Monday, June 20, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস



২৫.
এ কোথায় চলেছো 
শুরু হয়েছে যেখানে 
          স্বপ্নের পথ ....?


তুলে দিলে দু'হাত           
           ভরিয়ে 
মেঘেদের আকাশ নয়,
কাশ-মেঘের অনেক 
             দৌড়-কথা ---
কত গল্পের সঙ্গে কত গল্পের মহারূপ পূর্ণ করলো সে , সে কথা যদি সত্যি-ই জানতে, সেইসব ঝর্ণা-দের 
নদী হয়ে যাওয়া 
     রূপ-কথাদের..... ;


এরপর কাশেদের 
         ‌শারদ ডাক ----
শুরু হয় যেন রোজ এক একটি জীবন নতুন করে ....


কেন শুধুই নারী হয়ে ওঠো বারবার ---- একটি বার দুর্নিবার ঢেউ হয়ে 
        দেখই না কেন ;





২৬.
তার চোখ 
মেঘেদের বর্ণমালায় হারিয়ে যায়  
আমরা ভাষা খুঁজি---- লিপি অক্ষরে গড়ি  কালের অনেক অবহেলিত দৃশ্যমালাদের --- সেও ভুলে যায় কোথাকার নাগরিকত্ব কোথায় কেমন ভাষায় লেপ্টে যায় কার মুখের মাঝে -----


আকাশেরা চলেছে যেন অনেক আকাশের তথ্যচিত্র তৈরি করে  
ছুটতে ছুটতে ......


অস্পষ্ট স্বরে আজ যত দূরে সরে যায় 
ততোই আতঙ্কিত হই 
পরবর্তী অধ্যায়ে .....;


মেঘেদের বর্ণমালায় 
সেজে উঠে যে ভাষায়ই তাঁকে অনুবাদ করতে যাই 

দুর্বদ্ধতা অসীমে নৃত্যরত ----সে যেন কেবলই ঝঞ্জা---- 


যে চমকেই তাঁকে রেখাঙ্কিত করি না কেন , এমনকি তুমি নিজেও চিনতে পারো নি, সেই খেয়ালী রূপ ; একটি হু হু
পথই ছুটছে শুধু--- ছুটছে .....

কখন সে তাঁর চোখ ভেঙে গড়িয়ে নামবে এই খাঁ খাঁ বুকের উপর  

সেই বিভঙ্গ রূপ দেখে, এই পড়ন্ত বেলারাও যেন 
সকালবেলার হাসিমুখ ভাঙতে থাকবে অনেক অদৃশ্য মাঠের আয়নায়‌ ; 

নতুন ভাষা শিখে নিও হে মহাপ্রাণ , নতুন ভাষা ------- যে অনন্তকাল তাঁর মুখ এঁকে চলেছে 
এইসব মেঘেদের বর্ণমালায় ......






২৭.
সময় আমার যায় যে
বাকি দিনের বাঁকে বাঁকে ....


ঘরে ঘরে ঘুরি কার ?
আবার ঘরের মাঝেই 
                       মরি ;
যেই সরি 
মুখটি অমনি ভার।


আমি যে কার 
কে আমার!
তাঁহার দিনেই ঘুরি ফিরি, পাই আর না পাই , চাই যে তাঁকেই 


সে হয় কি ;
না, আমি হই তাঁর!


কার কার মাঝে তাকেই খুঁজি ....?


সময় আমার যায় যে
    সময়ের ওপার -----
অপার হয়ে থাকি 
 সেই চোখেরই কোনায় ?






২৮.
অন্ধকারে 
কোথাও একটু আলো চলকে উঠলে 
মনে হয় বাতাসে ভেসে এলো মহানদী -----
আচ্ছা , অন্ধকার কি কখনো বিশুদ্ধ হয় , ওই আকাশের মতো নির্মল আনন্দে ? 
তারাদের নিঃসঙ্গতা যখন হাঁটু গেড়ে  
পড়ে থাকে রাতের ধু ধু ফসলশূন্য মাঠে‌---- আমাদের ভেতরের নিরন্নতাকে  
কে আর জানে , সেই সব পল্লির পথে পথে ঘুরে , নগরের ধূসরতায় মেশে যখন ;


তিনি কোথায় কোথায় ঘোরেন , কোন বিহ্বলতায় ; তিনি কি শুনতে পারেন , একটু আগে , সমস্ত অন্ধকারের ভেতর থেকে একঝলক আলো  
চলকে উঠেছিল বলেই , আমরা তাঁর মুখ দেখলাম আজ সামান্য আলোয় !


ও , বিভঙ্গ তরঙ্গ 
তুমি আরো দূরে চলে যাও, যে প্রাণ চলেছে ছুটে অন্ধকারের 
       মহাসমুদ্রে.......





২৯.
মনে হলো তার কাছে যাবো ,
দু'হাতে তুলে ধরবো চিবুকটি ; 


শরীরটাই আছে , শরীরে মন কই  
তোমার মনোরমা ?


ঘরের ভেতর হাউমাউ করে উঠলো চাঁদ-তারারা ---- উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ালো ; এখন আমি কাকে ছুঁই ?
কার বুকের ভেতর নিঃসঙ্গ মুখটি ডুবিয়ে আমিও খানিক চিৎকার করে উঠবো ---- বলবো , এই তো রক্তের তরঙ্গে সাঁতার কাটছো তুমি আগুন-পলাশের ঢেউএ ঢেউএ ........ ;

তবে কি বসন্ত এলো 
ওহে, তোমার প্রদীপে ?

এই রাত 
আমাদের হাহাকারে আরো কত সহস্র বছর তরঙ্গে তরঙ্গে ভাসতে ভাসতে চলে যেতে থাকবে যে,

সেই মহামিলনের অপেক্ষায় ----
সেটাই ভাবছি ;





৩০.
তার বিচিত্র খেয়াল 
প্রহসন চেনালো ;


কী খেলায় মেতেছে 
ধর্মাধর্ম ;
জীবন চেনেনি জীবনের ন্যায় অন্যায় কিছুই কখনো!


নৈঋতে আছো 
উত্তরে , দক্ষিণে
পশ্চিমে ,পুবে ---
যতোই চাও না কেন 
সব বিফলে ;


আছি 
তবুও আছি ,
সকল চৈতন্য জুড়ে 
      আমিই ----


দেখ তো তোমার আমাকে ঘিরে ;
যত দূরেই যাও না কেন ,যতোই ফেলো না কেন জাল 
কুয়াশার সকল বৈচিত্র তুমি  
হাঁটুতে ভাঙতে পারো নি ,দুরছাই বলে ;----
শিশিরে 
নিয়রে মাখামাখি এই যে অঘ্রাণ 
পথে পথে করে চলেছি প্রদক্ষিণ , চালতা বনে, বকুলে 
মুকুলে , যে অর্যুণ বৃক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম নির্জন ;
সে কান্না-কথায় 
দুর্বল সামর্থের 
কোনো অধিকার নেই । 


জানি , আমার সকল ঘিরেই  
তাঁর দয়া 
আমার সকল নিয়েই তোমার খেলায়‌ যে ঢেউ চলেছে .....


তাতে কোথাও নেই 
সেই দীর্ঘশ্বাস 


বাজি আমার বাজির পরে বাজি ; যে অস্থি-পাশায়‌ কুরুক্ষেত্র ----- সেখানেও তুমিই সখা 
জানি ;

গাণ্ডিব খসে নি, খসে নি অঙ্গিকার 
যুদ্ধেও আছি , আছি তাঁহার 
প্রকৃত না‌ জেনেই...... !?




( ছবি : দীপ্তিশিখা দাস )






No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...