলাম যখন তখন কোথা থেকে একটি প্রাইভেট গাড়ি এসে হাজির হলো , সেই গাড়িতে চড়েই ফিরে চলেছি অল্প খরচায় ঝিনাইদহ পর্যন্ত।
সেই যে চলা শুরু হয়েছিলো, যে দেশটাতে সেই দিন , আজ এই পরিক্রমণ দিয়েই হয়তো শেষ হলো এই দেশের সঙ্গে আমার সব সম্মন্ধের শেষ যাত্রা পথ .....!


























No comments:
Post a Comment