১৫.
এসেছি যখন
যেতেই হবে ।
এ কথা বলায় কোনো জড়তা নেই ।
নেই ঠিকই---- তাই বলে কি বেলা এগারোটার ওই স্তব্ধ টগরফুলের উজ্জ্বলতা
দেখবো না
এমন বৈশাখের রোদে!
তা বলে কি
একটিবারও চেয়ে থেকে মাধবীলতার ডালে
তার মুখের কথা ভাববো না ?
সময় অসময়ের মৃত্যু- আতঙ্ক থেকে তাকে ঘোরাতে বলবো না
মুখ -----
তা কী করে হয় !
ভাবতে পারি না
সত্যিই ভাবতে পারি না ,আজ সে সাল-শেগুনের জঙ্গলে অনেক দিন পরে হাঁটবে.......
নির্মল হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। কারণ তার দুয়োর থেকে সব শেকলের ভার সরে গেছে ------ বাতাসে ভাসাবে সে এবার সমস্ত জঙ্গলমহলের আকাশ
কুমারী নদীর কূলে
দাঁড়াবে দুহাত ছড়িয়ে---- ;
এসব ভাবার মধ্যে
রূপন্তী যদি দীপ্তিকে
পায় ,
সে বা তারা যদি ভোলে
তাদের জন্ম-ফাঁস -----
আমিও তো চাইবো-ই
এমন অপলক ,
ওই স্তব্ধ জবা গাছটির
দিকে ,
চাইবো-ই , টগর গাছটির দিকে একঝলক !
রূপন্তী বলুক আর না বলুক
দীপ্তি হাসুক
তার ঢাল সবুজ পাহাড়ে কিছুক্ষণ -----
এমন হরিণ দৌড় ছেড়ে কেন এখনি ভুলে যাবো জঙ্গলমহলের চাঁদকে দেখেছিলাম যে একদিন দুলতে ;
সকালের রোদ-ছায়াতে মিলে আমিও
একাকার করে দেবো আজ সমস্ত সীমানার তরঙ্গ .......
পাঠাবো সেই ছবি
জীবন যেখানে
জীবনের আনন্দে
মগ্ন হয়ে দেখতে থাকবে সকল প্রবাহ মোড়
ঘূর্ণায়মান মৈথুন রূপটি তাঁর ?
১৬.
আর পাঠাবো না ভাবনাদের ,
এবার তারা
নিজস্ব খেলায়
কাবার করুক
একলা দিন ;
খেলা তো কারো সাথে কারো না ,
খেলা তো আপন আনন্দের দিনলিপি....।
কেউ দেখুক আর না দেখুক, তার জন্যে কি রোদেরা নামবে না পথে ; জ্যোস্নারা ঘুরবে না বাগানের ভেতর ?
সে তো দেখে না
দেখার জন্যে যেসব অন্যমনষ্কতার প্রয়োজন, যেন হিসাব বিহীন খাতা খোলা ,
তা তো অতিমাত্রায় সুখ-ঘুমে সঠিক রাত পায় না ;
দিবাঘুমের অনেক স্বপ্নকথাদের জানি আমি , জানি আহার- বিহারে তাদের
নিষ্প্রয়োজন বিহ্বলতা -----
তাই ,
তাকে আর পাঠাবো না ---- ভেতরের ভাষ্কর্য ;
রোমন্থনের প্রকৃত প্রশান্তি কেমন করেই বা জানবে
জন্মান্তরের এই সব
ভ্রান্তিরা !
নদী তো নদী না
যদি সে ভাবে
তবেই -----
কলসির ভেতরেই পিপাসারা খুঁজে মরে সামান্য সেই অববাহিকা ------
খেলা যতোই গভীর হোক, আলোরা যতোই পাক এলোমেলো কথাদের, কোথাও নেই তো একটুও অন্যমনষ্কতারা .....!
১৭.
বেলা চড়ে যাচ্ছে
স্থির দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ....
বললাম না, নিয়ে যাবো, এত কি কাজ ?
কথা দিয়েছিলাম তার সাথে যাবো,
আজ সেই কথা রাখতেই এত হাঁকাহাঁকি, উঁকিঝুঁকি ?
বললাম, যাবো, কিন্তু ফিরে আসা চাই ----
সে ফাঁকি দিতে পারে না, কারণ তার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা তো বড়জোর সামনের বাড়ির উঠোন ;
আমাদের কোনো উঠোন নেই --- বাগান ;
যা কিছু লুকিয়ে , লুকিয়েই এই যাওয়া ---নিজেকে রেখে , নিজের মনটাকে দেবে বলেছিলো ;
বলেছিল , ও আমি পারি , তুমি শুধু নিঃশব্দে কাঁধে চড়ে বসো --- তারপর বলো কোথায় কোথায় যাবে ......?
বাতাস ফুড়ে চললো .....আমি শুধু দুদিকে দুটি নাম তাকে
বললাম....;
দু-প্রান্তে দুটি হাত ছড়িয়ে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দি , সেও ছো মেরে ছুঁইয়ে-ই ডুবিয়ে দিলো ! আর খুঁজে পাই না তল ----ডুব দিয়েও দেখতে পাই না মাটি ---- কত জল-শেওলাদের চলাচল ....; কত শামুক গেড়িগুগলিদের সঙ্গে হামাগুড়ি দিতে দিতে ,দুই প্রান্তে দুই প্রকৃতি ছুঁয়েই ---- এই গোপোন অভিসার ..... ;
সে যে কখন কত গভীরতা থেকে ওঠে ভেসে ---- অফুরন্ত ভৎসনায় লাল করে দিলো ! বললো , এই তোমার প্রিয়জন ! এদের নিয়ে এত কান্নাকাটি !
অন্তত এদের থেকে ভালো অনুভব দিয়ে বুকের উপর রাখতে পারতাম তোমায় ,------
তুমি একটি একটি করে পাঁপড়ি মেলিয়ে দেখতে ----দেখতে কত সে সব মুখ,------এমন সুবাস কোথায় তুমি পেতে , এমন সোহাগ ----!
তা না ,এত পথ ভেঙে
নদী নেই , জল ; শুধুই পিপাসা ---- আছে , কেবলই চর্বিত চর্বণ !
পাহাড় কেটে
গাছ ;
ঝরনায় বাঁধ দিয়ে
সে তার সকল খাড়িতে জ্বালিয়ে দিয়েছে আগুন ।
ওদিকে শস্যশেমলা বাঙলায় সকল নীরবতা ভেঙে ছুটে চলেছে ইঞ্জিনের নৌকো ..... কোথায় পঙ্খীরাজ ?
যারা দিয়েছিল কথা ---তারা অনেক গল্পের ঘুম নিয়ে ,ভ্রান্ত বাতাসে ভাসছে....।
তাই এই আকাশ
এই জল
এই নদী
কোথাও কোনো ঠিকানা নেই তোমার ।
বেলা চড়ে যাচ্ছে....
চড়ে বসো ফের
সকল অস্থিরতা ভেঙে
এই নির্ভার কাঁধে ---- হাত ধুয়ে ফিরে চলো ....
যত ক্লেদ মেখেছ শরীরে -----
( ছবি : সুমিত সরকার )

No comments:
Post a Comment