দীপংকর রায়
উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস
২৫.
এ কোথায় চলেছো
শুরু হয়েছে যেখানে
স্বপ্নের পথ ....?
তুলে দিলে দু'হাত
ভরিয়ে
মেঘেদের আকাশ নয়,
কাশ-মেঘের অনেক
দৌড়-কথা ---
কত গল্পের সঙ্গে কত গল্পের মহারূপ পূর্ণ করলো সে , সে কথা যদি সত্যি-ই জানতে, সেইসব ঝর্ণা-দের
নদী হয়ে যাওয়া
রূপ-কথাদের..... ;
এরপর কাশেদের
শারদ ডাক ----
শুরু হয় যেন রোজ এক একটি জীবন নতুন করে ....
কেন শুধুই নারী হয়ে ওঠো বারবার ---- একটি বার দুর্নিবার ঢেউ হয়ে
দেখই না কেন ;
২৬.
তার চোখ
মেঘেদের বর্ণমালায় হারিয়ে যায়
আমরা ভাষা খুঁজি---- লিপি অক্ষরে গড়ি কালের অনেক অবহেলিত দৃশ্যমালাদের --- সেও ভুলে যায় কোথাকার নাগরিকত্ব কোথায় কেমন ভাষায় লেপ্টে যায় কার মুখের মাঝে -----
আকাশেরা চলেছে যেন অনেক আকাশের তথ্যচিত্র তৈরি করে
ছুটতে ছুটতে ......
অস্পষ্ট স্বরে আজ যত দূরে সরে যায়
ততোই আতঙ্কিত হই
পরবর্তী অধ্যায়ে .....;
মেঘেদের বর্ণমালায়
সেজে উঠে যে ভাষায়ই তাঁকে অনুবাদ করতে যাই
দুর্বদ্ধতা অসীমে নৃত্যরত ----সে যেন কেবলই ঝঞ্জা----
যে চমকেই তাঁকে রেখাঙ্কিত করি না কেন , এমনকি তুমি নিজেও চিনতে পারো নি, সেই খেয়ালী রূপ ; একটি হু হু
পথই ছুটছে শুধু--- ছুটছে .....
কখন সে তাঁর চোখ ভেঙে গড়িয়ে নামবে এই খাঁ খাঁ বুকের উপর
সেই বিভঙ্গ রূপ দেখে, এই পড়ন্ত বেলারাও যেন
সকালবেলার হাসিমুখ ভাঙতে থাকবে অনেক অদৃশ্য মাঠের আয়নায় ;
নতুন ভাষা শিখে নিও হে মহাপ্রাণ , নতুন ভাষা ------- যে অনন্তকাল তাঁর মুখ এঁকে চলেছে
এইসব মেঘেদের বর্ণমালায় ......
২৭.
সময় আমার যায় যে
বাকি দিনের বাঁকে বাঁকে ....
ঘরে ঘরে ঘুরি কার ?
আবার ঘরের মাঝেই
মরি ;
যেই সরি
মুখটি অমনি ভার।
আমি যে কার
কে আমার!
তাঁহার দিনেই ঘুরি ফিরি, পাই আর না পাই , চাই যে তাঁকেই
সে হয় কি ;
না, আমি হই তাঁর!
কার কার মাঝে তাকেই খুঁজি ....?
সময় আমার যায় যে
সময়ের ওপার -----
অপার হয়ে থাকি
সেই চোখেরই কোনায় ?
২৮.
অন্ধকারে
কোথাও একটু আলো চলকে উঠলে
মনে হয় বাতাসে ভেসে এলো মহানদী -----
আচ্ছা , অন্ধকার কি কখনো বিশুদ্ধ হয় , ওই আকাশের মতো নির্মল আনন্দে ?
তারাদের নিঃসঙ্গতা যখন হাঁটু গেড়ে
পড়ে থাকে রাতের ধু ধু ফসলশূন্য মাঠে---- আমাদের ভেতরের নিরন্নতাকে
কে আর জানে , সেই সব পল্লির পথে পথে ঘুরে , নগরের ধূসরতায় মেশে যখন ;
তিনি কোথায় কোথায় ঘোরেন , কোন বিহ্বলতায় ; তিনি কি শুনতে পারেন , একটু আগে , সমস্ত অন্ধকারের ভেতর থেকে একঝলক আলো
চলকে উঠেছিল বলেই , আমরা তাঁর মুখ দেখলাম আজ সামান্য আলোয় !
ও , বিভঙ্গ তরঙ্গ
তুমি আরো দূরে চলে যাও, যে প্রাণ চলেছে ছুটে অন্ধকারের
মহাসমুদ্রে.......
২৯.
মনে হলো তার কাছে যাবো ,
দু'হাতে তুলে ধরবো চিবুকটি ;
শরীরটাই আছে , শরীরে মন কই
তোমার মনোরমা ?
ঘরের ভেতর হাউমাউ করে উঠলো চাঁদ-তারারা ---- উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ালো ; এখন আমি কাকে ছুঁই ?
কার বুকের ভেতর নিঃসঙ্গ মুখটি ডুবিয়ে আমিও খানিক চিৎকার করে উঠবো ---- বলবো , এই তো রক্তের তরঙ্গে সাঁতার কাটছো তুমি আগুন-পলাশের ঢেউএ ঢেউএ ........ ;
তবে কি বসন্ত এলো
ওহে, তোমার প্রদীপে ?
এই রাত
আমাদের হাহাকারে আরো কত সহস্র বছর তরঙ্গে তরঙ্গে ভাসতে ভাসতে চলে যেতে থাকবে যে,
সেই মহামিলনের অপেক্ষায় ----
সেটাই ভাবছি ;
৩০.
তার বিচিত্র খেয়াল
প্রহসন চেনালো ;
কী খেলায় মেতেছে
ধর্মাধর্ম ;
জীবন চেনেনি জীবনের ন্যায় অন্যায় কিছুই কখনো!
নৈঋতে আছো
উত্তরে , দক্ষিণে
পশ্চিমে ,পুবে ---
যতোই চাও না কেন
সব বিফলে ;
আছি
তবুও আছি ,
সকল চৈতন্য জুড়ে
আমিই ----
দেখ তো তোমার আমাকে ঘিরে ;
যত দূরেই যাও না কেন ,যতোই ফেলো না কেন জাল
কুয়াশার সকল বৈচিত্র তুমি
হাঁটুতে ভাঙতে পারো নি ,দুরছাই বলে ;----
শিশিরে
নিয়রে মাখামাখি এই যে অঘ্রাণ
পথে পথে করে চলেছি প্রদক্ষিণ , চালতা বনে, বকুলে
মুকুলে , যে অর্যুণ বৃক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম নির্জন ;
সে কান্না-কথায়
দুর্বল সামর্থের
কোনো অধিকার নেই ।
জানি , আমার সকল ঘিরেই
তাঁর দয়া
আমার সকল নিয়েই তোমার খেলায় যে ঢেউ চলেছে .....
তাতে কোথাও নেই
সেই দীর্ঘশ্বাস
বাজি আমার বাজির পরে বাজি ; যে অস্থি-পাশায় কুরুক্ষেত্র ----- সেখানেও তুমিই সখা
জানি ;
গাণ্ডিব খসে নি, খসে নি অঙ্গিকার
যুদ্ধেও আছি , আছি তাঁহার
প্রকৃত না জেনেই...... !?
( ছবি : দীপ্তিশিখা দাস )

No comments:
Post a Comment