Thursday, June 16, 2022

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে



পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

দীপংকর রায়‌

উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস




১৫.
এসেছি যখন
যেতেই হবে ।
এ কথা বলায় কোনো জড়তা নেই ।

নেই ঠিকই---- তাই বলে কি বেলা এগারোটার ওই স্তব্ধ টগরফুলের উজ্জ্বলতা 
দেখবো না 
এমন বৈশাখের রোদে! 

তা বলে কি 
একটিবারও চেয়ে থেকে মাধবীলতার ডালে 
তার মুখের কথা ভাববো না ?

সময় অসময়ের মৃত্যু- আতঙ্ক থেকে তাকে ঘোরাতে বলবো না 
             ‌ ‌  মুখ -----
তা কী করে হয় !

ভাবতে পারি না 
সত্যিই ভাবতে পারি না ,আজ সে সাল-শেগুনের জঙ্গলে অনেক দিন পরে হাঁটবে.......

নির্মল হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। কারণ তার দুয়োর থেকে সব শেকলের ভার সরে‌ গেছে ------ বাতাসে ভাসাবে সে এবার সমস্ত  জঙ্গলমহলের আকাশ 
কুমারী নদীর কূলে 
দাঁড়াবে দুহাত ছড়িয়ে‌---- ;

এসব ভাবার মধ্যে 
রূপন্তী যদি দীপ্তিকে 
                   পায় ,
সে বা তারা যদি ভোলে
তাদের জন্ম-ফাঁস -----
আমিও তো চাইবো-ই 
এমন অপলক ,
ওই স্তব্ধ জবা গাছটির 
      ‌                 দিকে ,
চাইবো-ই ,  টগর গাছটির দিকে একঝলক !

রূপন্তী বলুক আর না বলুক 
দীপ্তি হাসুক 
তার ঢাল সবুজ পাহাড়ে কিছুক্ষণ -----

এমন হরিণ দৌড় ছেড়ে কেন এখনি ভুলে যাবো জঙ্গলমহলের চাঁদকে দেখেছিলাম যে একদিন দুলতে ;

সকালের রোদ-ছায়াতে মিলে আমিও 
একাকার করে দেবো আজ সমস্ত সীমানার তরঙ্গ .......

পাঠাবো সেই ছবি 
জীবন যেখানে 
জীবনের আনন্দে 
মগ্ন হয়ে দেখতে থাকবে সকল প্রবাহ মোড় 
ঘূর্ণায়মান মৈথুন রূপটি তাঁর ?






১৬.
আর পাঠাবো না ভাবনাদের ,
এবার তারা 
নিজস্ব খেলায় 
কাবার করুক 
একলা দিন ;

খেলা তো কারো সাথে কারো না ,
খেলা তো আপন আনন্দের দিনলিপি....।

কেউ দেখুক আর না দেখুক, তার জন্যে কি রোদেরা নামবে না পথে ; জ্যোস্নারা ঘুরবে না বাগানের ভেতর ?

সে তো দেখে না 
দেখার জন্যে যেসব অন্যমনষ্কতার প্রয়োজন, যেন হিসাব বিহীন খাতা খোলা ,
তা তো অতিমাত্রায় সুখ-ঘুমে সঠিক রাত পায় না ;
দিবাঘুমের অনেক স্বপ্নকথাদের জানি আমি , জানি আহার- বিহারে তাদের 
নিষ্প্রয়োজন বিহ্বলতা -----

তাই ,
তাকে আর পাঠাবো না ---- ভেতরের ভাষ্কর্য ; 
রোমন্থনের প্রকৃত প্রশান্তি কেমন করেই বা জানবে 
জন্মান্তরের এই সব 
               ভ্রান্তিরা !

নদী তো নদী‌ না 
যদি সে ভাবে 
তবেই -----

কলসির ভেতরেই পিপাসারা খুঁজে মরে  ‌সামান্য সেই অববাহিকা ------

খেলা যতোই গভীর হোক, আলোরা যতোই পাক এলোমেলো কথাদের, কোথাও নেই তো একটুও অন্যমনষ্কতারা .....!





১৭.
বেলা চড়ে যাচ্ছে 
স্থির দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে .... 

বললাম না, নিয়ে যাবো, এত কি কাজ ?

কথা দিয়েছিলাম তার সাথে যাবো,
আজ সেই কথা রাখতেই এত হাঁকাহাঁকি, উঁকিঝুঁকি ? 

বললাম, যাবো, কিন্তু ফিরে আসা চাই ----

সে ফাঁকি দিতে পারে না, কারণ তার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা তো বড়জোর সামনের বাড়ির উঠোন ;

আমাদের কোনো উঠোন নেই --- বাগান ;

যা কিছু লুকিয়ে , লুকিয়েই এই যাওয়া ---নিজেকে রেখে , নিজের মনটাকে দেবে বলেছিলো ;
বলেছিল , ও আমি পারি , তুমি শুধু নিঃশব্দে কাঁধে চড়ে বসো --- তারপর বলো কোথায় কোথায় যাবে ......?

বাতাস ফুড়ে চললো .....আমি শুধু দুদিকে দুটি নাম তাকে 
                বললাম....;
দু-প্রান্তে দুটি হাত ছড়িয়ে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দি , সেও ছো মেরে ছুঁইয়ে-ই ডুবিয়ে দিলো ! আর খুঁজে পাই না তল ----ডুব দিয়েও দেখতে পাই না মাটি ---- কত জল-শেওলাদের চলাচল ....; কত শামুক গেড়িগুগলিদের সঙ্গে হামাগুড়ি দিতে দিতে ,দুই প্রান্তে দুই প্রকৃতি ছুঁয়েই ---- এই গোপোন অভিসার ..... ;

সে যে কখন কত গভীরতা থেকে ওঠে ভেসে ---- অফুরন্ত ভৎসনায় লাল করে দিলো ! বললো , এই তোমার প্রিয়জন ! এদের নিয়ে এত কান্নাকাটি !
অন্তত এদের থেকে ভালো অনুভব দিয়ে বুকের উপর রাখতে পারতাম তোমায় ,------
তুমি একটি একটি করে পাঁপড়ি মেলিয়ে দেখতে ----দেখতে কত সে সব মুখ,------এমন সুবাস কোথায় তুমি পেতে , এমন সোহাগ ----! 

তা না ,এত পথ ভেঙে 
নদী নেই , জল ; শুধুই পিপাসা ---- আছে , কেবলই চর্বিত চর্বণ !

পাহাড় কেটে 
গাছ ;
ঝরনায় বাঁধ দিয়ে 
সে তার সকল খাড়িতে জ্বালিয়ে দিয়েছে আগুন ।
ওদিকে শস্যশেমলা বাঙলায় সকল নীরবতা ভেঙে ছুটে চলেছে ইঞ্জিনের নৌকো ..... কোথায় পঙ্খীরাজ ?

যারা দিয়েছিল কথা ---তারা অনেক গল্পের ঘুম নিয়ে ,ভ্রান্ত বাতাসে ভাসছে....।

তাই এই আকাশ 
এই জল
এই নদী 
কোথাও কোনো ঠিকানা নেই তোমার ।

বেলা চড়ে যাচ্ছে....
চড়ে বসো ফের 
সকল অস্থিরতা ভেঙে 
এই নির্ভার কাঁধে ---- হাত ধুয়ে ফিরে চলো ....

যত ক্লেদ মেখেছ শরীরে -----




( ছবি : সুমিত সরকার )





No comments:

Post a Comment

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে

পাথুরে বোধনের কান্না শুনি কাশবনে দীপংকর রায়‌ উৎসর্গ : দীপ্তিশিখা দাস ১৬৩. একটিকেই চিনি, দুদিকে প্রসস্ত সকালের অন্ধকার যার... নৈঃশব্দ সেই ঘু...